তদবির করে ভালো পোস্টিং পাওয়া যায় না, কর্মকর্তাদের উদ্দেশে আইজিপি

তদবির করে ভালো পোস্টিং পাওয়া যায় না, কর্মকর্তাদের উদ্দেশে আইজিপি

তদবির করে ভালো পোস্টিং নয়, মেধা, যোগ্যতা ও কর্মদক্ষতার ভিত্তিতেই পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। ১৭ বছর ধরে বঞ্চিত থাকার দাবি করে বিভিন্ন জায়গায় দৌড়াদৌড়ি ও তদবির করায় পুলিশ সদস্যদের একাংশের প্রতি বিরক্তিও প্রকাশ করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাজধানীর রাজারবাগে বাংলাদেশ পুলিশ লাইনস মিলনায়তনে আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত বিশেষ মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদসহ একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বক্তব্য দেন।

আইজিপি বলেন, তদবির করে ভালো কোনো জায়গায় পোস্টিং পাওয়া যায় না। নিজেদের মেধা, যোগ্যতা ও কর্মদক্ষতার মাধ্যমে প্রমাণ করতে হবে। একই সঙ্গে অনৈতিক লেনদেন থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করে দেশের স্বার্থে ও জনগণের শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করতে হবে। ইচ্ছাকৃত ভুল বা ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করলে তার দায় পুলিশ বাহিনী নেবে না; এ ধরনের ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সভায় এক কর্মকর্তা বলেন, তদবির করে কোনো পদ বা দায়িত্ব পেলেও সেখানে সক্ষমতা প্রমাণ করতে না পারলে শেষ পর্যন্ত তদবিরকারীরাই বিব্রত হন। তাই তদবিরের পরিবর্তে যোগ্যতা ও দক্ষতার ভিত্তিতে উপযুক্ত দায়িত্ব পাওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুলিশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও ভুল তথ্য ছড়ানোর বিষয়টিও সভায় উঠে আসে। আইজিপি বলেন, পুলিশের ঘুরে দাঁড়ানোর প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে একটি বিশেষ শ্রেণি অপপ্রচার চালাচ্ছে। এতে বিভ্রান্ত না হয়ে পুলিশ সদস্যদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। ৫ আগস্টের পর জনগণের প্রত্যাশা বেড়েছে। তারা জনবান্ধব ও শক্তিশালী পুলিশ চায়, তবে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত পুলিশ চায় না। তাই পুলিশকে নিরপেক্ষ থাকতে হবে।

রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখাকে দেশের স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য উল্লেখ করে আইজিপি মাঠপর্যায়ে সিনিয়র কর্মকর্তাদের সরাসরি মনিটরিং ও তদারকি বাড়ানোর নির্দেশ দেন। এতে নিচের স্তরের পুলিশ সদস্যরা আরও উৎসাহ নিয়ে কাজ করবেন বলেও তিনি জানান।

হোটেল ও স্পা সেন্টারে অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধে নিয়মিত নজরদারি ও তাৎক্ষণিক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ।

লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ নজর

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বিভিন্ন থানা থেকে লুট হওয়া বিপুল অস্ত্র ও গোলাবারুদের একটি অংশ এখনো উদ্ধার হয়নি। এসব অস্ত্র উদ্ধারে নিয়মিত অভিযানের পাশাপাশি থানার আশপাশের ঝোপঝাড়, পুকুরসহ সম্ভাব্য স্থানগুলোতে বিশেষভাবে তল্লাশি চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার।

কিশোর গ্যাং ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

ঢাকায় কিশোর গ্যাংয়ের কর্মকাণ্ড বেড়ে যাওয়ায় এসব গ্রুপের সদস্যদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ছিনতাই, চাঁদাবাজি, চুরি, ডাকাতি ও হত্যাসহ অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি মাদকের বিরুদ্ধেও অভিযান জোরদার করতে বলা হয়েছে। থানা ও গোয়েন্দা ইউনিটগুলোকে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের তথ্য সংগ্রহ, চলাফেরা ও অপরাধের ধরন পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিদেশিদের নিরাপত্তায় গুরুত্ব

রাজধানীতে দেশি-বিদেশি কূটনীতিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের বসবাসের কথা উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখা দেশের স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্ব বজায় রেখে দল-মত নির্বিশেষে আইন ও জনগণের সেবক হিসেবে পুলিশকে কাজ করতে হবে।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/179855