ঠাকুররগাঁওয়ে পানিতে ডুবে সাত মাসে প্রাণহানি ৪৪

ঠাকুররগাঁওয়ে পানিতে ডুবে সাত মাসে প্রাণহানি ৪৪

ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি: নদী ও পুকুরবেষ্টিত ঠাকুরগাঁও জেলায় আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা। জেলার ৩৬টি নদের ৬৯২ দশমিক ৪ কিলোমিটার নদীপথ এবং প্রায় ২১ হাজার পুকুর-জলাশয় যেন স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য বিষাদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এদিকে, জেলায় ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের পাঁচটি কেন্দ্র থাকলেও কোনো ডুবুরি দল না থাকায় দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালানো সম্ভব হয় না।

স্থানীয়দের অভিযোগ, জেলা শহরে কোনো ডুবুরি দল না থাকায় খবর দেওয়া হয় বিভাগীয় শহর রংপুরে। সেখানকার ডুবুরি দল যখন ঘটনাস্থলে পৌঁছায়, ততক্ষণে আর কাউকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয় না। নদী থেকে কেবল মরদেহ তুলে আনা ছাড়া ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের আর করার কিছু থাকে না।

উদ্ধার অভিযানে বিলম্ব ও সক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কথা জানিয়ে জেলা ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক সাহিদুল ইসলাম বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ে বর্তমানে ফায়ার সার্ভিসের কোনো ডুবুরি পদ নেই। ফলে পানিতে পড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিক রংপুর থেকে ডুবুরি দলকে খবর দিতে হয়। কয়েক ঘন্টার এই দূরত্বর উদ্ধারকাজকে ব্যাহত করে।

ঠাকুরগাঁও পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আতিকুর রহমান জানান, ঠাকুরগাঁওয়ের ৩৬টি নদের মোট দৈর্ঘ্য ৬৯২ দশমিক ৪ কিলোমিটার। বর্ষাকালে বড় নদীগুলোতে পানির গভীরতা বেড়ে ২৫ থেকে ৩০ ফুট পর্যন্ত হয়, এমনকি শুষ্ক মৌসুমেও অনেক নদীতে ৫ ফুট পর্যন্ত পানিপ্রবাহ থাকে।

জেলার অভ্যন্তরীণ জলাশয়ের তথ্য দিয়ে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার সরকার জানান, জেলার পাঁচ উপজেলায় বাণিজ্যিক ও পারিবারিক মিলিয়ে প্রায় ২১ হাজার পুকুর-দীঘি রয়েছে। বর্ষায় এর বেশিরভাগই কানায় কানায় পূর্ণ থাকে। অনেক ক্ষেত্রে অপরিকল্পিত গভীর পুকুর খনন এবং সঠিক তদারকির অভাবে শিশুসহ সাধারণ মানুষ দুর্ঘটনার শিকার হন।

জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের জিআরও শাখা ও সংশি¬ষ্ট থানা সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ২ জানুয়ারি থেকে ২৭ জুলাই পর্যন্ত ঠাকুরগাঁওয়ের বিভিন্ন থানায় পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনায় মোট ৪৪টি অপমৃত্যু মামলা রেকর্ড করা হয়েছে।

সংশ্লিস্ট জিআরও ফরিদুজ্জামান জানান, বর্ষা মৌসুমে প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো এলাকা থেকে পানিতে ডুবে মৃত্যুর খবর আসে। নিহতদের মধ্যে শিশুসহ সকল বয়সী মানুষই রয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সরদার মোস্তফা শাহীন জানান, নদী ও খালের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে যাতে সাধারণ মানুষ সতর্ক থাকে, সে বিষয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। একইসাথে জেলায় জরুরি ভিত্তিতে ফায়ার সার্ভিসে স্থায়ী ডুবুরি পদ সৃষ্টি ও পদায়নের জন্য সংশি¬ষ্ট মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দাপ্তরিক চিঠি পাঠানো হবে।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/177876