বগুড়াসহ ৭ জেলায় ডুবুরি নেই, উদ্ধারকাজে ভরসা রাজশাহী

বগুড়াসহ ৭ জেলায় ডুবুরি নেই, উদ্ধারকাজে ভরসা রাজশাহী

স্টাফ রিপোর্টার : বগুড়া মহানগরের ফুলবাড়ী বারুনিঘাটে করতোয়া নদীতে পানিতে ডুবে প্রাণ হারান শিক্ষার্থী শ্রাবন হোসেন। কিন্তু তার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করতে সময় লাগে ১৯ ঘণ্টা । এতো সময় লাগার প্রধান কারণ বগুড়ায় ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স অফিসের কোন ডুবুরী ইউনিট নেই।

যে কারণে রাজশাহী ফায়ার সার্ভিস অফিস থেকে ডুবুরীদলকে বগুড়ায় ডেকে আনতে হয়। বগুড়ায় আসতে ডুবুরী দলের সময় লেগে যায় তিনঘণ্টা। অথচ বগুড়ায় ডুবুরী ইউনিট থাকলে এতো সময় লাগতো না।

শুধু বগুড়া নয়, রাজশাহী বিভাগের আরো ৬ জেলায় ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স অফিসে ডুবুরী ইউনিট নেই। বগুড়া ছাড়া অন্য জেলাগুলো হলো বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, নাটোর ও জয়পুরহাট।

এই জেলাগুলোতেও নেই ডুবুরী ইউনিট। জেলাগুলোতে নদী বা খাল বিল পুকুরে কেউ পানিতে ডুবে নিখোঁজ হলে বা মারা গেলে রাজাশাহী থেকে ডেকে আনতে হয় ডুবুরী দলকে। রাজশাহী থেকে অনেক সময় ধরে অনেকটা পথ পেরিয়ে ওই জেলাগুলোতে পৌঁছে ডুবুরী দল। এতে জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তাই দাবি উঠেছে বগুড়াসহ ওই ৭ জেলায় ডুবুরী ইউনিট স্থাপনের।

উল্লেখ্য, গতকাল সোমবার দুপুর সোয়া ১টার দিকে বগুড়া মহানগরের ফুলবাড়ী ইছাইদহ ব্রিজের কাছে বারুনিঘাটে করতোয়া নদীতে পানিতে ডুবে প্রাণ হারান শিক্ষার্থী শ্রাবন হোসেন। বগুড়ার জয়নাল আবেদীন কর্মাস কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র শ্রাবন হোসেন ও তার বন্ধুরা মিলে নদীতে নেমে গোছল করছিলেন। এক পর্যায়ে তারা নদী সাতরিয়ে পূর্বপাশ থেকে পশ্চিম পাশে যাচ্ছিলেন।

এসময় সাতরিয়ে বন্ধুরা পশ্চিমপাশে নদীর পাড়ে উঠে পড়লেও শ্রাবন নিখোঁজ হন। সাতরিয়ে যাওয়ার সময় তিনি নদীর পানিতে ডুবে যান বলে তার বন্ধুরা জানান। পরে তার বন্ধুরা নদীতে নেমে তাকে খোঁজাখুঁজি করেন। খবর পেয়ে স্থানিয় লোকজনও নদীতে নেমে তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। সেইসাথে ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল সার্ভিস বগুড়ার সদস্যরা এসে উদ্ধার অভিযানে নামেন।

এতে সবাই ব্যর্থ হলে রাজশাহী ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স অফিস থেকে ডুবুরিদলকে বগুড়ায় ডাকা হয়। বিকেল সোয়া ৫ টায় ডুবুরি দল এসে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে। কিন্তু ওই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত ডুবে যাওয়া শিক্ষার্থী শ্রাবনকে উদ্ধার করতে না পেরে উদ্ধার কার্যকম স্থগিত করা হয়। পরের দিন গতকাল মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৬ টায় ডুবুরী দলের ৩ সদস্য ফের নদীতে  উদ্ধার অভিযানে নামে। একপর্যায়ে সকাল ৮টায় ১৯ বছর বয়সী শিক্ষার্থী শ্রাবনকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তÍান্তর করা হয়। উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়া এক ডুবুরী বলেন নদীতে যেখানে শ্রাবন ডুবে গিয়েছিলেন সেখান থেকে অনুমান ২-৩শ’ ফুট দূরে তার মরদেহ পাওয়া যায়। নদীর পানিতে ডুবে যাওয়ার ১৯ ঘণ্টা পর শ্রাবনকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স বগুড়ার সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, বগুড়া একটি গুরত্বপূর্ণ জেলা। এই জেলায় একটি ডুবুরী ইউনিট প্রয়োজন। জেলার সারিয়াকান্দি, সোনাতলা ও ধুনটে যমুনা নদীতে মাঝেমধ্যে নৌকা ডুবি ও খাল বিল পুকুরে পানিতে ডুবে মানুষ মারা যায়। এরমধ্যে পাড়া মহল্লায় পুকুর ও ডোবায় পানিতে ডুবে শিশুরা বেশি প্রাণ হারায়।

তিনি বলেন, অনেকে সাতার জানেন না যে কারণে পানিতে ডুবে মারা যান। সাতার জানে এমন অনেক কিশোর ও যুবকও নদী বা খাল বিলে নেমে বন্ধুদের সাথে বাজি ধরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে সাতার কাটে ও লাফালাফি করে। এতে তাদের কেউ কেঊ ক্লান্ত হয়ে পানিতে তলিয়ে যায়। আবার সাতার জানলেও চর্চা নেই এমন ব্যক্তিও নদীতে সাতার কাটতে নেমে ডুবে যান।

তাই ডুবে যাওয়া মানুষদের উদ্ধারে বগুড়ায় একটি ডুবুরী ইউনিট স্থাপনের প্রায়োজন। তিনি আরো বলেন, বগুড়ায় ডুবুরী ইউনিট স্থাপনের জন্য ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে। এদিকে, রাজশাহী ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স এর অতিরিক্ত পরিচালক মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, রাজশাহী বিভাগের শুধু রাজশাহীতে ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সে ডুবুরী ইউনিট রয়েছে।

এই ইউনিটে মাত্র ৬ জন ডুবুরী রয়েছে। কিন্তু বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, জয়পুরহাট, নাটোর, নওগা ও চাঁপাই নবাবগঞ্জে ডুবুরী ইউনিট নেই। প্রয়োজন পড়লে রাজশাহী থেকে এই ডুবুরীরা ওই জেলা গুলোতে গিয়ে উদ্ধার কার্যক্রম চালান। তিনি রাজশাহী বিভাগের এই ৭ জেলায় ডুবুরী ইউনিট স্থাপনের জন্য ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে বলে জানান।

বগুড়া সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) এর সাবেক জেলা সভাপতি ও বর্তমান নির্বাহী কমিটির সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মাছুদার রহমান হেলাল বলেন, বগুড়ায় ডুবুরী ইউনিট না থাকায় নদী বা খাল বিলে ডুবে যাওয়া মানুষকে উদ্ধারে বিলম্ব হচ্ছে। রাজশাহী থেকে ডুবুরী আনতে হচ্ছে।

এতে খুব বেশি সময় লাগায় মানুষ ক্ষুব্ধ হচ্ছে। তাই জনস্বার্র্র্র্র্থে বগুড়ায় ডুবুরী দরকার। ডুবুরী ইউনিট স্থাপর এখন সময়ের দাবি। তিনি এই ইউনিট স্থাপনের জন্য সরকারের প্রতি জোড় দাবি জানান।

১৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক পৌর কাউন্সিলর রাজু হোসেন পাইকাড় বলেন, বগুড়ায় যদি ডুবুরী ইউনিট থাকতো তাহলে আর শ্রাবনের মরদেহ উদ্ধারে ১৯ ঘণ্টা সময় লাগতো না। রাজশাহী থেকে ডুবুরী দল আসতেই বেশি সময় লেগেছে। তিনি বগুড়ায় ডুবুরী ইউনিট স্থাপনের জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছেন।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/179646