বগুড়ার সোনাতলায় শ্যালো মেশিনে বালু উত্তোলন হুমকির মুখে আড়িয়াঘাট সেতু
সোনাতলা (বগুড়া) প্রতিনিধি: বগুড়ার সোনাতলায় শ্যালো মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের ফলে উপজেলার আড়িয়ারঘাট সেতু হুমকির মুখে পড়েছে । সড়ক ও জনপথ বিভাগ ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রায় দু”বছর আগে সেতুটি নির্মাণ করেছিল। বালু উত্তোলনকারীদের কারণে সেই সেতুটির অস্তিত্ব এখন সংকটে।
অভিযোগ উঠেছে, এলাকার প্রভাবশালী একটি বালু ব্যবসায়ী চক্র দীর্ঘদিন সেতুটির তলদেশ থেকে শ্যালো মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে। এর ফলে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই জনগুরুত্বপূর্ণ ব্রিজের পাইলিং ও গোড়ার মাটি সরে গিয়ে সেতুটি যেকোনো মুহূর্তে নদীতে ধসে পড়ার আশঙ্কায় আছেন স্থানীয় ও চলাচলকারী হাজারও মানুষ।
নদী রক্ষা আইন ও সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সেতুর নির্দিষ্ট দুরত্বের মধ্যে বা সেতুর তলদেশ থেকে কোনো ধরনের বালু বা মাটি উত্তোলন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। অথচ, আইন-কানুনের তোয়াক্কা না করে আড়িয়ারঘাট সেতুর গোড়া থেকেই অনবরত চালানো হচ্ছে ড্রেজার ও শ্যালো মেশিন। দিন-রাত সমান তালে বালু তোলায় নদীর তলদেশে সৃষ্টি হয়েছে সুবিশাল ও গভীর গর্তের।
নদীভাঙনের কবলে পড়ছে আশপাশের ফসলি জমি ও বাড়িঘর। আড়িয়ারঘাট সেতুটি সোনাতলা, সাঘাটা, সারিয়াকান্দি উপজেলার প্রায় ২৭টি ইউনিয়নের প্রায় ৮ লাখ মানুষের যাতায়াতের প্রধান ভরসা। প্রতিদিন শত শত ছোট-বড় যানবাহন, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও পথচারী এই সেতু দিয়ে চলাচল করে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এব্যাপারে প্রতিবাদ করতে গেলে বালু খাদক চক্রের ভয়ভীতি ও হুমকিতে পড়তে হয়। সেতুটি ভেঙে গেলে দুই পাড়ের যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। নদী থেকে অনিয়ন্ত্রিতভাবে শ্যালো মেশিন দিয়ে বালু তোলার ফলে ব্রিজের পাশাপাশি পুরো এলাকার নদীর স্বাভাবিক গতিপথ পরিবর্তিত হচ্ছে। এতে চলতি বর্ষা মৌসুমে তীব্র নদীভাঙন দেখা দিয়েছে।
এছাড়া নদীর প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়ায় বিপন্ন হচ্ছে জলজ প্রাণি ও জীববৈচিত্র্য। প্রতিদিনই শ্যালো মেশিনের বিকট শব্দে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। স্থানীয় মধুপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল আলিম বলেন, অবিলম্বে এই অবৈধ শ্যালো ড্রেজার মেশিনগুলো জব্দ করে সংশ্লিষ্ট বালু খেকো চক্রটির বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আড়িয়ারঘাট ব্রিজটি রক্ষা করা হোক।
এছাড়াও মহিচরণ কুচিয়ামারি সড়কের কাছাকাছি তেলিহাটা এলাকায় শ্যালো মেশিন দিয়ে একটি পুকুর থেকে অবাধে বালু উত্তোলন করায় বিস্তীর্ণ এলাকা দেবে যাওয়ার শংকায় রয়েছে এলাকাটি। এ বিষয়ে সোনাতলা থানার অফিসার ইনচার্জ কবীর হোসেন বলেন, শুধু আড়িয়ারঘাট এলাকা নয়, আমাদের কাছে অভিযোগ রয়েছে শতাধিক স্থানে ভূ-গর্ভস্থ থেকে বালু উত্তোলনের কাজ অব্যাহত রেখেছে এক শ্রেণির স্বার্থান্বেষী মহল।
এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) জুয়েল মিয়া বলেন, শ্যালো মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন বিষয়ে অভিযোগ অব্যাহত রয়েছে। গত কয়েকদিন আগে জোড়গাছা ইউনিয়নের উত্তর বয়ড়া সর্জন পাড়া ইলশামারি ঘাটে অভিযান চালিয়ে প্রায় ১০ লাখ টাকার মালামাল পুড়িয়ে ও গুড়িয়ে দেয়া হয়েছে।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/179226