বগুড়া মহানগরের চাঁদনীবাজার ফল ব্যবসায়ীদের অবস্থান
শহর প্রতিনিধি (বগুড়া) : বগুড়া মহানগরের যানজট নিরসনে সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহি ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে নিয়োগকৃত স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে অভিযান ও হকার, ফুটপাত ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ অভিযান চলছে নিয়মিত।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গতকাল বুধবার (২২ জুলাই) রাতে মহানগরের চাঁদনীবাজার এলাকায় স্বেচ্ছাসেবকরা দায়িত্বপালন করাকালে ফুটপাতসহ চুড়িপট্টির সামনে থেকে সড়ক দখল করা মালামাল নিয়ে ব্যবসায়ীদের স্থান ত্যাগ করতে বললে বাকবিতন্ডা ও ধস্তাধস্ততির ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবক হেনস্তার হাত থেকে বাঁচতে দৌড়ে নিরাপদে চলে গেলেও শাকিল নামের একজন স্বেচ্ছাসেবককে লাঞ্চিত করা হয়।
বগুড়ার সদর ট্রাফিক প্রধান মো. সালেক উজ-জামান খাঁন ঘটনাটি নিশ্চিত করে বলেন, আজ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকাল থেকে ওই এলাকায় লাঠি-সোটা নিয়ে সিটি কর্পোরেশনের স্বেচ্ছাসেবকদের বাধা দিতে অবস্থান নেন ভ্রাম্যমাণ ফল ব্যবসায়ীরা। এমন পরিস্থিতির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে অভিযানে নামে পুলিশ। ঘটনার সত্যতা পেয়ে পরবর্তীতে ফল ব্যবসায়ীদের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেনের উপস্থিতিতে ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও প্রশাসনের মধ্যস্থতা হলে মার্কেট সংলগ্ন ওই এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
এদিকে, ব্যবসায়ীদের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন বলেন, গতরাতে যারা এসেছিলেন তারা স্বেচ্ছাসেবক নন। সিটি কর্পোরেশনের কোন স্বেচ্ছাসেবককে লাঞ্চিত করা হয়নি, যারা এসেছিলেন তাদের ইউনিফর্ম ছিলো না। আগামী রোববার সকালে সকল ফলব্যবসায়ীর জরুরি বৈঠকের আহবান করেন এই ব্যবসায়ী নেতা ।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বৈঠক শেষে তিনি সিটি প্রশাসকরের কাছে ফুটপাতে ফল ব্যবসা করা সকলের জন্য মানবিক আবেদন করবেন। সিটি প্রশাসন যাদের নিয়োগ দিয়েছেন তাদের তারা কোন হেনস্তা করেননি। তারা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আগামী তিনদিন কাঁঠালতলাসহ মহানগরের মাটিডালী, তিনমাথা, সাতমাথা, স্টেশন রোডসহ বিভিন্ন পয়েন্টে ফুটপাতে ফল বিক্রি বন্ধ রাখবেন তারা। তবে, যেহেতু কাঁচামাল তা যেনো নষ্ট না হয়; যার কাছে যতটুকু আছে তা আজকের মধ্যে শেষ করার জন্য ব্যবসায়ীদের আহবান জানান তিনি। সেই সাথে তিনি আরও বলেন, আমাদের ক্ষতি করে হলেও প্রশাসকের সামনে পরিষ্কার করতে চাই মূলত এই ভ্রাম্যমাণ ফল ব্যবসায়ীরাই যানজটের জন্য একমাত্র দায়ী নন, এজন্যই আগামী তিন দিন আমরা এই কর্মবিরতি পালন করব।
চাঁদনীবাজার এলাকায় যাতায়াতকারী কয়েকজন পথচারীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সিটি কর্পোরেশনের যানজট নিরসনের এমন পদক্ষেপে অনেকটাই স্বস্তি পাওয়া যায় এই পথে চলাফেরায়। তবে, পুলিশ-স্বেচ্ছাসেবক আর ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের এমন চোর-পুলিশ খেলাটা নাটকে পরিণত হয়েছে, এই সংস্কৃতির পরিবর্তন হওয়া প্রয়োজন। ফুটপাথে ভ্যানে করে কিংবা বিভিন্ন উপায়ে ফেরি করে যারা মালামাল বিক্রি করেন তারা সবাই প্রকৃত হকার নন, তাদের মধ্যে বেশিরভাগই স্থানীয় দোকনী ব্যবসায়ীদর কর্মচারী। প্রকৃত হকারদের পুর্নবাসন না করে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয় বলেও মত দেন কেউ কেউ।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/177340