জয়পুরহাটে মিটার রিডারকে মারধর, উপকেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা চেয়ে প্রশাসনের কাছে চিঠি
জয়পুরহাট প্রতিনিধি: জয়পুরহাটে বিদ্যুতের তীব্র লোডশেডিংয়ে ভেঙে পড়েছে জনজীবন। দিনে ও রাতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ১০ থেকে ১১ ঘণ্টাই বিদ্যুৎ থাকছে না। প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের মধ্যে চরম এই বিদ্যুৎ সংকট সাধারণ গ্রাহকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ সংকটকে কেন্দ্র করে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে পাঁচবিবি উপজেলায়।
জানা গেছে, লোডশেডিং নিয়ে গ্রাহক অসন্তোষের জেরে উপজেলার শ্রীমন্তপুরে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এক মিটার রিডার মারধরের শিকার হয়েছেন। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা হিসেবে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে জয়পুরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি।
এদিকে লোডশেডিং কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে এবং পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সাব-স্টেশনগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপারকে (এসপি) চিঠি দিয়েছেন জয়পুরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক (জিএম) আবু উমাম মো. মাহবুবুল হক। চিঠিতে জেলার ৫টি উপজেলার ১০টি উপকেন্দ্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার জোর অনুরোধ জানানো হয়।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় দৈনিক বিদ্যুতের মোট চাহিদা প্রায় ৭২ মেগাওয়াট। তবে চাহিদার বিপরীতে জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ মিলছে মাত্র ২৬ থেকে ২৮ মেগাওয়াট, যা মোট চাহিদার অর্ধেকেরও কম। বিশাল এই ঘাটতির কারণেই বাধ্য হয়ে দীর্ঘ সময় পর্যায়ক্রমে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে বলে জানায় কর্তৃপক্ষ। তীব্র লোডশেডিংয়ের পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিল বেশি আসার অভিযোগও তুলেছেন ভুক্তভোগী গ্রাহকরা।
শহরের গ্রাহক মাহমুদা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এমনিতেই বিদ্যুৎ থাকে না, তার ওপর বিল আসছে দ্বিগুণ। আগে ১৮০ টাকা বিল এলেও এখন সাড়ে তিন শ টাকা আসছে। বাড়িতে টিভি বা ফ্রিজ নেই, শুধু একটি বাল্ব আর দুটো ফ্যান চলে।
আমরা গরিব মানুষ, এত টাকা বিল কীভাবে দেব? আরেক গ্রাহক আবদুস সামাদ বলেন, দিন-রাত মিলিয়ে অর্ধেকের বেশি সময় বিদ্যুৎ থাকে না। বিশেষ করে রাতে ঘুমাতে গেলেই বিদ্যুৎ চলে যায়, গরমে ঘুমোনো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। অথচ বিদ্যুৎ বিল কমছে না।
সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়ে জয়পুরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক আবু উমাম মাহবুবুল হক বলেন, মাঠপর্যায়ে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুতের জাতীয় সরবরাহ বৃদ্ধি না পেলে এই সংকট থেকে দ্রুত মুক্তি পাওয়া কঠিন।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/180080