বগুড়ায় ছাদবাগানী মৌসুমীর নান্দনিক উপস্থাপনা, সবুজের ক্যানভাসে বিরল লাল কদম

বগুড়ায় ছাদবাগানী মৌসুমীর নান্দনিক উপস্থাপনা, সবুজের ক্যানভাসে বিরল লাল কদম

স্টাফ রিপোর্টার: বর্ষার কদম ফুল বাঙালির অনুভূতির এক অনন্য অংশ। তবে সচরাচর হলুদ বা সাদা কদমের দেখা মিললেও এবার বগুড়ায় নজর কেড়েছে বিরল প্রজাতির ‘লাল কদম’। সাধারণ কদমের মতোই গঠন হলেও এর পাপড়িতে রয়েছে রক্তিম ও প্রগাঢ় গোলাপির আভা।

বগুড়া ফয়েজউল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও উদ্যমী ছাদবাগানী মৌসুমী আকতার এই বিরল সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলেছেন। প্রায় পাঁচ বছর আগে ঢাকা থেকে গাছটি সংগ্রহ করে নিবিড় পরিচর্যা ও ভালোবাসায় তিনি এটিকে এক নান্দনিক বনসাইয়ে রূপ দিয়েছেন। সম্প্রতি বগুড়া শহীদ টিটু মিলনায়তনে আয়োজিত বৃক্ষমেলায় তার লাল কদম বনসাইটি দর্শনার্থীদের মূল আকর্ষণে পরিণত হয়।

৫ হাজার টাকা দাম হাঁকানো এই গাছের সাথে দর্শনার্থী ও শিক্ষার্থীরা ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করছেন। ছোটবেলা থেকেই বাগানপ্রেমী মৌসুমী বিয়ের পর নিজের ছাদে তিল তিল করে গড়ে তুলেছেন দেশি-বিদেশি নানা দুর্লভ গাছের সংগ্রহ।

তার বাগানে রয়েছে হলুদ শিমুল, পলাশ, আলু বোখারা, জয়তুন, ডেউয়া, করসল, ননী ফল, পদ্ম-শাপলা এবং ২০ বছরের বট-পাকুড় বনসাই। বিলুপ্তপ্রায় ও ওষুধি গাছ সংরক্ষণের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এগুলোর সাথে পরিচিত করানোই তাঁর উদ্দেশ্য। এ কাজে তাঁকে সার্বিক সহায়তা করেন তাঁর স্বামী ও কন্যা।

মৌসুমী আকতার কেবল শখের বশেই বাগান করছেন না, এটিকে তিনি সফলভাবে বাণিজ্যিক রূপও দিয়েছেন। তাঁর অনলাইন পেজ ‘আরণ্যক’-এর মাধ্যমে তিনি বিভিন্ন বিরল জাতের চারা ও ইনডোর প্লান্ট বিক্রি করেন। সপ্তাহের ছুটির দিনগুলোতে বহু মানুষ তাঁর বাগান দেখতে আসেন এবং চারা সংগ্রহ করেন।

বগুড়ার সচেতন মহলের মতে, মৌসুমী আকতারের এই উদ্যোগ শহরের ইট-পাথরের ছাদে যেমন সবুজের ছোঁয়া বাড়াচ্ছেন, তেমনি তরুণ ও নারীদের কৃষি উদ্যোক্তা হতে এবং লাল কদমের মতো দুর্লভ উদ্ভিদ সংরক্ষণে অনুপ্রাণিত করছেন।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/178684