দু’বেলা ভাত খেয়েও যেভাবে কমাবেন ওজন

দু’বেলা ভাত খেয়েও যেভাবে কমাবেন ওজন

অনেকেরই ধারণা, ওজন কমাতে চাইলে সবার আগে ভাত বাদ দিতে হবে। দুপুরে রুটি, রাতে শুধু সালাদ রেখে ডায়েটই যেন মেদ ঝরানোর একমাত্র উপায় মনে করেন। কিন্তু সত্যিই কি ভাত ওজন বাড়ায়? নাকি সমস্যা লুকিয়ে আছে খাওয়ার পরিমাণ ও পদ্ধতিতে? পুষ্টিবিদদের মতে, সঠিক পরিমাণে এবং ভারসাম্যপূর্ণ খাবারের সঙ্গে ভাত খেলে ওজন কমানোর পথেও এটি বাধা হয়ে দাঁড়ায় না।

ভাত নয়, আসল বিষয় ক্যালোরির ভারসাম্য
বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরের ওজন কমা বা বাড়া নির্ভর করে সারাদিনে মোট কত ক্যালোরি গ্রহণ করছেন এবং কত ক্যালরি খরচ করছেন তার ওপর। শুধু ভাত খাওয়ার কারণে ওজন বাড়ে-এমন ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয়।

এক কাপ সাদা ভাতে গড়ে ১৮০ থেকে ২০০ ক্যালরি থাকে। অন্যদিকে একটি মাঝারি আকারের আটার রুটিতে থাকে প্রায় ৯০ ক্যালরি। অর্থাৎ দুটি রুটির ক্যালরি প্রায় এক কাপ ভাতের সমান। তাই ভাত বাদ দিয়ে বেশি রুটি খেলেও ক্যালরি বেড়ে যেতে পারে।

দিনে দুইবেলাই ভাত খাওয়া কি সম্ভব
পুষ্টিবিদদের মতে, অবশ্যই সম্ভব। তবে শর্ত হলো ভাতের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে এবং খাবারের প্লেটে পুষ্টির ভারসাম্য নিশ্চিত করতে হবে। দুপুর বা রাতের খাবারে ১ কাপ ভাতের সঙ্গে মাছ, মুরগি, ডিম, ডাল কিংবা পনিরের মতো প্রোটিন এবং পর্যাপ্ত সবজি রাখলে খাবারটি অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর হয়ে ওঠে। এতে দীর্ঘ সময় পেট ভরা থাকে এবং অপ্রয়োজনীয় ক্ষুধাও কম লাগে।

রাতে ভাত খেলেও কি মেদ বাড়ে?
অনেকে মনে করেন, রাতে ভাত খেলেই চর্বি জমে। তবে পুষ্টিবিদদের মতে, এই ধারণারও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। রাতে যদি পরিমিত পরিমাণে ভাত খাওয়া হয় এবং তার সঙ্গে পর্যাপ্ত প্রোটিন ও আঁশযুক্ত সবজি থাকে, তাহলে শরীর সহজেই সেই খাবার ব্যবহার করতে পারে। বরং অতিরিক্ত ক্ষুধা নিয়ে ঘুমাতে গেলে পরে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা তৈরি হতে পারে।

যেভাবে ভাত খেলে উপকার পাবেন
ওজন কমানোর সময় ভাত খাওয়ার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো প্লেটের ভারসাম্য বজায় রাখা। ১ কাপ ভাতের সঙ্গে ১৫০ গ্রাম মাছ বা মুরগির মাংস, অথবা দুটি ডিম, এক বাটি ডাল এবং এক বাটি সবজি রাখলে খাবারে কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন ও ফাইবারের সঠিক সমন্বয় তৈরি হয়। এতে রক্তে শর্করার ওঠানামাও তুলনামূলক কম হয় এবং দীর্ঘক্ষণ শক্তি পাওয়া যায়।

শুধু ভাত নয়, অতিরিক্ত রুটিও সমস্যা
ভাতের বদলে রুটি খেলেই ওজন কমবে-এমন নিশ্চয়তা নেই। কারণ অনেকেই বুঝতে না পেরে চার-পাঁচটি রুটি খেয়ে ফেলেন। এতে মোট ক্যালোরির পরিমাণ সহজেই বেড়ে যায়। তাই ভাত হোক বা রুটি-দুটির ক্ষেত্রেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ এবং খাবারের সামগ্রিক ভারসাম্য।

শরীরচর্চাও সমান জরুরি
যারা নিয়মিত হাঁটেন, জিম করেন বা শরীরচর্চা করেন, তাদের জন্য ভাত আরও সহজে খাদ্যতালিকায় রাখা সম্ভব। কারণ শরীর তখন গ্রহণ করা কার্বোহাইড্রেট শক্তি হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।

অন্যদিকে সারাদিন বসে কাজ করলে খাবারের পরিমাণ ও ক্যালোরি সম্পর্কে আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন।
ভাতকে ওজন বাড়ার একমাত্র কারণ মনে করা ঠিক নয়। বরং অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণ, কম শারীরিক পরিশ্রম এবং খাবারের ভারসাম্যহীনতাই ওজন বৃদ্ধির বড় কারণ। তাই ওজন কমাতে চাইলে ভাত পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং পরিমিত পরিমাণে ভাত খাওয়া ওজন কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

সূত্র: হেলথলাইন, ইটিংওয়েল

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/177076