সেরা ডুবুরি সাদিকের মৃত্যুতে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন
ফায়ার সার্ভিসের সেরা ডুবুরি রাষ্ট্রীয় পদকপ্রাপ্ত মো. সাদিকের শীতলক্ষ্যা নদীতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স। বাহিনীটির ঢাকা বিভাগের উপপরিচালক মো. সালেহউদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিটিকে ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, সাদিকের মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরে রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার কুমড়াকান্দি গ্রামে জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হবে।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল থেকে নারায়ণগঞ্জ নদী ফায়ার স্টেশনের জেটির সামনে জমে থাকা কচুরিপানা পরিষ্কারের কাজ চলছিল। এ কাজে তিনজন প্রশিক্ষিত ডুবুরি ও কয়েকটি স্পিডবোট ব্যবহার করা হচ্ছিল। বেলা ১১টার দিকে স্পিডবোটের সামনের অংশে দায়িত্ব পালন করার সময় ঢেউয়ের ধাক্কায় ভারসাম্য হারিয়ে শীতলক্ষ্যা নদীতে পড়ে যান সাদিক। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন। প্রায় আট ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে রাতে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৪০০ গজ দূরে তার মরদেহ উদ্ধার করেন সহকর্মীরা।
এমন একজন দক্ষ ও অভিজ্ঞ ডুবুরি কীভাবে নদীতে ডুবে প্রাণ হারালেন—এ প্রশ্নের জবাবে আব্দুল্লাহ আল আরেফিন বলেন, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি একটি দুর্ঘটনা বলেই মনে হচ্ছে। তার ভাষ্য, কচুরিপানা পরিষ্কার করতে গিয়ে সাদিক হয়তো স্পিডবোট ও পাশের পল্টুনের নিচে চলে যান এবং সেখানে দিকনির্দেশনা হারিয়ে ফেলেন। পরে নদীর স্রোত তার মরদেহ ভাসিয়ে নিয়ে যায়। শরীরের কোথাও আটকে থাকার কোনো আলামত পাওয়া যায়নি।
তিনি আরও জানান, ঘটনার সময় সাদিকের সঙ্গে থাকা অন্য দুই ডুবুরির ধারণা, নদীতে পড়ে যাওয়ার সময় তিনি মাথায় আঘাত পেয়েছিলেন। বিষয়টি তদন্তে গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মো. সাদিক রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার কুমড়াকান্দি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি নারায়ণগঞ্জ নদী ফায়ার স্টেশনে কর্মরত ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে উদ্ধার অভিযানে সাহসিকতা ও দক্ষতার পরিচয় দিয়ে আসছিলেন। গত বছর তিনি ফায়ার সার্ভিসের রাষ্ট্রীয় ‘সেরা ডুবুরি’ পদক লাভ করেন। সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে একটি লেকে ডুবে যাওয়া তিন ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধারের অভিযানেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকাল ১১টায় নারায়ণগঞ্জ ফায়ার স্টেশন প্রাঙ্গণে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহমুদুল হাসান (পিএসসি), ঢাকা বিভাগের উপপরিচালক মো. সালেহ উদ্দিন (বিএফএম, বিএফএম-এস), উপপরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) মো. মামুনুর রশিদসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন।
জানাজার আগে সাদিকের কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান ফায়ার সার্ভিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এ সময় অগ্নিসেনাদের একটি চৌকস দল রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান করে। পরে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে প্রয়াত ডুবুরির সংক্ষিপ্ত কর্মজীবন তুলে ধরা হয়। এ সময় সাদিকের বাবা উপস্থিত সবার কাছে মরহুমের জন্য দোয়া ও ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
জানাজা শেষে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার কুমড়াকান্দি গ্রামের উদ্দেশে রওনা হন। সেখানে দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা বলেন, মো. সাদিকের মৃত্যু বাহিনীর জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। একজন সাহসী, দক্ষ ও নিবেদিতপ্রাণ উদ্ধারকর্মীকে হারিয়ে ফায়ার সার্ভিস একটি বড় শূন্যতার মুখে পড়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও ঘটনার সার্বিক পরিস্থিতি নির্ধারণ করা হবে।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/176554