জয়পুরহাট-পাঁচবিবি সড়কে কার্পেটিংয়ের ৩ মাসেই গর্তের সৃষ্টি
জয়পুরহাট জেলা প্রতিনিধি : জয়পুরহাট-পাঁচবিবি-হিলি সড়ক সংস্কার কাজ শেষ হওয়ার মাত্র তিন মাস পর জয়পুরহাট শহর থেকে পুরানাপৈল বাইপাস পর্যন্ত সড়কটির প্রায় তিন কিলোমিটার অংশ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। সড়কের মাঝখান থেকে পিচ ওঠে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্তের।
আবার বেশ কিছু জায়গা দেবেও গেছে। জোড়াতালি দিয়ে সড়কের সেই নষ্ট জায়গাগুলো মেরামতের কাজ চলছে। তবে জেলার সড়ক ও জনপথ (সওজ) কর্তৃপক্ষের দাবি, অতি বৃষ্টির পাশাপাশি সড়কের দুই পাশের পানি নিষ্কাশনের পথ না থাকায় বৃষ্টির পানি জমে সড়কটির তিন কিলোমিটার অংশ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। যা দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পুনরায় মেরামত করার কাজ চলমান আছে।
সওজ সূত্রে জানা গেছে, জয়পুরহাট-পাঁচবিবি-হিলি আঞ্চলিক মহাসড়কের ১৯ কিলোমিটার অংশ সংস্কারের দরপত্র আহবান করা হলে ২ কোটি ৬৯ লাখ ১৪ হাজার ৫৩৪ টাকা বরাদ্দের কার্যাদেশ দেওয়া হয় এস. অনন্ত বিকাশ ত্রিপুরা লিমিটেড নামের খাগড়াছড়ির একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে।
চুক্তি মোতাবেক সড়কটির জয়পুরহাট শহর হতে পুরানাপৈল বাইপাস পর্যন্ত চার কিলোমিটার অংশে নতুন কার্পেটিং এবং বাকি ১৫ কিলোমিটার অংশে প্যাচিং ও আংশিক মেরামত করা হয়। গত ১৪ জানুয়ারী শুরু হওয়া কাজটি এপ্রিলে সম্পন্ন করা হয়।
কিন্তু কাজ শেষ হওয়ার মাত্র তিন মাস পর সড়কটির শহর থেকে পুরানাপৈল বাইপাস পর্যন্ত তিন কিলোমিটার অংশের অধিকাংশ জায়গায় পিচ ওঠে এবং অনেক জায়গা দেবে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি সমাধানের জন্য সওজের পক্ষ থেকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নোটিশ দেওয়া হয়।
সরেজমিনে জয়পুরহাট শহরের পারুলিয়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায় সড়কটির বেশ কিছু অংশে শ্রমিকরা সড়কের পিচ তুলে তাতে নতুন করে পাথর ও পিচ দিয়ে মেরামত করছেন। গত কয়েকদিন ধরেই সড়কটির ক্ষতিগ্রস্থ অংশে পুনরায় মেরামতের কাজ চলছে বলে জানান স্থানীয় দোকানি গোলাম মোস্তফা। বিজিবি ক্যাম্পের পাশেই তার দোকান।
তিনি বলেন, কাজটা ভালো না হওয়ায় সড়কের মাঝখান থেকে পিচ ওঠে যাচ্ছে। রাতে হিলি স্থল বন্দর থেকে আসা বড় বড় ট্রাক এই সড়কে যাতায়াত করে। তাই সড়ক জায়গায় জায়গায় দেবে ও ভেঙ্গে গেছে। ঠিকাদার নাজমুল হক মাসুম বলেন, চুক্তি অনুযায়ী এক বছরের মধ্যে কোনো ত্রুটি দেখা দিলে সেটি আমাদেরই মেরামত করতে হবে। আমরা ক্ষতিগ্রস্থ অংশ মেরামতের জন্য পুনরায় কাজ শুরু করেছি। ইতোমধ্যে বেশ কিছু অংশের কাজ শেষ হয়েছে।
জয়পুরহাট সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাজস খাঁন সাংবাদিকদের বলেন, কয়েকদিনের ঘন বৃষ্টির কারণে সড়কটির বেশকিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। যা সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার মেরামত করছেন। শতভাগ কাজ বুঝে না পেলে তার জমা রাখা সিকিউরিটির অর্থ সমন্বয় করা হবে।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/177963