দেশজুড়ে দ্যুতি ছড়ানো ‘দৈনিক করতোয়া’

দেশজুড়ে দ্যুতি ছড়ানো ‘দৈনিক করতোয়া’

সুরাইয়া বিনতে হাসান : ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যবাহী জনপদ উত্তরবঙ্গ থেকে প্রকাশিত হয়ে বাংলাদেশের গণমাধ্যম জগতে এক অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করেছে ‘দৈনিক করতোয়া’। দীর্ঘ সংগ্রামের পথ পেরিয়ে মর্যাদাপূর্ণ ৫১ বছর পূর্ণ করে পত্রিকাটি এখন ৫২ বছরে পদার্পণ করেছে। আঞ্চলিক সীমানা পেরিয়ে আজ এটি দেশব্যাপী অগণিত পাঠকের মনে গভীর আসন করে নিয়েছে। উত্তরবঙ্গের মুখপত্র থেকে জাতীয় অঙ্গনে উত্তরণ ঘটেছে ।

১৯৭৬ সাল থেকে শুরু হওয়া এই পথচলাটি সহজ ছিল না। রাজধানী কেন্দ্রিক সংবাদমাধ্যমের ভিড়ে মফস্বল বা আঞ্চলিক পর্যায় থেকে একটি দৈনিক পত্রিকাকে টিকিয়ে রাখা এবং তাকে জাতীয় মানে উন্নীত করা এক অসম্ভব চ্যালেঞ্জ ছিল। কিন্তু ‘দৈনিক করতোয়া’ সেই অসাধ্য সাধন করেছে। করতোয়ার তীরের এই জনপদ থেকে সংবাদ পরিবেশন শুরু করলেও এর দৃষ্টি সবসময় ছিল দেশ ও দশের কল্যাণে। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন, সাহসী ভূমিকা এবং স্থানীয় মানুষের না বলা কথাগুলো জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরার মাধ্যমে পত্রিকাটি খুব দ্রুতই উত্তরবঙ্গের মানুষের আস্থার প্রতীক হয়ে ওঠে।

দেশব্যাপী পাঠকপ্রিয়তা অর্জনের নেপথ্য কারণ : মফস্বল থেকে প্রকাশিত হলেও গুণগত মান, সংবাদ পরিবেশনে নিরপেক্ষতা এবং পেশাদারিত্বের কারণে ‘দৈনিক করতোয়া’ আজ কেবল উত্তরবঙ্গেই নয়, বরং সারা দেশের সচেতন পাঠকের পড়ার টেবিলে সমাদৃত। এর পেছনের মূল শক্তিগুলো হলো- যেকোনো সংকটে সত্য প্রকাশে কখনো আপস করেনি পত্রিকাটি। সমাজের অনিয়ম, দুর্নীতি ও জনদুর্ভোগের চিত্র সাহসিকতার সাথে তুলে ধরে এটি প্রশাসন ও নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

শুধু রাজনৈতিক খবর বা বড় বড় শহরের খবরাখবর নয়, তৃণমূল মানুষের সুখ-দুঃখ, কৃষি, অর্থনীতি, সংস্কৃতি এবং জীবনযাত্রার চিত্র করতোয়ার পাতায় নিয়মিত জায়গা পেয়েছে।জাতীয় ও আন্তর্জাতিক খবরের পাশাপাশি আঞ্চলিক সংবাদের এক চমৎকার ভারসাম্য বজায় রেখেছে পত্রিকাটি, যা শহুরে পাঠকদেরও মফস্বলের বাস্তবতার সাথে যুক্ত করে।যুগের সাথে তাল মিলিয়ে প্রিন্ট সংস্করণের পাশাপাশি ডিজিটাল ও অনলাইন মাধ্যমেও নিজেদের অবস্থান শক্ত করে আজ বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছে গেছে করতোয়া।অর্ধশত বছরের অভিজ্ঞতা ও আগামী দিনের প্রত্যয়,পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে ‘দৈনিক করতোয়া’ কেবল একটি সংবাদমাধ্যম হিসেবে কাজ করেনি, বরং এটি উত্তরবঙ্গের সাংবাদিকতা জগতের একটি অন্যতম সেরা আঁতুড়ঘর হিসেবে কাজ করেছে। এ পত্রিকার হাত ধরে অনেক প্রতিভাবান সাংবাদিক ও সাহিত্যিক তৈরি হয়েছেন, যারা দেশের মূলধারার গণমাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। ৫১ বছরের এই গৌরবোজ্জ্বল পথচলায় দৈনিক করতোয়া প্রমাণ করেছে যে, সততা, নিষ্ঠা এবং সাধারণ মানুষের প্রতি ভালোবাসাই একটি গণমাধ্যমকে দীর্ঘজীবী ও জনপ্রিয় করতে পারে। শত বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে পত্রিকাটি আগামী দিনেও সত্যের পক্ষে, মানুষের অধিকারের পক্ষে এবং একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে অবিচল থাকবে,এটাই উত্তরবঙ্গসহ সারা দেশের পাঠককুলের প্রত্যাশা।

ডিজিটাল যুগের আধুনিকতার সাথে তাল মিলিয়ে প্রিন্ট ভার্সনের পাশাপাশি অনলাইন সংস্করণের মাধ্যমে আজ সারাবিশ্বের বাংলাভাষী মানুষের কাছে পৌঁছে গেছে ‘দৈনিক করতোয়া’। প্রতিষ্ঠার ৫১ বছর পূর্তিতে এই প্রবীণ অথচ তারুণ্যদীপ্ত গণমাধ্যমটির প্রতি রইল আমাদের গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। উত্তরবঙ্গের বুক চিরে বয়ে চলা করতোয়া নদীর মতো চিরকাল প্রবহমান থাকুক এই পত্রিকার আলোর ধারা। 

লেখক : শিক্ষার্থী, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ ,জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা । 

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/179700