কুমিল্লার লাকসামে মাইকিং করে ৪ পরিবারকে সমাজচ্যুত করার অভিযোগ

কুমিল্লার লাকসামে মাইকিং করে ৪ পরিবারকে সমাজচ্যুত করার অভিযোগ

কুমিল্লার লাকসামে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে গ্রাম্য সালিশের সিদ্ধান্তে মাইকিং করে চার পরিবারকে সমাজচ্যুত করার অভিযোগ উঠেছে।

গত সোমবার (১০ আগস্ট) রাতে উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের ইছাপুরা পশ্চিম পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, মাইকিংয়ের পর সমাজের লোকজন তাদের সঙ্গে কথা বলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও লেনদেন বন্ধ করে দিয়েছেন। এমনকি পরিবারের শিশু-কিশোরদের দোকান থেকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতেও বাধা দেওয়া হচ্ছে। এতে চার পরিবারের নারী, পুরুষ ও শিশুরা অনেকটা গৃহবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইছাপুরা গ্রামের মৃত আবদুর রহমানের ছেলে মমিন আলী ও মৃত আবদুর রশিদের ছেলে আলমগীর হোসেনের মধ্যে সাড়ে ৭ শতাংশ জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার গ্রাম্য সালিশ হয়েছে। সর্বশেষ আগামী ২০ আগস্ট পুনরায় সালিশ বসার সিদ্ধান্ত হয়।

এর আগে মমিন আলী বাদী হয়ে গত ২ জুলাই আলমগীর হোসেন, অহিদুর রহমান ও নেছার আহমেদ টুটুলের বিরুদ্ধে কুমিল্লার আদালতে মামলা করেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ১০ আগস্ট রাতে ইছাপুরা পূর্ব ও পশ্চিম পাড়ার সমাজ কমিটির পক্ষ থেকে মাইকিং করে চার পরিবারের সদস্যদের সমাজের বিভিন্ন কার্যক্রম থেকে বিচ্ছিন্ন করার ঘোষণা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। মাইকিংয়ের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় আলোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

ভুক্তভোগী মমিন আলী অভিযোগ করে বলেন, ‘আলমগীর হোসেনের নির্দেশে মাইকিং করে আমাদের চার পরিবারকে সমাজচ্যুত করা হয়েছে। সমাজের লোকজনের সঙ্গে কথা বলতে পারছি না। শিশুদেরও দোকান থেকে খাবার কিনতে দেওয়া হচ্ছে না। বিষয়টি থানায় জানিয়েছি।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে গোবিন্দপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন বলেন, ‘মমিন আলীর সঙ্গে আমার জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। তবে চার পরিবারকে সমাজচ্যুত করার জন্য আমি কোনো মাইকিং করিনি। এ ঘোষণা সমাজ কমিটির লোকজন দিয়েছে।’

সমাজের মাতব্বর মনির হোসেন বলেন, ‘মমিন আলী ও আলমগীর হোসেনের জমি নিয়ে বিরোধ সমাধানে আগামী ২০ আগস্ট সালিশ বসার কথা ছিল। আদালতে মামলা করার কারণে বিষয়টি জটিল হয়েছে। তবে চার পরিবারকে সমাজচ্যুত করার জন্য মাইকিং করা দুঃখজনক।

ইছাপুরা ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি রফিক সর্দার বলেন, ‘২০ আগস্ট সালিশে উভয় পক্ষের পছন্দের দুজন করে প্রতিনিধি রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। তবে সমাজচ্যুত করার মাইকিংয়ের বিষয়টি আমার জানা নেই।

লাকসাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী কামরুন নাহার লাইলী বলেন, ‘জায়গা-জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে একাধিক সালিশ হয়েছে। সোমবার মাইকিং করে সমাজচ্যুত করার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার বিষয়ে উভয়পক্ষকে বুধবার থানায় আসতে বলা হয়েছে।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/179742