বগুড়ার শাজাহানপুরে মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়ায় একজনকে হত্যা, শ্যালক ও ছেলে আহত
স্টাফ রিপোর্টার/শাজাহানপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি: বগুড়ার শাজাহানপুরে মাদক ব্যবসা করতে বাধা দেওয়ায় ছুরিকাঘাতে ভগ্নিপতি রঞ্জু মিয়া (৪৫) নিহত এবং তার ছেলে জোবায়ের (২৫) ও শ্যালক খোরশেদ আলম (৩৫) গুরুতর আহত হয়েছেন। শ্যালক খোরশেদকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার সময় বাধা দেয়ায় দুর্বৃত্তরা তাদেরকে ছুরিকাঘাত করে। পরে হাসপাতালে নেয়ার পর রঞ্জু মিয়া মারা যান। গত সোমবার রাত সাড়ে ১০ টার দিকে উপজেলার ঘাসিড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আহত খোরশেদ আলম ও জোবায়েরকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে খোরশেদের অবস্থা আশংকাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। নিহত রঞ্জু মিয়া শাজাহানপুরের ঘাসিড়া গ্রামের ফজলার রহমানের ছেলে। তিনি পেশায় একজন নির্মাণ শ্রমিক ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে গত সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঘাষিড়া গ্রামের একটি ইটভাটার ভেতরে খোরশেদ আলমের ওপর হামলা চালায় প্রতিপক্ষ।
তাকে উপর্যুপরীভাবে ছুরিকাহত করা হয়। এ সময় তাকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে রঞ্জু মিয়া ও জোবায়েরকেও ছুরিকাহত হন। স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় ওই তিনজনকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা রঞ্জু মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়া আহত খোরশেদ ও জোবায়েরকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
স্বজনরা জানান, ঘাসিড়া গ্রামে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে মাদকের কারবার করে আসছে। খোরশেদ আলম মাদক ব্যবসার বাধা দিয়ে আসছিলেন। এ নিয়ে মাদক কারবারিদের সাথে তার বিরোধ চরমে ওঠে। এই ধারাবাকিতায় গত সোমবার রাতে বাড়ির সামনে ইট ভাটা এলাকায় সিএনজি চালিত একটি অটোরিকশা চেপে ৫/৭ দুর্বৃত্ত এসে খোরশেদকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।
এসময় তাকে ছুরিকাঘাত করে দুর্বৃত্তরা। এরপর তাকে উদ্ধারের জন্য ভগ্নিপতি রঞ্জু মিয়া ও তার ছেলে জোবায়ের এগিয়ে গেলে তারা তাদেরকেও এলোপাথারীভাবে ছুরিকাহত করে পালিয়ে যায়। পরে আহত তিনজনকেই উদ্ধার করে ওই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালের চিকিৎসক রঞ্জু মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন।
শাজাহানপুর থানার ওসি মো: আশিক ইকবাল জানান, মাদক ব্যবসা নিয়ে মাদক কারবারিদের সাথে খোরশেদ আলমের বিরোধ চলে আসছিল। পরে এই বিরোধকে কেন্দ্র করে মাদক ব্যবসায়ীদের হামলায় রঞ্জু মিয়া নিহত এবং তার ছেলে জোবায়ের ও শ্যালক খোরশেদ আলম গুরুতর আহত হন। সংবাদ পাওয়ার সাথে সাথে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
সেইসাথে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারে জোর তৎপরতা চালানো হচ্ছে। তবে আজ মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যা সোয়া ৬টা পর্যন্ত এ হত্যার ঘটনায় কোন মামলা দায়ের করা হয়নি।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/177129