বগুড়ার সোনাতলায় ৩শ’ একর জমিতে জলাবদ্ধতা : মিলছে না ফসল, হতাশায় শত শত কৃষক

বগুড়ার সোনাতলায় ৩শ’ একর জমিতে জলাবদ্ধতা : মিলছে না ফসল, হতাশায় শত শত কৃষক

সোনাতলা (বগুড়া) প্রতিনিধি : বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার বিভিন্ন নিচু অঞ্চলে সৃষ্টি হওয়া দীর্ঘমেয়াদি জলাবদ্ধতার কারণে প্রায় ৩শ’ একর কৃষি জমি বছরের পর বছর অনাবাদি হয়ে পড়ে রয়েছে। সঠিক নিষ্কাশন ব্যবস্থার অভাব এবং খালের পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার কারণে শত শত কৃষক সময়মতো ফসল ফলাতে পারছেন না।

ফলে স্থানীয় কৃষিজীবী পরিবারগুলোতে বিরাজ করছে চরম অর্থনৈতিক সংকট ও হতাশা। স্থানীয় কৃষকদের সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মহিষাবাড়ি, বালুয়াহাট, হাড়িয়াকান্দি, নিমেরপাড়া, ঠাকুরপাড়া, শিচারপাড়া, মহিচরণ, লোহাগাড়া, পাঠানপাড়া, বারঘরিয়া, সুজাইতপুর, রশিদপুর, পাতিলাকুড়া, ধর্মকূল, উত্তর চরপাড়া, সোনাকানিয়া, জোড়গাছা এলাকায় পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় দীর্ঘমেয়াদী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। একসময় এসব জমিতে আমন, বোরো ধানসহ রকমারি রবিশস্য ও সবজির বাম্পার ফলন হতো। কিন্তু ইদানীং সামান্য বৃষ্টিতেই এলাকা প্লাবিত হয় এবং পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় তা মাসের পর মাস জমে থাকে।

স্থানীয়রা আরও বলেন, অপরিকল্পিত বাড়ি-ঘর ও কালভার্ট নির্মাণ এবং পলি জমে খাল-নালা ভরাট হয়ে যাওয়ায় এই দীর্ঘমেয়াদী জলাবদ্ধতার প্রধান কারণ। উপজেলার সোনাকানিয়া গ্রামের আলহাজ হাফিজার রহমান, ঠাকুরপাড়া গ্রামের আলহাজ তোজাম্মেল হক, চরপাড়া গ্রামের তাহা ফকির বলেন, জমিতে চারা রোপণ তো দূরের কথা, পানির কারণে জমি প্রস্তুতই করা যাচ্ছে না।

প্রতি বছর এসময় আমন ধান রোপণের কাজ শেষ হলেও এখনও অনেক জমিতে কচুরিপানা ও পানিতে থৈ থৈ অবস্থা। বছরের পর বছর আবাদি জমিগুলো এভাবে পড়ে থাকলে একসময় ওই উপজেলায় খাদ্য ঘাটতি দেখা দিতে পারে।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সোহরাব হোসেন বলেন, অনতিবিলম্বে সরকারি উদ্যোগে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং ভরাট হয়ে যাওয়া খালগুলো পুনঃখনন করা হলে পানির নিষ্কাশন স্বাভাবিক হবে। এতে করে ৩শ’ একর জমিতে পুনরায় সোনালী ফসল ফলানো সম্ভব হবে, যা এলাকার সার্বিক খাদ্য নিরাপত্তায় বড় ভূমিকা রাখবে।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/180062