ব্যাটারি চালিত অটোরিকশাতে বগুড়ায় বিদ্যুৎ বিপর্যয়

ব্যাটারি চালিত অটোরিকশাতে বগুড়ায় বিদ্যুৎ বিপর্যয়

স্টাফ রিপোর্টার : বগুড়া শহর ও এর আশপাশের জনপদে এখন অন্যতম বড় উদ্বেগের নাম ‘বিদ্যুৎ সংকট ও লোডশেডিং’। শিল্পকারখানা ও ঘরবাড়ির চাহিদা ছাপিয়ে বর্তমানে বিদ্যুতের ওপর সবচেয়ে বড় চাপ সৃষ্টি করেছে লক্ষাধিক অবৈধ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ইজিবাইক। এই যানবাহনগুলোর অনিয়ন্ত্রিত চার্জিং ব্যবস্থা বগুড়ার বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনাকে ঠেলে দিচ্ছে এক চরম বিপর্যয় ও অর্থনৈতিক ক্ষতির দিকে।

বগুড়া ট্রাফিক বিভাগের তথ্য বলছে, এ মহানগরের তিন ধরনের বৈদ্যুতিক যানবাহন চলাচল করে-ইজিবাইক, অটোরিকশা এবং চার্জার রিকশা ও ভ্যান, যার সংখ্যা লক্ষাধিক। ইজিবাইকে ছয় থেকে সাতজন, অটোরিকশায় তিনজন এবং চার্জার রিকশায় দুই থেকে তিনজন পর্যন্ত যাত্রী বহন এবং ভ্যানে পণ্য পরিবহন করা হয়। নগরজুড়ে চলাচলকারী এসব কোন বাহনেরই কোন লাইসেন্স নেই।

শোরুম থেকে কেনার পর যে যার ইচ্ছেমত সড়কে নামিয়ে দিচ্ছে এসব বাহন। প্রতিদিন সড়কে যোগ হচ্ছে নতুন নতুন সব নানা ধরনের বৈদ্যুতিক এসব বাহন। এছাড়াও জেলার সব উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে এ মহানগরে যুক্ত হয় নানা ধরনের চার্জার গাড়ি। এসব চার্জার গাড়ির জন্য, বন্দর, হাট-বাজারসহ গ্রাম-গঞ্জেও গড়ে উঠেছে বৈধ-অবৈধ গ্যারেজ। এমনকি অনেক চার্জার গাড়ির চালক তার নিজ বাড়িতেই রাতভর করে নিচ্ছেন তার ব্যাটারি চার্জ।

বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য বলছে, মহানগরজুড়ে ছয় শতাধিক গ্যারেজ রয়েছে। তবে অনুসন্ধান বলছে, এর সংখ্যা সহস্রাধিক। অভিযোগ রয়েছে, অনুমোদিত গ্যারেজগুলোতে বৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ থাকলেও গভীর রাতে তা অবৈধ হয়ে যায়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রত্যন্ত গ্রামসহ বন্দরগুলোতে যেসব গ্যারেজ অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে তার বেশিরভাগই আবার চলে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগে।

ইজিবাইক, অটোরিকশা, চার্জার রিকশা-ভ্যানের চালক, গ্যারেজ মালিকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ইজিবাইকে ১২ ভোল্টের ৫টি ব্যাটারি থাকে, ব্যাটারিগুলো প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ১২ ঘন্টায় বিদ্যুৎ চার্জ নেয় ৮ থেকে ১০ ইউনিট (৮ থেকে ১০ কিলোওয়াট), অটোরিকশা ও চার্জার রিকশা-ভ্যানে ৪টি ব্যাটারি ৪৮ ভোল্টের একই সময়ে চার্জ নেয় ৬ থেকে ৮ ইউনিট।

বগুড়া মহানগরে চলাচল করা ১ লাখ এসব বাহনে গড়ে ৬ ওয়াট করে  বিদ্যুৎ ব্যবহারের হিসাব ধরলেও মোট বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ দাঁড়ায় ৬ লাখ ওয়াট । অথচ বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য বলছে, জেলায় প্রতিদিন বিদ্যুতের চাহিদা ২৫০ থেকে ৩শ’ মেগাওয়াট। এর মধ্যে নেসকোর চাহিদা ১১০ থেকে ১১৫ মেগা ওয়ার্ট।

অবৈধ চার্জিং প্রক্রিয়ার ফলে সরকার ও বিদ্যুৎ বিভাগ শুধু রাজস্বই হারাচ্ছে না, বরং লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ও ক্ষুদ্র শিল্পগুলো চরম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। গভীর রাতে অতিরিক্ত লোড শেয়ারিংয়ের কারণে সাধারণ মানুষ তীব্র গরমে অতিষ্ঠ হয়ে উঠছে। এমনকি রাতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না থাকায় পড়ালেখা ও জরুরি পরিষেবা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার এক অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদবিষয়ক মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানান, অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ইবাইক চার্জ দেওয়ায় রাতে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ছে।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে বিদ্যুৎ ব্যবহারের ধরন পরিবর্তিত হয়েছে। রাত ১২টার পরও প্রায় ১৮ হাজার মেগাওয়াটের বিপুল চাহিদা দেখা যাচ্ছে। এর অন্যতম কারণ হলো, অগণিত ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক, যেগুলো রাতে চার্জ দেওয়া হয়।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/179953