কুড়িগ্রামে সোয়া লাখ মানুষের জন্য একজন চিকিৎসক, ১৭৭ টি পদের বিপরীতে ১৯ জন চিকিৎসক

কুড়িগ্রামে সোয়া লাখ মানুষের জন্য একজন চিকিৎসক, ১৭৭ টি পদের বিপরীতে ১৯ জন চিকিৎসক

কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি: প্রায় ২৫ লাখ মানুষের স্বাস্থ্য সেবায় কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালটি ২০১৭ সালে ১শ’ শয্যা থেকে ২৫০ শয্যায় উন্নিত করা হয়। চিকিৎসক সংকটে এখানে প্রায় সোয়া লাখ মানুষের সেবা দিচ্ছেন একজন চিকিৎসক। পাশাপাশি সকল রোগের চিকিৎসা দেন উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (সেকমো)। ফলে আধুনিক হাসপাতালে চলছে চিকিৎসক, জনবলসহ ওষুধ সংকট।

জানা যায়, জেলার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ১৭৭ টি চিকিৎসক পদের বিপরীতে আছে মাত্র ১৯ জন। এছাড়াও বিভিন্ন ৩৮৮টি পদের মধ্যে ২৩১টি পদই শূন্য। ফলে প্রায় সোয়া লাখ মানুষের জন্য একজন করে চিকিৎসক রয়েছে এই হাসপাতালে। ২০২০-২১ অর্থবছরে প্রায় ২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয় ৮ তলা বিশিষ্ট এই হাসপাতাল।

তবে নির্মাণের পর থেকে শুধুমাত্র রোগী ভর্তি ছাড়া আর কোন কার্যক্রম নেই নতুন ভবনে। নকশাকৃত ত্রুটির জন্য নেই জরুরি রোগী বহনের র‌্যাম সিড়ি ও আলাদা লিফট।

হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. নুর নেওয়াজ আহমেদ বলেন, চিকিৎসক যোগদান করলেও উচ্চতর ডিগ্রির জন্য লবিং করে চলে যাচ্ছেন। এতে করে চিকিৎসক সংকট দূর হচ্ছে না। ফলে সেকমো দিয়ে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। সেবার মান উন্নয়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে এবং কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া নতুন ভবনেও নকশাগত ত্রুটি রয়েছে।

দেখা যায়, হাসপাতালে চিকিৎসক সংকটের কারণে জরুরি বিভাগ এবং বহির্বিভাগে উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (সেকমো) এখন ভরসা। সেবা গ্রহিতাদের অভিযোগ, চিকিৎসক না থাকায় সর্বরোগের চিকিৎসা দিচ্ছেন সেকমো। প্রয়োজনের তুলনায় চিকিৎসক না থাকা এবং বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের অভাবে সাধারণ মানুষ সঠিক চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এদিকে, ধারণ ক্ষমতার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি রোগী আসায় বারান্দা ও মেঝেতে গাদাগাদি করে থাকতে দেখা গেছে তাদের।

হাসপাতালের এ্যাম্বুলেন্স চালক এরশাদুল হক বলেন, জরুরি ভিত্তিতে নতুন এ্যাম্বুলেন্স দরকার। অনেক পুরনো ২টি এ্যাম্বুলেন্স দিয়ে চলছে রোগী বহন। প্রায় মাঝপথে বিকল হওয়ায় রোগী নিয়ে পড়তে হয় বিড়াম্বনায়।

রোগী মজিবর রহমান ও জুলেখা বেগম বলেন, এই হাসপাতালে কয়েকটি বারান্দায় রেলিং নেই, বাথরুমের দরজা ভাঙা, টাইলস খসে পড়ে এবং ঝড় ও বজ্রপাতের জানালার গ্লাস ভেঙে পড়ে। এছাড়াও লিফট দুটো প্রায় সময় নষ্ট থাকে। এছাড়াও ওষুধ নেই, যে কোন পরীক্ষা-নিরিক্ষা বাইরে থেকে করতে হয়। আর ২৪ ঘন্টায় একবার ডাক্তার আসে রাউন্ড দিতে। ছুটির দিনে ডাক্তার আসে না।

বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা মোসলেম উদ্দিন ও মৌসুমি আক্তার বলেন, ইমার্জেন্সি হোক আর বহির্বিভাগে হোক এ হাসপাতালে সেকমো ডাক্তারই ভরসা। সেকমো দিয়ে রোগীর ভুল চিকিৎসার অভিযোগও রয়েছে।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/180087