সামান্য বৃষ্টিতেই ছাদ চুয়ে পানি, দুর্ভোগে বগুড়া সোনাতলার ইউনাইটেড উচ্চ বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা
সোনাতলা (বগুড়া) প্রতিনিধি : একটু বৃষ্টি হলেই শ্রেণিকক্ষের ছাদ চুয়ে টপটপ করে পানি পড়ে। বেঞ্চে বসে থাকা শিক্ষার্থীরা বই-খাতা বাঁচাতে এক বেঞ্চ থেকে আরেক বেঞ্চে ছুটে বেড়ায়। কখনো আবার শ্রেণিকক্ষ ছেড়ে বারান্দায় আশ্রয় নিতে হয়। এমনই দুর্ভোগের চিত্র বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার ইউনাইটেড উচ্চ বিদ্যালয়ে।
১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত স্কুলটি ১৯৯৪ সালে প্রায় ১ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি একাডেমিক ভবন নির্মাণ করে ফ্যাসালিটিজ বিভাগ। তিন কক্ষবিশিষ্ট ওই ভবনের দুইটি শ্রেণিকক্ষে বৃষ্টি এলেই ছাদ চুয়ে পানি পড়ে শ্রেণিকক্ষ দু’টি পড়ালেখা অনুপযোগি হয়ে পড়ে। এমনকি বৃষ্টির পানি পড়ে শিক্ষার্থীদের বই খাতা, পাঠ্যসামগ্রী ও বিদ্যালয়ের আসবাবপত্র নষ্ট হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।
এ বিষয়ে ওই বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী হাবিবা খাতুন, মনিরা খাতুন, জেরিন, নিশানা বলে, বৃষ্টি শুরু হলেই ক্লাসে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক সময় বেঞ্চ ভিজে যাওয়ায় দাঁড়িয়ে বা অন্য কক্ষে গিয়ে পাঠ গ্রহণ করতে হয়। এতে পাঠদান ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় অভিভাবকরা বলেন, বহুদিন ধরে বিদ্যালয়ের ভবন সংস্কারের প্রয়োজন হলেও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। শিক্ষার মান উন্নয়নে সরকার নানা পদক্ষেপ নিলেও অবকাঠামোগত সমস্যার কারণে এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এখনও মৌলিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত।
এ বিষয়ে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলাম বলেন, ছাদ সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা বিভিন্ন সময়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দ্রুত সংস্কারকাজ বাস্তবায়ন হলে শিক্ষার্থীরা নিরাপদ ও স্বস্তিকর পরিবেশে পাঠগ্রহণ করতে পারবে।
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শেখ নজমুল হক বলেন, এটি একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানে প্রায় হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে। ভবনটি দ্রুত সংস্কার করতে ফ্যাসালিটিজ বিভাগের অর্থ বরাদ্দ দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও স্কুলের সভাপতি স্বীকৃতি প্রামানিক বলেন, খুব অল্প সময়ের মধ্যে ওই বিদ্যালয়ের পশ্চিম পার্শ্বে সীমানা প্রাচীরের কাজ শুরু হবে। পর্যায়ক্রমে ভবনটি সংস্কার করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/178562