জয়পুরহাটে হিমাগারে সংরক্ষণের ৪ মাস পরও আলুর দাম নেই

জয়পুরহাটে হিমাগারে সংরক্ষণের ৪ মাস পরও আলুর দাম নেই

জয়পুরহাট জেলা প্রতিনিধি: জয়পুরহাটে হিমাগারে সংরক্ষণের চার মাস পরও আলুর দাম নেই। বর্তমানে ৬০ কেজির এক বস্তা আলু বিক্রি হচ্ছে ৯৫০ থেকে ১ হাজার টাকা। অথচ এই এক বস্তা আলু হিমাগারে সংরক্ষণ করতে হিমাগার ভাড়াসহ তাদের খরচ হয়েছে ১ হাজার ৪০০ টাকা। অর্থাৎ বর্তমান বাজার অনুযায়ী প্রতি বস্তা আলু বিক্রি করে কৃষকরা লোকসান গুনছেন ৪৫০ টাকা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে,জয়পুরহাটে এ বছর ৩৯ হাজার ৩৩০ হেক্টর জমি থেকে আলু উৎপাদন হয়েছে ৯ লাখ ৩০ হাজার মেট্রিক টন। গত বছরের তুলনায় এবার চাষ করা জমির পরিমান প্রায় ৫ হাজার হেক্টর কম। কিন্তু তারপরেও মৌসুম শেষে  আলুর দাম না থাকায় চরম লোকসানে পড়ে আলু চাষিরা।

জেলার ২২টি হিমাগারে এবার আলু মজুদের পরিমাণ ২ লাখ ১৫ হাজার ৯৮২ মেট্রিক টন। কিন্তু সংরক্ষণের চার মাস পরও আলুর চাহিদা এবং দাম না থাকায় আলু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। বর্তমানে আমন ধান চাষের মৌসুম চলছে। এই ধান চাষের খরচ জোগাতে সাধারণত কৃষকরাএই সময়ে হিমাগারে সংরক্ষণ করা আলু বিক্রি করেন। কিন্তু দাম না থাকায় বিক্রি করতে পারছেন না।

ফলে ধান চাষের খরচ নিয়ে তারা হিমশিম খাচ্ছেন।ব্যবসায়ীরা বলছেন, ৬০ কেজির এক বস্তা আলুর দাম ৯৫০ টাকা হলেও পরিবহন খরচসহ ঢাকার মোকামগুলোতে আলু সরবরাহ করে  তাদের লোকসান হচ্ছে। আলুর চাহিদা না থাকায় দাম পাওয়া যাচ্ছে না।

ফলে হিমাগারে আলু বিক্রিও কমে গেছে। জয়পুরহাট সদর উপজেলার হিচমি গ্রামের কৃষক আবু তাহের বলেন,‘লাভের আশায় এবার হিমাগারে দেড়’শ বস্তা আলু রেখেছি। কিন্তু দাম কম হওয়ায় বিক্রি করতে পারছি না’।

ক্ষেতলাল উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের কৃষক লাকি হোসেন বলেন, ২০০ বস্তা আলু কালাইয়ের মোলামগাড়িহাট নর্থপোল হিমাগারে সংরক্ষণ করতে হিমাগার ভাড়াসহ তার মোট খরচ হয়েছে ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা। টাকার প্রয়োজনে চার মাস পর শুক্রবার সেই আলু বিক্রি করে পেয়েছি ১ লাখ ৯৬ হাজার টাকা। 
কালাই উপজেলার মোলামগাড়ি হাটের বিশিষ্ট আলু ব্যবসায়ী মাসুদুর রহমান বলেন,হিমাগার থেকে প্রতিদিন আমরা ট্রাকে ট্রাকে অ্যাস্টেরিক জাতের আলু ঢাকায় সরবরাহ করছি। কিন্তু লাভ হচ্ছে না। মোকামেও আলুর দাম কম। প্রতি ট্রাকে প্রায় ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা তাদের লোকসান হচ্ছে বলে তিনি জানান।

কালাই উপজেলার মোলামগাড়ি হাট নর্থপোল হিমাগারের ব্যবস্থাপক মনোয়ার হোসেন বলেন, গত মার্চ মাসে হিমাগারে সংরক্ষণ করা ১ লাখ ৮০ হাজার বস্তা আলুর মধ্যে ৪৩ হাজার বস্তা আলু কৃষকরা বিক্রি করেছেন। কিন্তু আলুর দাম কম হওয়ায় খুব কম কৃষক আলু বিক্রি করতে আসছেন।

এ অবস্থায় আলুর মজুদ নিয়ে আমরাও শঙ্কিত। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরর উপ-পরিচালক এ.কে.এম সাদিকুল ইসলাম বলেন,চাহিদার তুলনায় উৎপাদন বেশি হওয়ায় আলুর দাম কমেছে। তবে আলুর দাম বৃদ্ধির জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে কৃষি বিভাগ কাজ করছে।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/178540