রংপুরে কমিউটার ট্রেনের ইঞ্জিন-বগি লাইনচ্যুত, আহত ৫
রংপুর প্রতিনিধি : রংপুর রেলস্টেশনের তিন নম্বর লাইনে বুড়িমারী থেকে পার্বতীপুরগামী ৪৬১ নম্বর কমিউটার ট্রেনের ইঞ্জিন ও একটি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। আজ শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে স্টেশনে প্রবেশের সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এসময় ট্রেন থেকে হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে পাঁচজন আহত হন। দুর্ঘটনার পর ওই লাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকলেও এক ও দুই নম্বর লাইনে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে লালমনিরহাট রেলওয়ে বিভাগ।
রেলওয়ে কর্মকর্তারা জানান, বুড়িমারী থেকে ছেড়ে আসা ৪৬১ নম্বর কমিউটার ট্রেনটি রংপুর রেলস্টেশনের তিন নম্বর লাইন দিয়ে প্রবেশের সময় ইঞ্জিনের আটটি চাকা এবং পেছনের একটি বগির দুটি চাকা লাইন থেকে পড়ে যায়। এতে ওই লাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে লালমনিরহাট থেকে একটি উদ্ধারকারী রিলিফ ট্রেন দুপুর ১২টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। উদ্ধার অভিযানে নেতৃত্ব দেন রেলের লালমনিরহাট বিভাগীয় যান্ত্রিক প্রকৌশলী ধিমান ভৌমিক। এসময় রেলের প্রকৌশলী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।
ধিমান ভৌমিক জানান, ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় লালমনিরহাটের সহকারী পরিবহন কর্মকর্তাকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন-সহকারী যান্ত্রিক প্রকৌশলী (ক্যারেজ অ্যান্ড ওয়াগন), লোকো ইন্সপেক্টর লালমনিরহাট, নির্বাহী প্রকৌশলী দিনাজপুর এবং সহকারী যান্ত্রিক (সিগন্যাল অ্যান্ড টেলিকম) প্রকৌশলী। কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিভাগীয় যান্ত্রিক প্রকৌশলী ধিমান ভৌমিক বলেন, ট্রেনটিকে কেন তিন নম্বর লাইনে নেওয়া হয়েছিল, তা তদন্তে বেরিয়ে আসবে। তদন্তে যাদের দায় পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, ইঞ্জিনের আটটি চাকা ও বগির দুটি চাকা লাইনচ্যুত হয়েছে। তবে এ ঘটনায় স্টেশন থেকে বিভিন্ন রুটে ট্রেন চলাচলে কোনো বড় ধরনের প্রভাব পড়েনি। বিকেলের মধ্যে উদ্ধার অভিযান শেষ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এদিকে ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ার কারণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, রংপুর রেলস্টেশনের তিন ও চার নম্বর লাইনে দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার কাজ হয়নি। এসব লাইনে পর্যাপ্ত পাথরও নেই। লাইনের দুরবস্থার কারণেই দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে তারা মনে করছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দা রহিমা বেগম বলেন, রেললাইনের তিন নম্বর লাইনে দীর্ঘদিন ধরে কোনো সংস্কার করা হয়নি। এক ও দুই নম্বর লাইনে পাথর দেওয়া হলেও তিন ও চার নম্বর লাইনে পাথর দেওয়া হয়নি। লাইনে পাথর না থাকায় ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়েছে।
স্টেশনের ভ্রাম্যমাণ দোকানদার হরিপদ রায় বলেন, মালবাহী ট্রেন দীর্ঘদিন ধরে এ লাইন দিয়ে চলাচল করলেও এমন দুর্ঘটনা ঘটেনি। আজ ট্রেনটিকে তিন নম্বর লাইনে নেওয়া হয়েছে। লাইনটি যাচাই-বাছাই না করে কীভাবে সেখানে ট্রেন ঢোকানো হলো, সেটিও খতিয়ে দেখা দরকার।
রংপুর রেলস্টেশনের স্টেশন সুপারিনটেনডেন্ট আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ট্রেনটির নির্ধারিত পথই ছিল তিন নম্বর লাইন। স্টেশনের পয়েন্ট পার হওয়ার পর সামনের দিকে গিয়ে ইঞ্জিনের চাকাগুলো লাইনচ্যুত হয়। একই সঙ্গে পেছনের একটি বগির কয়েকটি চাকাও লাইন থেকে পড়ে যায়। তিনি বলেন, কুড়িগ্রামের ইঞ্জিন কেটে নিয়ে এবং সেখানকার বগিগুলো আলাদা করে এক নম্বর লাইনে রাখা হয়। এরপর লাইন স্বাভাবিক করা হয়েছে। বর্তমানে রংপুর স্টেশনে ট্রেন চলাচলে কোনো সমস্যা নেই।
স্টেশন সুপারিনটেনডেন্ট আরও বলেন, লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। যে অংশটুকু লাইনচ্যুত হয়েছে, সেটুকু ছাড়া আর কোনো ক্ষতি হয়নি। বর্তমানে স্টেশনের সবকিছু স্বাভাবিক রয়েছে।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/179165