বগুড়া সিটি’র উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা

বগুড়া সিটি’র উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা

শহর প্রতিনিধি (বগুড়া) : বগুড়ায় রেলওয়ের জমি বৈধভাবে লিজ নিয়ে বাণিজ্যিক ব্যবহারে বাধার সম্মুখীন হওয়ার অভিযোগ তুলে আজ বুধবার (২২ জুলাই) বগুড়া প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ছায়ফুল ইসলাম। 

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন,  বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি বৈধভাবে লিজ নিয়ে বাণিজ্যিক ব্যবহারে বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন তারা, ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসারের জন্য বগুড়া মহানগরের চকবৃন্দাবন মৌজার আরএস খতিয়ান নং-৩, আরএস দাগ নং-৭২৪ এর অধীনে ৯৬ শতাংশ (মোট ১.২৮ একর জমির অংশ) জমি রেলওয়ে থেকে নিয়ম মেনে বৈধভাবে লিজ (লাইসেন্স) গ্রহণ করেছেন। ২০২৩ সালের ১ জুলাই থেকে নিয়মিত নির্ধারিত খাজনাও পরিশোধ করে আসছেন তারা ।

লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও উল্লেখ করেন, কাগজপত্রে লিজকৃত জমিটির শ্রেণি 'পুকুর/জলাশয়' পূর্বে উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে তা দীর্ঘদিন ধরেই ভরাট হয়ে 'ভিটা/বাণিজ্যিক' ভূমিতে পরিণত হয়। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যে পূর্বের জলাশয়ের লাইসেন্স বাতিল করে বাণিজ্যিকভাবে লিজ প্রদান করে, যার মাধ্যমে বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রায় ৭০ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে।

পরবর্তীতে জমির শ্রেণি সংশোধনের জন্য রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ২০২৫ সালের ৫ নভেম্বর বগুড়া জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন জানান। আবেদনের প্রেক্ষিতে তদন্ত শেষে সাব-রেজিস্ট্রি/ভূমি অফিসের প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গত ২৬ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান জমির শ্রেণি পরিবর্তন সংক্রান্ত নথিতে স্বাক্ষর করেন এবং ৮ মে ২০২৬ তারিখে জমিতে ‘কৃষি/পুকুর’ এর পরিবর্তে ‘ভিটা’ হিসেবে শ্রেণি পরিবর্তনের চূড়ান্ত আদেশ হয়, যা বর্তমানে অনলাইনেও সংরক্ষিত রয়েছে।

ব্যবসায়ীদের পক্ষে তিনি অভিযোগ করে বলেন, প্রশাসনিকভাবে শ্রেণি পরিবর্তনের পর কোনো আইনি জটিলতা না থাকা সত্ত্বেও গত মঙ্গলবার(২১জুলাই) বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে তাদের দেওয়া টিনের বেড়া উচ্ছেদ করা হয়। অথচ, বিষয়টি নিয়ে আগামী ২৯ জুলাই ২০২৬ তারিখে সিটি কর্পোরেশনে শুনানির দিন ধার্য ছিল। শুনানির আগেই এ ধরনের উচ্ছেদ অভিযানে তারা ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, এর আগে হাইকোর্টে এ সংক্রান্ত একটি রিট পিটিশন করা হলেও আদালত নথিজাত না করে তা খারিজ করে দেন। ফলে এই জমির ওপর বর্তমানে আদালতের কোনো নিষেধাজ্ঞা বা বাধা নেই। ব্যবসায়ীরা দাবি করেন, তাদের কাছে লিজ ও শ্রেণি পরিবর্তন সংক্রান্ত সমস্ত বৈধ কাগজপত্র রয়েছে। তারা সিটি কর্পোরেশন প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে বস্তুনিষ্ঠ তদন্ত ও সহযোগিতা কামনা করেন, যাতে ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটে এবং তারা নিয়ম মেনে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন।

 

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/177173