গ্রাহকসেবায় গতি আনতে নেসকোর সদর দপ্তর বগুড়ায় স্থানান্তরের দাবি : মানববন্ধন বৃহস্পতিবার
স্টাফ রিপোর্টার: উত্তরাঞ্চলের সামগ্রিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থা পরিচালনা, অপচয় রোধ এবং ১৬টি জেলার গ্রাহকসেবা তরান্বিত করতে নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) পিএলসি-এর প্রধান কার্যালয় রাজশাহী থেকে বগুড়ায় স্থানান্তরের দাবি তীব্র হয়ে উঠেছে। বগুড়া ভৌগোলিকভাবে রাজশাহী ও রংপুরদুই বিভাগের মধ্যবর্তী সেতু হওয়ায় এখানে সদর দপ্তর হলে বছরে বেঁচে যাবে কোটি কোটি টাকা এবং কর্মঘণ্টা।
এদিকে এই দাবি বাস্তবায়নে আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকালে বগুড়া শহরের সর্বস্তরের জনগণের উদ্যোগে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নেসকো বর্তমানে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের ১৬টি জেলার ২৯টি উপজেলায় ৬০টি বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে।
বর্তমানে রাজশাহীর হেতেম খাঁ এলাকার একটি পুরাতন ভবনে কর্পোরেট সুবিধা ছাড়াই নেসকোর প্রধান কার্যালয় পরিচালিত হচ্ছে। ফলে রাজশাহী থেকে উত্তরে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া কিংবা দক্ষিণে চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং পূর্ব-দক্ষিণের পাবনা পর্যন্ত মনিটরিং করা চরম দুষ্কর হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে রংপুর জোনে রাজশাহীর তুলনায় ২ থেকে আড়াই শতাংশ বেশি সিস্টেম লস হচ্ছে যার পেছনে মূল কারণ ভৌগোলিক দূরত্ব।
নেসকোর তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, লালমনিরহাট জেলার বুড়িমারী কিংবা পাটগ্রামের মতো সীমান্ত এলাকাগুলো থেকে রাজশাহীর দূরত্ব প্রায় ২৩৫ কিলোমিটার। এই দূরত্বের কারণে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পক্ষে মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত তদারকি সম্ভব হয় না।
প্রতিনিয়ত যাতায়াতে জ্বালানি তেলের অপচয় এবং শত শত কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। অথচ ২০১৬ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত নেসকোর ৫১তম বোর্ড সভাতেই দুই বিভাগের সুবিধাজনক মধ্যবর্তী স্থানে প্রধান কার্যালয় স্থানান্তরের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
বগুড়ায় স্থানান্তরের শতভাগ ভৌত অবকাঠামো প্রস্তুত রয়েছে। পুরান বগুড়ায় নেসকোর নিজস্ব ৫১.৫৯ একর বিশাল ক্যাম্পাসে বর্তমানে নতুন ও পুরাতন মিলিয়ে দুটি দৃষ্টিনন্দন ৩-তলা ভবন, সুসংহত বিদ্যুৎ অবকাঠামো, বিশ্রামাগার ও আবাসিক ভবন রয়েছে। মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে অতিরিক্ত কোনো অর্থ খরচ না করেই এখানে ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ সব শীর্ষ কর্মকর্তার দপ্তর চালু করা সম্ভব।
সম্প্রতি এই গুরুত্ব বিবেচনা করে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে বগুড়ায় প্রধান কার্যালয় স্থানান্তরের একটি অনানুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠান। এর প্রেক্ষিতে বিদ্যুৎ বিভাগ গত ৩ মার্চ একটি উচ্চপর্যায়ের সম্ভাব্যতা যাচাই কমিটি গঠন করেছে।
গত ১৯ জুলাই নেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মশিউর রহমাননেসকোর হেড অফিস রাজশাহী হতে বগুড়ায় স্থানান্তর বিষয়ে মতামত দিয়ে বেশ কিছু আর্থিক ও প্রশাসনিক সুবিধা লিখেছেন। এই চিঠিতে তিনি ২০১৬ সালের নেসকোর ৫১তম সভার সিদ্ধান্তের আলোকে নেসকোর ভৌগলিক এরিয়ার রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের মধ্যেবর্তী স্থান বগুড়ায় নেসকোর প্রধান কার্যালয় করার বিষয়ে সুপারিশ করেছেন।
এ ব্যাপারে বগুড়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি এম এস এম আতিকুর রহমান বাদল দৈনিক করতোয়াকে বলেন, রাষ্ট্রের প্রয়োজনেই নেসকোর প্রধান কার্যালয়বগুড়ায় হওয়া প্রয়োজন। বগুড়া উত্তরাঞ্চলের কেন্দ্র বিন্দু। এই এলাকা থেকে এই অঞ্চলের ১৬ জেলার যাতায়াত সহজ। একারনে “সিস্টেম লস হ্রাস হবে, রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি, কোটি কোটি টাকার জ্বালানি খরচ সাশ্রয় হবে, কর্মকর্তা কর্মচারির কর্মঘন্টা সাশ্রয় হবে।
তিনি বলেন ২০১৬ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত নেসকোর ৫১তম বোর্ড সভায় দুই বিভাগের সুবিধাজনক মধ্যবর্তী স্থানে প্রধান কার্যালয় স্থানান্তরের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তৎকালীন আওয়ামীলীগ সরকার বগুড়ার কারণে তা করেনি। তিনি বলেন, বগুড়ায় দুটি নৌবন্দর হচ্ছে, বিমান বন্দর হচ্ছে, এখানে শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে। শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়তে নিরবিচ্ছন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ প্রয়োজন।
তিনি বলেন, শুধু নেসকোর প্রধান কার্যালয় নয় বগুড়ার আকাশ ক্যাবল মুক্ত করার দাবি রয়েছে বগুড়াবাসীর। সকল ক্যাবল আন্ডারগ্রাউন্ডে দিতে হবে। এই ব্যবসায়ী নেতা বলেন, বগুড়া থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ হোক বা তেতুলিয়া হোক প্রায় সমান দূরত্ব। রাজশাহী থেকে তেতুলিয়ার দূরত্ব প্রায় ৪শ কিলোমিটার। আর বগুড়া থেকে দূরত্ব প্রায় ২২০ কিলোমিটার। সব কিছু মিলিয়ে বগুড়া একটি মধ্য পয়েন্ট।
এ কারণে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বগুড়ায় নেসকোর প্রধান কার্যালয় করার প্রতি জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন, নেসকোর প্রধান কার্যালয় বগুড়ায় করার দাবিতে আজ সকাল সাড়ে ১০ টায় বগুড়ার সর্বস্তরের জনগণ মানববন্ধন করবে। গ্রাহকসেবা নিশ্চিত করতে নেসকোর হেড অফিস বগুড়ায় স্থানান্তর সময়ের দাবি।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/177269