পরবর্তী পরমাণু শক্তিধর হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে কারা?

পরবর্তী পরমাণু শক্তিধর হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে কারা?

আন্তর্জাতিক ডেস্কমধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মধ্যে স্বাক্ষরিত বহুল আলোচিত ‘সেকশন ১২৩’ পরমাণু সহযোগিতা চুক্তি। মার্কিন পরমাণু নীতিতে কিছু শর্ত শিথিল করে করা এই চুক্তির মাধ্যমে সৌদি আরবের বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচিতে মার্কিন প্রযুক্তি ও সরঞ্জাম ব্যবহারের পথ উন্মুক্ত হয়েছে। তবে চুক্তিটি এখনো যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের চূড়ান্ত পর্যালোচনার অপেক্ষায় রয়েছে।

চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট এবং সৌদি জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুল আজিজ বিন সালমান। এর ফলে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো সৌদি আরবের পারমাণবিক বিদ্যুৎ ও সংশ্লিষ্ট প্রকল্পে সরাসরি অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে।

তবে চুক্তির কিছু দিক নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সমালোচকদের মতে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ববর্তী পারমাণবিক চুক্তির মতো এখানে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বা ব্যবহৃত জ্বালানি পুনঃপ্রক্রিয়াকরণের ওপর একই ধরনের কঠোর সীমাবদ্ধতা রাখা হয়নি। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) অতিরিক্ত প্রটোকল গ্রহণের বাধ্যবাধকতাও চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত হয়নি বলে বিভিন্ন বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে আবারও আলোচনায় এসেছে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের আগের একটি বক্তব্য, যেখানে তিনি বলেছিলেন—ইরান যদি কখনো পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করে, তাহলে সৌদি আরবও একই পথে হাঁটবে। ফলে বিশ্লেষকদের একাংশের আশঙ্কা, ভবিষ্যতে সৌদি আরবের পারমাণবিক সক্ষমতা আরও বিস্তৃত হলে তা সামরিক মাত্রা পেতে পারে।

সমালোচকদের আরেকটি যুক্তি হলো, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র অতীতে নিষেধাজ্ঞা ও কঠোর অবস্থান নিলেও, ঘনিষ্ঠ মিত্র সৌদি আরবের ক্ষেত্রে তুলনামূলক নমনীয় নীতি অনুসরণ করছে। তাদের মতে, এ ধরনের ভিন্ন মানদণ্ড আন্তর্জাতিক পরমাণু বিস্তাররোধ নীতির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে।

অন্যদিকে সৌদি আরব বলছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির মূল লক্ষ্য ভিশন ২০৩০ কর্মপরিকল্পনার আওতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি, অর্থনীতির বহুমুখীকরণ এবং পানির লবণাক্ততা দূরীকরণসহ বেসামরিক উন্নয়ন। দেশটি আনুষ্ঠানিকভাবে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কোনো পরিকল্পনার কথা জানায়নি।

এদিকে ইসরায়েলও চুক্তিটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। দেশটির নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন পারমাণবিক সক্ষমতার বিকাশ ভবিষ্যতে আঞ্চলিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা আরও তীব্র করতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র একদিকে সৌদি আরবের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক আরও জোরদার করতে এবং চীন ও রাশিয়ার প্রভাব কমাতে চায়। তবে একই সঙ্গে এটি মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা, পারমাণবিক বিস্তাররোধ ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যৎ আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য নিয়ে নতুন প্রশ্নেরও জন্ম দিয়েছে।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/177874