গণ অধিকার পরিষদের ‘চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা’ এ হামলা চালিয়েছে: আমির হামজা
কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আমির হামজা দাবি করেছেন, শান্তিপূর্ণ কুষ্টিয়ার পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতেই পরিকল্পিতভাবে তার ওপর হামলা চালানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত গণ অধিকার পরিষদের ‘চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের’ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের জন্য প্রশাসনকে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন তিনি।
আজ রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুরে কুষ্টিয়া শহরের মোল্লাতেঘরিয়া এলাকায় জেলা জামায়াতের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। একই সঙ্গে বিকেলে দলীয় উদ্যোগে কুষ্টিয়া শহরে বিক্ষোভ সমাবেশ করার ঘোষণা দেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে প্রশাসনের কাছে তিনটি দাবি তুলে ধরেন আমির হামজা। এর মধ্যে রয়েছে, হামলায় সরাসরি ও পরোক্ষভাবে জড়িত গণ অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করা, সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যের ভিত্তিতে হামলার মূল পরিকল্পনাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং স্থানীয় প্রশাসনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়ে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আমির হামজা কুষ্টিয়ার প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন, জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসন নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে এবং তাদের কাছ থেকে নিরাপত্তা পাওয়ার বিষয়ে তিনি আশাবাদী নন।
এদিকে আমির হামজার গাড়িতে হামলার ঘটনায় কুষ্টিয়া মডেল থানায় একটি এজাহার জমা দেওয়া হয়েছে। রোববার বেলা সোয়া ১১টার দিকে তার ব্যক্তিগত সহকারী মোমিন বিশ্বাস বাদী হয়ে থানার ওসি কবির হোসেন মাতুব্বরের কাছে এজাহার দেন। এতে গণ অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের আসামি করা হয়েছে। ২৩ জনের নাম উল্লেখের পাশাপাশি আরও ৪০ থেকে ৫০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এজাহার পাওয়া গেছে এবং মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে।
হামলার সময় তার গাড়ি থেকে লাঠি বের করার বিষয়ে জানতে চাইলে আমির হামজা জানান, নিরাপত্তার প্রয়োজনে তার গাড়িতে সবসময় দুটি লাঠি রাখা থাকে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এখনো সরকারি অস্ত্রের লাইসেন্স পাননি এবং কোনো সরকারি বডিগার্ডও তাকে দেওয়া হয়নি বা তিনি নেননি।
তিনি আরও জানান, হামলার সময় তার চালক লাঠি হাতে গাড়ি থেকে বের হয়ে যান। পরে পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে তিনি নিজেই গাড়ি চালিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।