বগুড়ার দুপচাঁচিয়ার পিএসবিএ আইডিয়াল নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয় ৩০ বছরেও এমপিও ভুক্ত হয়নি 

বগুড়ার দুপচাঁচিয়ার পিএসবিএ আইডিয়াল নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয় ৩০ বছরেও এমপিও ভুক্ত হয়নি 

দুপচাঁচিয়া (বগুড়া) প্রতিনিধি: বগুড়া দুপচাঁচিয়া উপজেলার গুনাহারে পিএসবিএ আইডিয়াল নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার ৩০ বছরেও এমপিও ভুক্ত হয়নি। বিদ্যালয়ে কর্মরত ৮জন শিক্ষক-কর্মচারী মানবেতর জীবন যাপন করছে। অপরদিকে বিদ্যলয়টিতে লাগেনি উন্নয়নের কোন ছোঁয়া। প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর অভাবে জরাজীর্ণ ভবনের ঝুঁকি নিয়ে ছাত্র-ছাত্রীরা নিয়মিত ক্লাস করছে। 

উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার উত্তরে গুনাহার ইউনিয়নের নিভৃত পল্লী এলাকা মজিদনগরে পিএসবিএ আইডিয়াল নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়টি অবস্থিত। এলাকার শিক্ষানুরাগী বীরমুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ আব্দুল মজিদসহ কিছু ব্যক্তির আন্তরিক প্রচেষ্টায় ১৯৯৭ সালে ১ একর ২০ শতক জমির উপর বিদ্যালয়টি স্থাপিত হয়। ২০০১ সালে ৬ষ্ঠ থেকে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদানের অনুমতি লাভ করে। ২০০৪ সালে বিদ্যালয়টি স্বীকৃতি লাভ করে। এরপর থেকে শুরু হয় বিদ্যালয়টির খুড়িয়ে খুড়িয়ে পথ চলা। বিদ্যালয়টিতে বর্তমান ১‘শ ৩১ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত রয়েছে। 

শিক্ষক-কর্মচারী ৬ জনসহ তৃতীয় শ্রেণির ২ জন কর্মরত রয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিদ্যালয়টির ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ আব্দুল মজিদ জানান, ১৯৯৭-৯৮ অর্থবছরে বিদ্যালয়টিতে ৬ কক্ষ বিশিষ্ট পাকা দেওয়াল টিনের ছাওনির ঘর নির্মান করা হয়। এর মধ্যে ১টি অফিস কক্ষ, ৪টি শ্রেণি কক্ষ ও ১টি কমনরুম হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। দীর্ঘদিন যাবৎ ভবনটি মেরামত না করায় দেওয়ালে ফাটল ধরেছে। টিনগুলো ছিদ্র হয়ে  গেছে। একটু বৃষ্টি হলেই ঘরের মধ্যে পানি পরে। জরাজীর্ণ পুরাতন ভবনটি সংস্কারের সরকারি কোন অনুদানও আসেনি। এছাড়াও বিদ্যালয়টি এমপিও ভুক্ত করার জন্য বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জায়গায় ধর্না ধরে বার বার ব্যর্থ হয়েছেন। ফলে শিক্ষক-কর্মচারিরা বেতন না পাওয়ায় তারা মানবেতর জীবনযাপন করছে। 

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রউফ খান জানান, যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো হওয়ায় বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা বাড়ছে। এই বিদ্যালয়ে অধ্যায়ন করে অনেক শিক্ষার্থী সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে চাকরি করছে। কিন্তু দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছরেও তাদের বিদ্যালয়টি এমপিও ভুক্ত না হওয়ায় তারা সরকারি বেতন ভাতা থেকে বঞ্চিত। তিনি বিদ্যালয়টি এমপিও ভুক্তসহ জরাজীর্ন ভবন মেরামত ও নতুন একটি একাডেমিক ভবন নির্মানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপও কামনা করেছেন।    

 

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/177369