পথচলার অর্ধশত বছর

পথচলার অর্ধশত বছর

মোজাম্মেল হক : অদম্য এক স্পৃহা নিয়ে ১৯৭৬ সালের ১২ আগস্ট প্রকাশনা জগতে যাত্রা শুরু করেছিল উত্তরাঞ্চল তথা দেশের জনপ্রিয় পত্রিকা দৈনিক করতোয়া। সে যাত্রায় অনেক চড়াই-উৎরাইপেরিয়ে করতোয়া আজ মহীরুহে পরিণত হয়েছে। বছরের পর বছর আর যুগের পর যুগ পেরিয়ে আজ একান্নতে পা রাখল পত্রিকাটি। কিছু কিছু স্মৃতি থাকে, ফেরারি সুখের মত পালিয়ে যায় না কখনও। তেমনি এক স্মৃতি সুধায় অবগাহিত আমি আজকের দিনটিকে উৎসর্গ করছি জনপদ জুড়ে বিস্তৃত আমাদের অসংখ্য অজস্র পাঠক-পাঠিকা, লেখক-সাংবাদিক, পত্রিকার এজেন্ট-হকার, বিজ্ঞাপনদাতাসহ সকল শুভার্থী-শুভাকাঙ্ক্ষীদের। আমাদের সকল কর্ম, তার ভেতরে প্রীতি-প্রেম, কষ্ট-যন্ত্রণা, ভক্তি-শ্রদ্ধা, ঘৃণা-বৈরিতা, ক্রোধ-সমবেদনার পরিশীলিত পঙক্তিমালা নতুন দিনের বারতা নিয়ে বর্ণিত করবে অনন্ত আগামীর আঁধার।

ইতিমধ্যেই পল্লবিত উত্তর জনপদসহ দেশ-বিদেশের সর্বখানে প্রসারিত পেখমের এক আলোকচ্ছটা দৈনিক করতোয়াকে দিয়েছে জাতীয় পর্যায়ের পরিচিতি। অনেক অসংখ্য মানুষের ঋদ্ধ অভিজ্ঞানের সম্মিলিত আবাহন হয়ে দৈনিক করতোয়ার এই যে পর্যায়ক্রমিক উত্থান, তার সর্বাঙ্গজুড়ে রয়েছে অজস্র-অগণন পাঠক-পাঠিকার বিশ্বস্ত আকুতি। তাদের এই অবিরল প্রত্যাশার সাথে একাত্ম হয়ে চাওয়ার দুর্নিবার আকাঙ্ক্ষাকে সাথে নিয়ে আমাদের যা কিছু অর্জন, তার সকল সেই পাঠককূল মাঝেই পরিব্যাপ্ত হোক।আমাদের সকল ধ্যান-জ্ঞান পরিব্যাপ্ত হয়েছে সাধারণ মানুষের অসাধারণ কর্মপ্রচেষ্টাকে উদ্দীপ্ত করার মহতী যজ্ঞে। সেখানে আমাদের প্রচেষ্টা দিয়ে ধীরে ধীরে তৈরি হয়েছে যে বিপুল পাঠকরাজি, তার প্রসারিত ব্যাপ্তি শুধু করতোয়াকেই সমৃদ্ধ করেনি, তার সুষমা সংবাদপত্র জগতকেও একইভাবে প্রণোদিত করেছে। তাই পাঠক তৈরি করে পাঠকদের প্রত্যাশাকে প্রণীত করবার ক্ষেত্রে দৈনিক করতোয়ার এই দিগ্বিজয়ী ভূমিকার সাথে সংবাদপত্র শিল্পের অভিনব উত্থানও একই সুতোয় গাঁথা। 

শৃঙ্খলার বাতায়নে ঘেরা অন্তঃশক্তির উদ্দীপনায় ভরা দৈনিক করতোয়ার এই যে এগিয়ে চলা, তার সাথে জড়িয়ে আছে মানুষের বিবিধ স্বপ্ন-সাধনা, তাদের সাফল্য ব্যর্থতা আর উত্তরণ-উন্নয়নকেআমরা বিবেচনায় রেখেছি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে। এভাবেই শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রাপ্তি -প্রত্যাশার নিবিড়তম অনুভূতিগুলোকে, তাদের আচরিত অভিব্যক্তি সমূহকে কলমের কালি থেকে পরিবেশনের পরিশীলনে আর মুদ্রণের অভিনব সৌন্দর্যে উপস্থাপিত করতে পেরেছি বলেই না দৈনিক করতোয়ার কল্লোলিত হয়ে ওঠার পেছনের কষ্টগুলোকে সংরক্ষিত করতে পেরেছি আপন আঁধারে। সুনিপুণ বুননে এক ঝাঁক প্রবীণ এবং নবীন সংবাদকর্মীর নিরলস নিবেদনে নিরপেক্ষ এবং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের সুগঠিত প্রবাহ যখন জনপদের সর্বত্র সবখানে পেখমিত হয়ে, উপস্থাপিত হয়ে গণমানুষের চাওয়া-পাওয়া:তাকেই বলতে পারি, দৈনিক করতোয়া। মানুষের আস্থার জায়গায় আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। দলমতের ক্ষেত্রে পত্রিকাটির নিরপেক্ষ ইতিবাচক ভূমিকার কারণেই সকল শ্রেণি-পেশারদলমত নির্বিশেষে পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে করতোয়া। অনাগত দিনগুলোতেও আমরা অতীতের মত জনগণের মুখপত্র হিসাবে বেঁচে থাকতে চাই। এই দীর্ঘ সময়ে দৈনিক করতোয়াকে যারা সাহস যুগিয়েছেন, সহযোগিতা করেছেন দৈনিক করতোয়া পরিবারের পক্ষ থেকে সবাইকে শুভেচ্ছা।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/179674