আর্জেন্টিনাকে ফিফা সভাপতির চিঠি, পেশাদারিত্ব নিয়ে বিতর্ক

আর্জেন্টিনাকে ফিফা সভাপতির চিঠি, পেশাদারিত্ব নিয়ে বিতর্ক

স্পোর্টস ডেস্ক : বিশ্বকাপে রানার্সআপ হওয়া আর্জেন্টিনাকে চিঠি পাঠিয়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফ্যান্তিনো। চিঠির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর শুরু হয়েছে বিতর্ক। চিঠিতে আর্জেন্টিনার  ‘পেশাদারিত্ব’ ও অবদানের প্রশংসা করায় শুরু হয় বিতর্ক। 

কারণ, একই সময়ে বিশ্বকাপ ফাইনালের পর ঘটে যাওয়া বিশৃঙ্খল আচরণের ঘটনায় লিওনেল মেসিদের বিরুদ্ধে তদন্তও চালিয়ে যাচ্ছে ফিফা। ফাঁস হওয়া ওই চিঠিতে ইনফ্যান্তিনো আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) সভাপতি ক্লদিও তাপিয়াকে অভিনন্দন জানিয়ে দলটির প্রশংসা করেছেন। কিন্তু অনেকের প্রশ্ন, যে দলের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের তদন্ত চলছে, সেই দলকেই কীভাবে আবার ‘পেশাদার’ বলে অভিহিত করলেন ফিফা প্রধান?

আর্জেন্টিনার বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রথম প্রকাশিত এবং পরে ডেইলি মেইল-এর যাচাই করা ওই চিঠিতে ইনফান্তিনো লিখেছেন, ‘প্রিয় সভাপতি, ২০২৬ সালের ১৯ জুলাই নিউইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে রোমাঞ্চকর ম্যাচের পর আর্জেন্টিনা রৌপ্যপদক অর্জন করেছে। আর্জেন্টাইন ফুটবলের এই গুরুত্বপূর্ণ সাফল্যের জন্য আমি আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।’ তিনি আরও লেখেন, ‘২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবলের এক অবিস্মরণীয় উৎসব হয়ে থাকবে। দুর্দান্ত ম্যাচ, নতুন তারকার আবির্ভাব, কিংবদন্তিদের উপস্থিতি এবং দর্শকে পরিপূর্ণ স্টেডিয়ামের অসাধারণ পরিবেশ এই আসরকে স্মরণীয় করে রাখবে।’

তবে সবচেয়ে বেশি বিতর্ক তৈরি করেছে চিঠির সেই অংশ, যেখানে ইনফান্তিনো লিখেছেন যে আর্জেন্টিনার সাফল্য এসেছে ‘নিয়মিত পরিশ্রম, পেশাদারিত্ব এবং খুঁটিনাটির প্রতি মনোযোগ’ থেকে। তিনি বলেন, ‘আলবিসেলেস্তেদের অসাধারণ পারফরম্যান্স এই বিশ্বকাপকে ব্যতিক্রমী এক আসরে পরিণত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। খেলোয়াড়, কোচ লিওনেল স্কালোনি, কোচিং স্টাফ, মেডিক্যাল টিম এবং সমর্থকদের আমার অভিনন্দন জানাবেন। এই ধরনের সাফল্য আসে কঠোর পরিশ্রম, পেশাদারিত্ব, সূক্ষ্ম পরিকল্পনা, আবেগ, প্রতিশ্রুতি এবং ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা থেকে।’

কিন্তু সমালোচকদের মতে, এই মন্তব্য ফিফা’র বর্তমান অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। কারণ, ফাইনাল শেষে স্পেনের খেলোয়াড়দের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ার ঘটনায় আর্জেন্টিনার কয়েকজন ফুটবলার ও কোচিং স্টাফের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।

বিশ্বকাপ ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হারের পর মাঠে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ অনুযায়ী, আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো প্যারেদেস স্পেনের ডিফেন্ডার এরিক গার্সিয়ার ওপর চড়াও হন। ওই ঘটনায় নাহুয়েল মোলিনা, থিয়াগো আলমাদা এবং সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালার নামও উঠে এসেছে। এছাড়া পুরো নকআউট পর্বজুড়েই আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে সময়ক্ষেপণ, অযথা ফাউল আদায়, অভিনয় (সিমুলেশন) এবং ‘অ্যান্টি-ফুটবল’ কৌশল ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে।

ফাইনালেও এক পর্যায়ে লিওনেল মেসি রেফারি স্লাভকো ভিনচিচের কাছে স্পেনের ডিফেন্ডার মার্ক কুকুরেয়াকে লাল কার্ড দেখানোর দাবি জানান। কুকুরেয়া মুখ ঢেকে কথা বলছিলেন, যা নিয়ে মেসির আপত্তি ছিল। বিশ্বকাপ চলাকালে আর্জেন্টিনার কিছু খেলোয়াড় ও সমর্থক ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ (মালভিনাস) নিয়ে রাজনৈতিক বার্তা-সংবলিত ব্যানার প্রদর্শন করায় নতুন বিতর্কের জন্ম হয়। বিষয়টি যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন মহলে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছিল।

বিতর্কের মধ্যেও ইনফান্তিনো তার চিঠির শেষ অংশে আর্জেন্টিনার ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি লেখেন, ‘এই দল ভবিষ্যতের জন্য দারুণ ভিত্তি তৈরি করেছে। আমি নিশ্চিত, আর্জেন্টাইন ফুটবল সামনে আরও অনেক বড় সাফল্য অর্জন করবে। আগামী প্রতিযোগিতাগুলোর জন্য আপনাদের শুভকামনা জানাই এবং খুব শিগগিরই আবার দেখা হবে বলে আশা করছি।’

ফিফা সভাপতির এই চিঠি প্রকাশ্যে আসার পর ফুটবল মহলে প্রশ্ন উঠেছে, তদন্ত চলমান থাকা অবস্থায় একই দলের পেশাদারিত্বের এমন প্রকাশ্য প্রশংসা ফিফার নিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/177665