প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের শিক্ষাব্যবস্থার দুরবস্থা

প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের শিক্ষাব্যবস্থার দুরবস্থা

আতকিয়া ফাহমিদা লাভনী : শিক্ষাই একটি আবিদা মেরুদন্ড। একটি দেশের প্রকৃত সম্পদ তার শিক্ষিত ও দক্ষ মানবসম্পদ কিন্তু এই মানবসম্পদ কি শুধু শহারেন শিক্ষার্থীদের শিক্ষিত করেই গড়ে ভোলা সম্ভব? দেশের প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের শিশু-কিশোরদের সমান শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত না কলে কি সত্যিই একটি সমৃদ্ধ জাতি গঠন করা সম্ভব? বাংলাদেশে শহর ও গ্রামের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একই জাতীয় শিখাক্রম, একই পাঠপুস্তক এবং একই পরীক্ষাব্যবস্থা অনুসরণ করা হয় তবুও বাস্তবতা হলো, শহরের একজন পয়ন শিক্ষার্থীর সঙ্গে গ্রামেব একজন শিক্ষার্থীর জ্ঞান, দক্ষতা ও আশুবিশাসের
ব্যবধান দিন দিন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

 প্রত্যন্ত অঞ্চলেন অনেক শিক্ষারী এখনো মৌলিক দক্ষতা অর্জনেই পিছিয়ে থকে। ভাবা কেবল পাঠ্যবইয়ের গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ থেকে যায়: অধুনিক বিশ্ব, প্রযুক্তি, উচ্চশিক্ষা বিংলা কর্মর্মীবনেন সম্ভাবনা সম্পর্কে তাদের ধারণা খুবই সীমিত। অনেকেই জানে না, এই ছোট গ্রামের বাইরেও তাদের গন্য একটি বিশাল ভাবনার পৃথিবী অপেক্ষা করছে। প্রশ্ন হলো, অবকাঠামো উন্নয়ন করেছে, নতুন ভবন নির্মাণ করেছে এবং একই পাঠক্রম চালু করেছে, তখনও কেন এই বৈষম্য রয়ে গেছে? এর 'অন্যতম কারণ হলো শিক্ষর সামনগত বৈষমা।

 প্রত্যন্ত অঞ্চলের অনেক বিদ্যালয়ে এখনো পর্যান্ত ও দঃ শিক্ষকের অভাব রয়েছে। কোমার শিল্পকের সংখ্যা কম, কোথাও আবার নিয়মিত ও মানসম্মত পাঠদান নিশ্চিত হয় না। ফলে একজন শিক্ষার্থী প্রাথমিক স্তর শেষ করেও নিজের নাম সঠিকভাবে লিখতে বা মৌলিক ইংরেজি দক্ষতা অর্জন করতে পারে না। এটি দুঃখমানকই নয়, বরং আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার জনা একটি বড় সতর্কবার্তা। এই শিক্ষার্থীদের অধিকাংশই কৃষক, দিনমপুর, ইমেলীন বিংলা নিম্ন ও নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। অনেক অভিভাবক নিরক্ষর অংবা স্বল্পশিক্ষিত হওয়ায সন্তানের পড়াশোনার গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারেন না।

'স্মাটনৈতিক সংকটের কারণে অনেক শিশুই অল্প বয়সে শ্রমে যুক্ত হয় অথবা ঝরে পড়ে বিদ্যালয় থেকে কিন্তু এসব শিশুর এই বাস্তবতার গুনে! তারা নিজেরা দায়ী নয়। এখানেই শিক্ষকদের দায়িত্ব সবচেয়ে বেশি। একজন শিক্ষক শুধু পাঠ্যবই পড়ান নাঃ একজন শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, চিন্তা ও ভবিষ্যৎ গড়ে কোলেন। বাষ্ট্র তাদের এই দায়িত্ব পালনের জন্যই সম্মান ও বেতন খদান করে। তাই প্রতিটি শিক্ষকের উচিত নিজের অতিতি জান অস্তরিকতার সঙ্গে প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া এবং তাদের সামনে নতুন সম্ভবনার যার উন্মুক্ত করা। 

আজ শহরের অনেক শিক্ষার্থী প্রযুক্তি, ভাষা দক্ষতা, বিজ্ঞান, গবেষণা ও বেশ্বিক আনচর্চান এগিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে গ্রামের অনেক শিক্ষার্থী এখনো মৌলিক শিক্ষা নিয়েই সংগ্রাম করছে। একই দেশের দুই শিক্ষর্থীর মধ্যে এমন বৈষম্য কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না। শিক্ষা যদি সবার মৌলিক অধিকার হয়, তবে মানসম্মত শিক্ষার সবার জন্য সমানভাবে নিশ্চিত হওয়া উচিত। গ্রামীণ শিখবে উন্নধন কেবল শিক্ষাক্ষেত্রের বিষন্ন নয়; এটি সামাজিক উনুষদেরও পূর্বশর্ত। মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা গেলে শিঞ্জাম, বাল্যবিবাহ, কৃষ্ণ তার, দারিদ্র্য ও সামাজিক অবক্ষয়ের মতো সমস্যাগুলো অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। শিক্ষিত একটি প্রজন্মই পরে একটি সচেতন, মানবিক ও উরুত সমাজ গড়ে তুলতে।

তাই প্রয়োজন প্রত্যন্ত অঞ্চলে আরও দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ, নিয়মিত শিক্ষক প্রশিক্ষণ, আধুনিক প্রধুষিনির্ভর শিক্ষা, মানসম্মত শ্রেণিকক্ষ, সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার, বিজ্ঞানাগার এবং শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণামূলক পরিবেশ নিশ্চিত করা। পাশাপাশি অভিভাবকদের মধ্যেও শিক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে, যাতে তারা সন্তানদের ভবিষ্যতের জন্য শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেন একটি দেশের উন্নয়ন তখনই টেকসই হয়, যখন সেই উন্নয়নের আলো শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত সমানভাবে সৌছে যায়। তাই প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন আর বিলম্ব করার সুযোগ নেই। প্রতিটি শিশুর জন্য সমান ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে পারলেই একটি বৈষম্যহীন, জ্ঞানভিত্তিক এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশ পড়ে তোলা সম্ভব শিক্ষার 'আলো কোনো নির্দিষ্ট শহর বা শ্রেণির অন্য নষ; এটি প্রতিটি শিশুর অধিকার। সের অধিকার নিশ্চিত করাই হোক আমাদের নম্মিলির অঙ্গীকার।

 লেখক: শিষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
[email protected]

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/179141