বর্ষার বৃষ্টিতে বগুড়ার বাজারে উত্তাপ

বর্ষার বৃষ্টিতে বগুড়ার বাজারে উত্তাপ

স্টাফ রিপোর্টার : বর্ষার বৃষ্টিতে বগুড়ার বাজারে বেড়েছে বেশিরভাগ সবজির দাম। কোন কোন সবজির দাম তিন থেকে চারগুণ পর্যন্ত বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত কয়েক দিনের টানাবৃষ্টিতে উত্তরাঞ্চলের সর্ববৃহৎ সবজির পাইকারি বাজার মহাস্থানে সরবরাহ কমেছে। মহাস্থানসহ স্থানীয় হাট-বাজারে সবজির সরবরাহ ঘাটতিতে প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে। 

বৃহস্পতিবার বগুড়া শহরের ফতেহ আলী বাজারসহ বেশিরভাগ বাজার ঘুরে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি বেড়েছে কাঁচামরিচের দাম। গত দুই সপ্তাহ আগে বগুড়ার বাজারগুলোতে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ৬০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে তা ২৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও পেঁয়াজ কেজিতে ১৫ টাকা পর্যন্ত বেড়ে ৫০ টাকা, পটল কেজিতে চারগুণ পর্যন্ত বেড়ে ৬০ টাকা, বেগুন ১২০, শশা মানভেদে ৮০ থেকে ১৪০, করলা ১২০, ঢেড়স ৮০, চিচিংগা ৬০, ঝিংগা ও গাজর ১০০, টমাটো ১৪০, আদা মানভেদে ১৪০ থেকে ১৬০, রসুন মানভেদে ১০০ থেকে ১৬০, শুকনামরিচ মানভেদে ৪০০ থেকে ৫০০, ২০ টাকা পিসের চালকুমড়ার দাম বেড়ে প্রতিটি ৬০ টাকা, আলু প্রতি কেজি মানভেদে ২৫ থেকে ৪০, পেঁপেঁ ২৫ থেকে ৩০ এবং মিষ্টিকুমড়া ৪০ টাকা কেজি বিক্রি হতে দেখা যায়। 

জানতে চাইলে শহরের ফতেহ আলী বাজারের ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম বলেন, টানা বৃষ্টিতে মাঠে থাকা কৃষকের বেশিরভাগ সবজির ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। বিশেষ করে নিচু জমির কোন সবজির গাছই আর টিকে নেই। ফলে মহাস্থানসহ স্থানীয় হাট-বাজারে সরবরাহ ঘাটতি দেখা দিয়েছে। চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ কম থাকায় হাটগুলোতে পাইকারদের মধ্যে সবজি কেনা নিয়ে প্রতিযোগিতা তৈরি হয়। এতে করে সবজির দাম পাইকারিতেই কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ায় প্রভাব পড়ছে খুচরা পর্যায়ে। 

এদিকে বৃষ্টির প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে ডিম, মুরগি ও মাছের বাজারেও। আজ বগুড়ার বাজারগুলোতে প্রতি হালি ফার্মের ডিম ৪২ থেকে ৪৪ টাকায় বিক্রি হয়। হালিতে ২ থেকে ৪ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এছাড়াও সব ধরনের ফার্মের মুরগির কেজিতে বেড়েছে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত। পাকিস্তানি ককরেল মুরগি প্রতি কেজি ৩০০ টাকা, কালারবার্ড ২৮০ টাকা এবং ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৮০ টাকায় বেচাকেনা হতে দেখা যায়। 

বর্ষাকালে নদী-নালা, খাল-বিল, পুকুরে মাছ আহরণ বেশি হলেও বাড়তি দামে পুড়ছে বাজার। এদিন এক থেকে দেড় কেজি ওজনের রুই মাছ ৩৩০ থেকে ৩৫০ টাকা, আড়াই থেকে তিন কেজি ওজনের কাতল মাছ ৩৪০ থেকে ৩৫০ টাকা, পাবদা মানভেদে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা, টেংরা ৪৫০ থেকে ৮০০ টাকা, শিং ৩৫০ থেকে ৬০০ টাকা, চিংড়ি ৮০০ টাকা এবং টাকি মাছ ৬০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন, বৃষ্টির কারণে বাজারে মাছের সরবরাহ কম। পাইকাররা প্রতিযোগিতা করে বেশি দামে মাছ কিনছেন, ফলে খুচরাতে মাছের দাম বেশি। 

তবে শ্রাবণের বৃষ্টিতে বেশিরভাগ চাল দাম স্থিতিশীল থাকলেও বেড়েছে কাটারিভোগ চালের দাম। বগুড়ার ফতেহ আলী বাজারে প্রতি কেজি বিআর আটাশ চাল ৫২ থেকে ৫৫, রঞ্জিত ও স্বর্ণা ৫০ থেকে ৫২ এবং নাজিরশাইল চাল ৮৬ থেকে ৮৮ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়। তবে কাটারিভোগ চালের কেজিতে বেড়েছে দুই থেকে চার টাকা পর্যন্ত। গত সপ্তাহেও প্রতি কেজি এই জাতের চাল ৭০ থেকে ৭২ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে তা দাম বেড়ে ৭৪ থেকে ৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। 
এই বাজারের চাল ব্যবাসয়ী মিন্টু চন্দ্র দাস জানান, মোকামে প্রতি ৫০ কেজির কাটারিভোগ চালের বস্তাতে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত দাম বাড়িয়ে কিনতে হচ্ছে। মূলত এই জাতের ধানের দাম বাড়ার কারণেই প্রভাব পড়েছে চালের বাজারে।    

 

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/177384