পেপ গার্দিওলাকে ছাড়াই ম্যানচেস্টার সিটি নতুন শুরু

পেপ গার্দিওলাকে ছাড়াই ম্যানচেস্টার সিটি নতুন শুরু

স্পোর্টস ডেস্ক :  এই প্রথম গত এক দশকের মধ্যে পেপ গার্দিওলাকে ছাড়াই নতুন মৌসুম শুরু করতে যাচ্ছে ম্যানচেস্টার সিটি। এই স্প্যানিশ কোচের বিদায়ের মধ্য দিয়ে ক্লাবের ইতিহাসের সবচেয়ে সফল অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। তার অধীনে ক্লাবটি ছয়টি প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা ও একটি চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের পাশাপাশি ইংলিশ ফুটবলের এক অপ্রতিরোধ্য শক্তিতে পরিণত হয়েছিল।

গার্দিওলার উত্তরসূরি এনজো মারেস্কা এমন একটি দলের দায়িত্ব নিচ্ছেন যার নেতৃত্বে রয়েছেন নরওয়ের স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড। তবে তার সামনে রয়েছে এক কঠিন চ্যালেঞ্জ। এমন একজন ম্যানেজারের স্থলাভিষিক্ত হওয়া যিনি ইতিহাদে সাফল্যের নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছিলেন।

৪৬ বছর বয়সী মারেস্কা ‘সিটি’র কাছে অপরিচিত কোনো মুখ নন। ক্লাবের ‘ট্রেবল’ জয়ের মৌসুমে গার্দিওলার কোচিং স্টাফের সদস্য হিসেবে কাজ করার পর, পরবর্তীতে স্বতন্ত্র ম্যানেজার হিসেবেও তিনি নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছেন।লেস্টার সিটিকে প্রিমিয়ার লিগে ফিরিয়ে আনা এবং চেলসিতে শিরোপা জয়ের সাফল্য এই অর্জনগুলোই 'সিটি' কর্তৃপক্ষকে নিশ্চিত করেছিল, দলের এই রূপান্তরের প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তিনিই উপযুক্ত ব্যক্তি।

মারেস্কার প্রতি আগ্রহের মূল কারণ হলো ধারাবাহিকতা বজায় রাখা। সিটি কর্তৃপক্ষ গার্দিওলার ফুটবল দর্শনের আমূল কোনো পরিবর্তন চায়নি। এর পরিবর্তে তারা এমন একজন কোচকে নিয়োগ দিয়েছে যিনি ‘পজিশনাল প্লে’ (মাঠে নির্দিষ্ট অবস্থান বজায় রেখে খেলা) বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা এবং কৌশলগত নমনীয়তার মতো বিষয়গুলোতে অত্যন্ত পারদর্শীর বিষয়গুলোই গত এক দশকে তাদের সাফল্যের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে।

বল দখলে রাখার ক্ষেত্রে ‘সিটি’কে হয়তো আগের মতোই পরিচিত ধাঁচের মনে হবে, তবে মারেসকাকে দ্রুতই নিজের স্বতন্ত্র কৌশল বা পরিচয় গড়ে তুলতে হবে। তিনি যে দলটির দায়িত্ব নিচ্ছেন, তা ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী একটি দল। গত চার মৌসুমের মধ্যে তিনটিতেই লিগে সর্বোচ্চ গোলদাতার খেতাব জেতা হালান্ড দলের জন্য গোল পাওয়ার এক নিশ্চিত উৎস।

মিডফিল্ডের প্রাণকেন্দ্র

বার্সেলোনা তাকে দলে ভেড়াতে আগ্রহী হওয়া সত্ত্বেও, নিখুঁত পাসিং, সঠিক পজিশনিং এবং রক্ষণাত্মক বুদ্ধিমত্তার সুবাদে রদ্রি এখনো দলের মিডফিল্ডের প্রাণকেন্দ্র হয়ে আছেন। রদ্রির নৈপুণ্যেই স্পেন এ বছর বিশ্বকাপ শিরোপা জিতেছিল এবং তিনি টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে ‘গোল্ডেন বল’ জিতেছিলেন।

নটিংহ্যাম ফরেস্ট থেকে ইংল্যান্ডের মিডফিল্ডার এলিয়ট অ্যান্ডারসনকে প্রায় ১১৬ মিলিয়ন পাউন্ড (১৫৩ মিলিয়ন ডলার) মূল্যে দলে ভিড়িয়ে ‘সিটি’ নিজেদের শক্তি আরও বাড়িয়েছে। এর ফলে মাঝমাঠে গতি, বল কেড়ে নেওয়ার সক্ষমতা ও দলের গভীরতা সবই বৃদ্ধি পেয়েছে।

তাদের দলে রায়ান চেরকি এবং নিকো ও'রাইলির মতো উদীয়মান প্রতিভাও রয়েছে, যারা নতুন উদ্দীপনা ও প্রাণশক্তি নিয়ে এসেছে। তবে দীর্ঘদিনের খেলোয়াড় বার্নার্ডো সিলভা ও জন স্টোনসের বিদায়ের ফলে দলে বড় ধরনের রদবদল ঘটেছে, যার ফলে ড্রেসিংরুমে অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বের ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

গত মৌসুমে ঘরোয়া ফুটবলে দুটি কাপ জয়ের সাফল্য অধিকাংশ ক্লাবেই বড় করে উদযাপন করা হতো; কিন্তু প্রিমিয়ার লিগে আর্সেনালের পেছনে থেকে রানার্স-আপ হওয়াটা গুয়ার্দিওলার নিজের গড়া উচ্চমানের মানদণ্ড বিবেচনায় এক ধরণের হতাশাজনক বিদায় হিসেবেই মনে হয়েছে।

এই বাস্তবতাটিই মারেস্কার জন্য নির্ধারিত কাজের বিশালতা ও চ্যালেঞ্জকে স্পষ্ট করে তোলে। কেবল খেলার শৈলী বা কৌশলের ওপর ভিত্তি করেই তার বিচার করা হবে না; বরং ক্লাবের নীতিনির্ধারক ও সমর্থকরা তার কাছে শুরু থেকেই শিরোপার লড়াইয়ে টিকে থাকার মতো পারফরম্যান্স প্রত্যাশা করছেন।

ম্যানচেস্টার সিটিকে ঘিরে সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি হলো, গুয়ার্দিওলা-পরবর্তী পরিস্থিতির সঙ্গে খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফরা কত দ্রুত মানিয়ে নিতে পারবেন। কারণ কেবল কৌশলগত দিক নয়, বরং ক্লাবের সামগ্রিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও তার প্রভাব ছিল সুদূরপ্রসারী।

পরিবেশের সঙ্গে পরিচিতি মারেসকার জন্য দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার প্রক্রিয়াটি সহজ করতে সাহায্য করবে ঠিকই, তবে গার্দিওলার বিশ্বস্ত সহকারী হিসেবে কাজ করা আর নিজে কোনো প্রকল্পের নেতৃত্ব দেওয়ার মধ্যে কিন্তু বিস্তর ফারাক রয়েছে।

মানিয়ে নেওয়ার জন্য হয়তো কিছুটা সময় লাগতে পারে, বিশেষ করে বিশ্বকাপের ব্যস্ততা শেষে অনেক খেলোয়াড় দেরিতে দলে ফেরায় তা সত্ত্বেও, যেসব প্রতিযোগিতায় সিটি অংশ নেবে, সেগুলোর সবকটিতেই তারা শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবেই মাঠে নামবে। দীর্ঘদিন ধরে একজন নির্দিষ্ট কোচের অধীনে থাকা দলটিতে যদি মারেসকা পুরোনো ধারার সঙ্গে নতুনত্বের যথাযথ সমন্বয় ঘটিয়ে সতেজতা ফিরিয়ে আনতে পারেন, তবে ক্লাবটি দ্রুতই ইংলিশ ফুটবলের শীর্ষস্থানে ফিরে আসতে পারবে। আগামী ২৩ আগস্ট মৌসুমের উদ্বোধনী ম্যাচে সিটি নিজেদের মাঠে বোর্নমাউথের মুখোমুখি হবে।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/179906