২১ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট অভিষেকের অপেক্ষায় মুশফিক!

২১ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট অভিষেকের অপেক্ষায় মুশফিক!

স্পোর্টস ডেস্ক : ২০০৫ সালে লর্ডসে বাংলাদেশের টেস্ট ক্যাপ মাথায় জড়িয়েছিলেন মুশফিকুর রহিম। তারপর কেটে গেছে দীর্ঘ দুই দশক। চারশ’র বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে মুশফিকের কপালে জোটেনি অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলার। টেস্ট ইতিহাসে বাংলাদেশ দল মাত্র একবার (২০০৩ সালে) অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট খেলে। ক্যারিয়ারের গোধূলিলগ্নে এসে অবশেষে দেশটির মাটিতে হতে যাচ্ছে মুশফিকুর রহিমের টেস্ট অভিষেক। ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামে যখন তিনি ব্যাট হাতে মাঠে নামবেন, তখন তা কেবল আরও একটি টেস্ট ম্যাচ থাকবে না; বরং তা হবে দেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় এক ‘অপেক্ষা’র অবসান। ২১ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে মুশফিকের ‘টেস্ট অভিষেক’!

অবশ্য শুধু মুশফিকুর রহিম নন, এই দলের সবার জন্যই এটি অন্যরকম এক অভিষেক। কিন্তু বাকিদের মধ্যে হয়তো কারও কারও আবার সুযোগ হবে অস্ট্রেলিয়ার মাঠে টেস্ট খেলার। সেখানে মুশফিকের জন্য এটাই প্রথম, এটাই শেষ। ৩৯ পেরিয়ে এই ‘অভিষেক’ তার কাছে অনেকটা রোমাঞ্চেরও। অনেক কিছু ভেবে, অনেক প্রস্তুতি নিয়েই সেখানে গিয়েছেন তিনি। ডারউইনের পিচে স্কয়ার কাট বেশি খেলতে হতে পারে, তাই সঙ্গে করে হালকা ব্যাট নিয়েছেন। ১০৩ টেস্টের লম্বা ক্যারিয়ারে মুশফিক দেশের বাইরে প্রায় ৩৫টি ভেন্যুতে এ পর্যন্ত টেস্ট খেলেছেন। সেখানে অপূর্ণতা বলতে অস্ট্রেলিয়ার ভেন্যু, সেখানেই বৃহস্পতিবার সকালে তার একটি স্বপ্ন পূরণ করতে যাচ্ছেন। তার প্রজন্মের প্রায় কেউই এখন আর নেই দলটিতে। তাই একদিক থেকে নিজেকে ভাগ্যবান ভাবতে পারেন মুশফিক। দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ ব্যক্তি হিসেবে তার ওপর দায়িত্বটাও বেশি এই সিরিজে। ডারউইনের নেটেই যেমন তাকে গাইডেন্স দিতে হয় তরুণদের। তেমনি ড্রেসিংরুমেও তিনি ভরসার অন্যতম এক নাম।

যদিও প্রস্তুতি ম্যাচে শূন্য ও ২ রান করে আউট হয়েছেন মুশফিক। কিন্তু তাকে যারা চেনেন, তারা জানেন এই স্কোর কতটা তাতিয়ে দিতে পারে মুশফিককে। ২০১৮ ও ২০২০ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হোম সিরিজে টানা কয়েকটি ম্যাচে রানখরায় ভুগে সমালোচকদের নিশানায় থাকার পর ঘুরে দাঁড়িয়েছিলেন ডাবল সেঞ্চুরি করে। ২০১৮ সালে মিরপুরে একাদশে টিকে থাকার কঠিন চাপের মুখে খেলে ফেলেন অপরাজিত ২১৯* রানের মহাকাব্যিক এক ইনিংস-যা টেস্ট ইতিহাসে কোনো বাংলাদেশি ব্যাটারের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহ। একইভাবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রায় এক বছর কোনো সেঞ্চুরি না পেয়ে যখন তার ফর্ম নিয়ে চারদিকে জোর গুঞ্জন, ঠিক তখনই ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে আবার জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ট্রিপল ফিগারকে ডাবল সেঞ্চুরিতে (২০৩*) রূপান্তর করেন। এই খাতা-কলমে প্রমাণিত প্রত্যাবর্তনের গল্পগুলোই বলে দেয় যে ডারউইনের প্রস্তুতি ম্যাচের ব্যর্থতা (০ ও ২ রান) মুশফিকের জন্য কেবলই সাময়িক একটি মেঘ, যা সরিয়ে যে কোনো মুহূর্তে তার ব্যাট থেকে আরও একটি বড় ইনিংস বেরিয়ে আসা কেবল সময়ের ব্যাপার।

দীর্ঘ পথচলায় তিনি হাঁকিয়েছেন ১৪টি সেঞ্চুরি এবং ২৯টি হাফ সেঞ্চুরি। দেশের চেনা কন্ডিশনে ১১০ ইনিংসে ৩৯.৭৫ গড়ে তার সংগ্রহ ৪,০১৫ রান। বিদেশের মাটিতে ৮০টি টেস্ট ইনিংসে ৩৮.২৩ গড়ে তিনি করেছেন ২,৭৯১ রান, যার মধ্যে রয়েছে ৬টি সেঞ্চুরি ও ১০টি হাফ সেঞ্চুরি। তামিম ইকবাল (২,৩২৯ রান) ছাড়া একমাত্র মুশফিকই বিদেশের মাটিতে দুই হাজারের বেশি টেস্ট রান করার কীর্তি গড়েছেন। আর অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে টেস্টে যেটুকু অভিজ্ঞতা তার, তা সেই ২০১৭ সালে দেশের মাটিতে। যেখানে চারটি টেস্ট ইনিংসে ৩৯.৫ গড়ে তিনি ১৫৮ রান করেছিলেন। 

 

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/179699