ইন্টারভিউ দিতে যাওয়ার আগে যে মৌলিক প্রশ্নগুলো জানা জরুরি

ইন্টারভিউ দিতে যাওয়ার আগে যে মৌলিক প্রশ্নগুলো জানা জরুরি

দেশের প্রথম সারির ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ‘আম্বার আইটি’র মানবসম্পদ ও প্রশাসন শাখার সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম, এইচআর অ্যান্ড অ্যাডমিন) মজিবুর রহমান। দীর্ঘ ১৬ বছর তিনি কাজ করছেন প্রতিষ্ঠানটিতে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতক-স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবসায় প্রশাসনে স্নাতকোত্তর (এমবিএ) করেছেন তিনি। আইটিতে চাকরির বাজার, চাকরি প্রত্যাশীদের প্রস্তুতি, নিয়োগকর্তা হিসেবে তাদের কাছে কী প্রত্যাশা করে তার প্রতিষ্ঠান। সেসব নিয়ে তিনি কথা বলেছেন।

আপনাদের প্রতিষ্ঠান নিয়ে কিছু বলুন। এটার বিস্তৃতি কতটা?
আমাদের প্রতিষ্ঠান আম্বার আইটি বাংলাদেশের প্রথম সারির একটা ইন্টারনেট কোম্পানি। আমাদের যেমন করপোরেট ক্লায়েন্ট আছে, সেরকম আমাদের সারা দেশেই রিটেল কাস্টমার বা হোম ক্লায়েন্ট আছে। আমাদের সারা দেশের প্রতিটা বিভাগের সঙ্গে জেলা, উপজেলা এবং ইউনিয়ন পর্যন্ত অফিস বিস্তৃত। ইউনিয়ন পর্যন্ত আমাদের নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সেবা দেশের মানুষ পেয়ে থাকে।

একজন চাকরিপ্রার্থীর পোশাক কেমন হওয়া উচিত?
ফিজিক্যাল অ্যাপিয়ারেন্স একটা বড় বিষয়। সে সুন্দরভাবে, একটু ফরমালভাবে আসবে। বলছি না যে তাকে একদম ব্লেজার পরে, সুট পরে আসতে হবে, কিন্তু সে যেন স্যান্ডেল না পরে আসে। তার আউটফিটটা দেখেও যেন পরবর্তীতে তার সাথে কথা বলার জন্য আগ্রহ তৈরি হয়।

চাকরিপ্রার্থীরা প্রথম ভুলটা কী করেন?
যখন কেউ ইন্টারভিউ দিতে আসবেন, প্রথমে যে বিষয়গুলো জেনে আসা দরকার, সেই জায়গাগুলো অনেক সময় এড্রেস করে আসে না, জেনে আসে না। হয়তো অনেক ভালো কাজ জানে, অনেক কিছু জানে, কিন্তু আমি তো তখনই তাকে যাচাই করতে পারবো না।

একটু উদাহরণ দিয়ে বলবেন?
ধরেন বিভিন্ন পোর্টালের মাধ্যমে আমরা জব ভ্যাকেন্সি ডিক্লিয়ার করে থাকি। অনেক সিভি পড়ে, কিন্তু সেখানে যখন আমরা স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে শর্টলিস্ট করে ইন্টারভিউয়ের জন্য ডাকবো, সেটা আমরা আসলে খুবই কম পাই।

১ হাজার সিভি পরে, স্ক্রিনিং করে আমরা ১০০ পাই, ডাকতে পারি হয়তো ৫০ জনকে। যখন আমরা একজন এক্সিকিউটিভ নিই, মিনিমাম গ্র্যাজুয়েট দরকার হয়। সে হিসেবে সার্টিফিকেটটা লাগে, এটা কিন্তু শুধুই তার এই অফিসে এন্ট্রির ক্ষেত্রে। বাট হ্যান্ডস-অন ট্রেনিং ইজ দ্য মোস্ট ইম্পর্টেন্ট থিং। সে যেই ডিপার্টমেন্টে কাজ করবে, সেই বিষয়ে যদি তার জ্ঞান থাকে, সেইটা তাকে কিন্তু তরতর করে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

আপনারা কী ধরনের কর্মী বেশি নেন?
আমাদের ম্যাক্সিমাম জব প্লেসমেন্ট এন্ট্রি লেভেলে। সেটা যে ডিপার্টমেন্টেই হোক না কেন, তার একজন সুপারভাইজার থাকে। তার ডিপার্টমেন্টে যে সিনিয়র থাকেন, তিনিই নতুন কর্মীকে কোম্পানির ধরন অনুযায়ী সব কাজ শিখিয়ে নেন।

আপনারা কি প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল পাচ্ছেন?
না, সব সেক্টরেই কিছুটা আমাদের ঘাটতি আছে। যতখানি আমাদের দরকার, সেরকম লোকবল আসলে পাওয়া যায় না। ক্লাউড কম্পিউটিং বলেন বা সফটওয়্যার বলেন, এগুলোতে তুলনামূলক আরও কম। নেটওয়ার্কিংয়ে হয়তো আমরা কিছু লোক পাই।

আমরা নেটওয়ার্কিং নিয়ে কাজ করি। অনেকে সিএসসি বা অনেক রকম রাউটিং-কম্পিউটিং নিয়ে কাজ করে, কিন্তু এখানে তাদের ওই হ্যান্ডস-অন ট্রেনিং— ওই ডিভাইসগুলো নিয়ে সেইভাবে ইউনিভার্সিটিতে কাজ করার সুযোগ থাকে না। যার ফলে সে আসলে হ্যান্ডস-অন ট্রেনিং ওইরকম পায় না।

এই জায়গাগুলো হয়তো তাদের আর একটু ভালোভাবে জানা উচিত যে, কীভাবে আসলে এই জ্ঞানটা সে নিতে পারে। মানে পুথিগত বিদ্যা আসলে চাকরির ক্ষেত্রে খুব কম ভূমিকা রাখে। ধরেন, কেউ রাউটিং ভালো পারেন, এটা তার জন্য খুব ভালো কাজ করবে।

এন্ট্রি লেভেলের চাকরিতে প্রতিষ্ঠান একজন কর্মীকে কী ধরণের সহায়তা দেয়?
এন্ট্রি লেভেলে যদি জব হয়, তাহলে তো আসলে প্রথমেই দক্ষ হবে, সেটা নাও হতে পারে। সে ক্ষেত্রে আমরা কি করি, যে আসবে, আমরা হয়তো তাকে আবার শিখিয়ে-পড়িয়ে দক্ষ করে নেবো। আমাদের প্রত্যাশা থাকে না যে, সে দক্ষ হবে। সে তো দক্ষ হওয়ার সুযোগ পায়নি এখনও। ধরেন, যে সে সিএসসি নিয়ে পড়াশোনা করে এসেছে। আমরা বেসিক লেভেলে কিছু প্রশ্ন করতে চাই তাকে।

এই বেসিক প্রশ্নগুলো তাকে আসলে জেনে আসতে হবে। কখনো কখনো দেখা যায় যে সে ওই বেসিক প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে পারছে না। অন দ্য আদার হ্যান্ড, ধরেন আমরা জিজ্ঞেস করলাম যে, আচ্ছা, যেখানে ইন্টারভিউ দিতে এসেছেন, এই কোম্পানি সম্পর্কে আপনি কী জানেন? বা যে পদের জন্য আপনি ইন্টারভিউ দিতে এসেছেন, এই পদ সম্পর্কে কী জানেন?

এগুলো কীভাবে জানার পরামর্শ দেবেন?
গুগল করেন, আপনি আমাদের ওয়েবসাইটে ঢুকলেই তো আমাদের সম্পর্কে জানতে পারবেন। কারো কাছে জিজ্ঞেস করলেও আপনি জানতে পারবেন। সো, এই জায়গাগুলো তাকে আগে জেনে আসতে হবে।

মাল্টি বা ক্রসডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে আপনার পরামর্শ কী?
ধরেন আমরা মার্কেটিংয়ের ইন্টারভিউ করছি, মার্কেটিং এক্সিকিউটিভ নেবো। সে এসেছে ইন্টারভিউ দিতে, সে পড়াশোনা করেছে অ্যাকাউন্টিংয়ে। ইন্টার্নি করেছে এইচআরে, এখন মার্কেটিংয়ে কাজ করতে চায়। এই জায়গাগুলোতে আমরা বলতে চাই, সে যখন অনার্সে পড়ছে, তখন সে যেন জীবনের ম্যাপটা করে নেয়। আমার কোনটা ভালো লাগে? আমার যদি মার্কেটিং ভালো লাগে, তাহলে আমি মার্কেটিংয়ে পড়াশোনা করলাম। তাহলে কি হয়, পড়াশোনাটাও কাজে লাগে।

এক বিষয় নিয়ে পড়ে অন্য বিষয়ে কাজ করার ক্ষেত্রে সমস্যা কী হতে পারে?
আপনি অ্যাকাউন্টিংয়ে পড়াশোনা করে মার্কেটিংয়ে কাজ করতে পারবেন না, এমন কোনো কথা নেই। অনেকের একদম কোনো ধারণা থাকছে না যে কী পড়বো, কী করবো। এটা যদি অনার্সের সময়ই সে প্ল্যান করে নিতে পারে, যেমন আমার ভালো লাগে সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট।

আমি সফটওয়্যার নিয়ে পড়াশোনা করি। তাহলে পড়াশোনা করে আমার যে প্যাশন, ওইখানেই আমি জবে গেলাম এবং সেখানে তখন আমার অনেক ভালো করার সুযোগ থাকছে। মানে প্যাশন আছে, কিন্তু আমার বাবা-মা চাচ্ছে যে, না, তুমি ডাক্তার হও, আমার ওইখানে কোনো আগ্রহই নেই। তাহলে আসলে জীবনে খুব বেশি এগোনো যায় না।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/179086