তিন দশক পেরিয়ে পপি
অভি মঈনুদ্দীন ঃ সাদিকা পারভীন পপি, বাংলাদেশের সিনেমার একজন নন্দিত জনপ্রিয় অভিনেত্রী। যদিও বিগত বেশ কয়েক বছর যাবত তিনি সিনেমাতে অভিনয় করছেন না। কিন্তু এখনো দেশে বিদেশে তার কোটি ভক্ত রয়েছে।
বাংলাদেশের সিনেমার গ্ল্যামারাস, সুন্দরী নায়িকা বলতে যা বোঝায় বাংলাদেশের সকল নায়িকাদের মধ্যে সেই অর্থে পপি এখনো রয়েছেন শীর্ষে। ১৯৯৫ সালে ‘লাক্স আনন্দবিচিত্রা ফটো সুন্দরী’ প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হবার মধ্যদিয়ে খুলনার মেয়ে পপির মিডিয়াতে পথ চলা শুরু হয়। এরপর প্রয়াত শহীদুল হক খানের পরিচালনায় প্যাকেজ নাটক ‘নায়ক’-এ চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের বিপরীতে প্রথম অভিনয় করেন পপি। এরপর পপি প্রথম প্রয়াত বরেণ্য পরিচালক সোহানুর রহমান সোহানের ‘আমার ঘর আমার বেহেস্ত’ সিনেমার কাজ শুরু করেন চিত্রনায়ক শাকিল খানের বিপরীতে। তবে এই সিনেমার আগেই মনতাজুর রহমান আকবরের ‘কুলি’ সিনেমাটি মুক্তি পায় ১৯৯৭ সালের ১৬ মে। যে কারণে পপির মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা হিসেবে ‘কুলি’র নামই আসে।
১৯৯৭ সালেই ইলিয়াস কাঞ্চনের বিপরীতে প্রথম সিনেমা মুক্তি পায় ১৯৯৭ সালের ২০ জুন শওকত জামিলের ‘দরদী সন্তান’। তৃতীয় সিনেমা হিসেবে ‘আমার ঘর আমার বেহেস্ত’ সিনেমাটি মুক্তি পায় ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর। ১৯৯৮ সালে মুক্তি পায় মোস্তাফিজুর রহমান বাবুর ‘এই মন তোমাকে দিলাম’, মোতালেব হোসেনের ‘ভালোবাসার ঘর’সহ আরো বেশ কয়েকটি সিনেমা। এরপর পপি’কে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।
পপি অভিনীত মুক্তিপ্রাপ্ত ব্যবসা সফল ও উল্লেখযোগ্য সিনেমাগুলো হচ্ছে ‘চারিদিকে শত্রু’,‘ বিদ্রোহ চারিদিকে’, ‘কে আমার বাবা’,‘ লাল বাদশা’,‘ দুজন দুজনার’,‘ প্রাণের প্রিয়তমা’,‘ ক্ষ্যাপা বাসু’,‘ বিদ্রোহী পদ্মা’,‘ রানী কুঠির বাকী ইতিহাস’,‘ মেঘের কোলে রোদ’,‘ কী যাদু করিলা’, ‘কারাগার’,‘ গঙ্গাযাত্রা’,‘ বস্তির রানী সুরিয়া’ ইত্যাদি। পপি প্রথম একজন শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হন কালাম কায়সারের ‘কারাগার’ সিনেমাতে অভিনয় করে। পরে ‘মেঘের কোলে রোদ’ ও ‘গঙ্গাযাত্রা’ সিনেমাতে অভিনয় করে একই পুরস্কারে ভূষিত হন।
এছাড়াও পপি ‘বাচসাস’,‘ বাবিসাস’, ‘ট্র্যাব’ অ্যাওয়ার্ড’সহ আরো বিভিন্ন সংগঠন থেকে শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকতি স্বরূপ পুরস্কৃত হয়েছেন। পপি কয়েকবছর আগে দেশের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী আদনানকে বিয়ে করেন। তাদের একমাত্র সন্তান পুত্র আয়াত। আপাতত ঘর সংসার নিয়েই সুখী জীবন যাপন করছেন পপি।
সিনেমা জীবন প্রসঙ্গে পপি বলেন,‘ দীর্ঘদিনের চলচ্চিত্র জীবনে আমি এই দেশের কোটি কোটি সিনেমাপ্রেমী দর্শকের ভালোবাসা পেয়েছি। চলচ্চিত্রে কাজ করতে গিয়ে সিনিয়র শিল্পীদের স্নেহ ভালোবাসায় ধন্য হয়েছি। এছাড়াও পুরো চলচ্চিত্র পরিবারের ভালোবাসাতো ছিলোই। আমি আজকের পপি যা কিছু তার সবটুকুই আসলে চলচ্চিত্র থেকে পাওয়া, দর্শকের ভালোবাসা থেকে পাওয়া। যে কারণে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের প্রতি আমার অগাধ শ্রদ্ধা ভালোবাসা সবসময়ই থাকবে।’
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/179390