ককরোচ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ-এর বাবার সম্পত্তি নিয়ে তদন্তের দাবি

ককরোচ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ-এর বাবার সম্পত্তি নিয়ে তদন্তের দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভারতের ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের বাবার আর্থিক লেনদেন ও সম্পত্তির বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত দাবি করেছেন গুজরাটের সুরাট শহরের এক তথ্য অধিকার (আরটিআই) কর্মী। মহারাষ্ট্র সরকারের একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী হওয়া সত্ত্বেও তিনি কীভাবে ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়ে উচ্চশিক্ষার খরচ জুগিয়েছেন- তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ওই অধিকারকর্মী।

ভারতের নির্বাচন কমিশন (ইসিআই) এবং কর কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত চিঠি দিয়ে আরটিআই কর্মী অমিত তিওয়ারি এই তদন্তের আবেদন জানান। একই সাথে তিনি ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র পুলিশি মামলার সম্মুখীন হওয়া আন্দোলনকারীদের আইনি সহায়তার জন্য বর্ষীয়ান আইনজীবী ও রাজ্যসভার সংসদ সদস্য কপিল শিবালের ঘোষিত ১ কোটি রুপি তহবিলের বিষয়াটিও গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখার দাবি জানান।

অমিত তিওয়ারি জানান, অভিজিৎ দীপকের বাবা ভগবানরাও দীপকে মহারাষ্ট্র সরকারের একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ছিলেন। একজন সরকারি কর্মকর্তার সীমিত আয়ে সন্তানকে বিদেশে পাঠিয়ে পড়াশোনা করানোর পেছনে কোনো আর্থিক অসঙ্গতি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

পাশাপাশি, ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র রাজনৈতিক বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিওয়ারি। একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে নিজেদের পরিচয় দিয়ে এমন সংস্থা তহবিল গ্রহণ করতে পারে কি না, সে বিষয়েও আলোকপাত করেন তিনি।

অমিত তিওয়ারি বলেন, ককরোচ জনতা পার্টি একটি অনিবন্ধিত সংস্থা হওয়া সত্ত্বেও তারা একটি রাজনৈতিক দলের ব্যানারে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। যদি এই সংস্থাকে আইনি সহায়তা হিসেবে ১ কোটি রুপি দেওয়ার অঙ্গীকার করা হয়ে থাকে, তবে নির্বাচন কমিশনের উচিত অবিলম্বে যাচাই করা যে সিজেপি ১৯৫১ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ২৯এ ধারার অধীনে নিবন্ধিত কি না।

তিনি আরও যোগ করেন, সংস্থাটি যদি নিবন্ধিত না হয়, তবে রাজনৈতিক দলের নাম ব্যবহার করে এর কার্যক্রম চালানো ও তহবিল সংগ্রহ করা বা গ্রহণ করার বিষয়টি আইনের আওতায় এনে পরীক্ষা করা আবশ্যক।

এখানেই ক্ষান্ত না হয়ে অমিত তিওয়ারি ‘সেন্ট্রাল বোর্ড অব ইনডাইরেক্ট ট্যাক্সেস অ্যান্ড কাস্টমস’র (সিবিআইসি) কাছেও আবেদন জানিয়েছেন। সেখানে তিনি প্রশ্ন তোলেন, আন্দোলনকারীদের আইনি সহায়তা দিতে কপিল শিবালের প্রস্তাবিত এই অনুদানের ওপর জিএসটি (পণ্য ও সেবা কর) প্রযোজ্য হবে কি না, তা যেন খতিয়ে দেখা হয়।

উল্লেখ্য, মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা ‘নিট’ (NEET) প্রশ্নপত্র ফাঁস বিতর্কের জেরে দিল্লি পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়া আন্দোলনকারীদের আইনি সহায়তা দিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ একটি বিশেষ তহবিল গঠন করে। গত ২৭ জুলাই বর্ষীয়ান আইনজীবী কপিল শিবাল সেই তহবিলে ১ কোটি রুপি অনুদান দেওয়ার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছিলেন।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/178557