কুড়িগ্রামে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে অসময়ের তরমুজ চাষ, জলবায়ু অভিযোজন পদ্ধতি

কুড়িগ্রামে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে অসময়ের তরমুজ চাষ, জলবায়ু অভিযোজন পদ্ধতি

কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি : কুড়িগ্রামে জলবায়ু অভিযোজন পদ্ধতিতে বাড়ছে তরমুজ চাষে সাফল্য। প্রতিবছর জলবায়ুর প্রভাবে কারণে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে এ জেলার কৃষকরা। এসব ক্ষতি মোকাবিলায় জেলার কৃষকরা এখন জলবায়ু অভিযোজন পদ্ধতিতে অসময়ের বা বারোমাসি ফসল চাষাবাদ করে ক্ষতি কাটিয়ে উঠছে। ফলে জেলায় দিন দিন এই তরমুজ চাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এছাড়া এক জমিতে একাধিকবার আবাদ করে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছেন কৃষকেরা।

কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মেহেদী হাসান বলেন, কুড়িগ্রাম সদর, রাজারহাট, ভূরুঙ্গামারী এবং উলিপুর ৩৫একর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে। বারোমাসি তরমুজ চাষ করে এই অঞ্চলের কৃষকরা ভালো মুনাফা পাচ্ছেন। ফলে অনেক কৃষক আগ্রহী হয়ে উঠছেন। কৃষি বিভাগ থেকে তাদের প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

সরেজমিন, কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ি ইউনিয়নের খালিশা কালোয়া গ্রাম। কৃষক জিয়াউর রহমান ১৫শতক জমিতে ৩শতাধিক বারোমাসি তরমুজ চাষ করেছেন। তরমুজগুলো দেখতে ছোট, লম্বাটে, ডিম্বাকার, কালো খোসা, ভেতরে টকটকে লাল শাঁসযুক্ত। অসময়ে তরমুজগুলো ওঠার কারণে বাজারে ভালো দাম পাচ্ছেন চাষিরা। এসব জাতের মধ্যে হাইব্রিড চায়না, থাইল্যান্ড, সুইট বেবিু, সুইটকর্ন ইত্যাদি। এসব জাত বছরের যে কোনো সময় চাষ করা যায়। বিঘায় ১২শ’টি পর্যন্ত চারা লাগানো যায়।

কৃষক গোলজার হোসেন বলেন, আমি তরমুজের চারা রোপণ করেছি। এতে প্রায় ২৫হাজার টাকা খরচ হয়েছে। চলতি মাসের প্রথম দফায় আমি ৭০টি তরমুজ তুলেছি। প্রতিটি তরমুজ গড়ে ৩ থেকে ৪ কেজি ওজন হয়েছে। ২ হাজার টাকা দরে মণ বিক্রি করেছি। সামনে আরও দুই বার এই তরমুজ তুলতে পারবো। এতে করে বছরে তিনবার তরমুজ ও একবার সবজি চাষ করা যাচ্ছে।

আরডিআরএস, বাংলাদেশ রংপুর বিভাগীয় ব্যবস্থাপক রফিকুল ইসলাম বলেন, এই অঞ্চলের কৃষকেরা যেন সারাবছর উৎপাদনমুখী হয় সেজন্য আরডিআরএস ও পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনের আর্থিক কারিগরি সহায়তা প্রদান করছেন।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/176616