বিশ্ব বাঘ দিবস আজ
আজ (২৯ জুলাই) বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক বাঘ দিবস। এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য- ‘সবাই হই সচেতন, বাঘ করি সংরক্ষণ’। বাঘের প্রাকৃতিক আবাসস্থল সংরক্ষণ এবং এ প্রাণী রক্ষায় জনসচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে প্রতিবছর ২৯ জুলাই বিশ্ব বাঘ দিবস পালন করা হয়। ২০১০ সালে রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক বাঘ সম্মেলনে এ দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
দিবসটি উপলক্ষে শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, সচেতনতামূলক র্যালি এবং আলোচনা সভা করা হবে।। এসব আয়োজনের মাধ্যমে বাঘ সংরক্ষণে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন এবং বিলুপ্তপ্রায় রয়েল বেঙ্গল টাইগারের অন্যতম প্রধান আবাসস্থল বাংলাদেশের সুন্দরবন। বনাঞ্চলের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় শীর্ষ শিকারি হিসেবে বাঘের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে বন উজাড়, আবাসস্থল সংকুচিত হওয়া, খাদ্যের সংকট, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব এবং চোরাশিকার এসব কারণে দীর্ঘদিন ধরেই বাঘের অস্তিত্ব নানা হুমকির মুখে রয়েছে।
বন বিভাগের সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, সুন্দরবনে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়ছে। ২০১৪ সালের জরিপে যেখানে বাঘের সংখ্যা ছিল ১০৬টি, ২০১৮ সালের জরিপে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১১৪টিতে। সর্বশেষ ২০২৪ সালে ক্যামেরা ট্র্যাপিং পদ্ধতিতে পরিচালিত জরিপে সুন্দরবনে ১২৫টি বাঘের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে।
এ ছাড়া বন বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, সুন্দরবনের প্রতি ১০০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় বর্তমানে গড়ে প্রায় ২ দশমিক ১৭টি বাঘ রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কার্যকর সংরক্ষণ কার্যক্রম, টহল জোরদার এবং চোরাশিকার নিয়ন্ত্রণের ফলে বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধির এই ধারা অব্যাহত রাখা সম্ভব হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সুন্দরবনের বাঘ সংরক্ষণ মানে শুধু একটি বিপন্ন প্রাণীকে রক্ষা করা নয়, বরং বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন, তার সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্য এবং উপকূলীয় পরিবেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তাই চোরা শিকার ও পাচার বন্ধ, খাদ্যশৃঙ্খল সংরক্ষণ, বন ধ্বংস রোধ এবং স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণই সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগারের নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পারে।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/178019