সরকারি ও বিরোধী দল মিলে জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করতে চাই

সরকারি ও বিরোধী দল মিলে জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করতে চাই

রংপুর জেলা প্রতিনিধি : মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেছেন, সরকারি ও বিরোধীদল মিলে গণতন্ত্রকে যেমন প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে চাই ঠিক তেমনি জুলাই সনদকে অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করতে চাই। আমরা কিন্তু সংসদে কথা বলি এবং সংসদকে কার্যকর করবার জন্য এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবার জন্য আমরা অঙ্গীকারাবদ্ধ। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকালে রংপুর মহানগরীর ৩৬ জুলাই চত্বরে শহীদ দিবসের ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

 

পরে পর্যায়ক্রমে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, আবু সাইদের পিতার নেতৃত্বে শহিদ পরিবারের সদস্যবৃন্দ, বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলাম, রংপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মাহফুজ উন নবী চৌধুরী ডন, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান সামু, রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আমিনুল ইসলাম, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক, জেলা পরিষদের প্রশাসক সাইফুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ইউনিট কমান্ড নেতৃবৃন্দ।

এদিকে, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় রংপুরে শহিদ আবু সাঈদের দ্বিতীয় শাহাদাৎ বার্ষিকী ও জুলাই শহিদ দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সকালে পীরগঞ্জ উপজেলার জাফরপাড়ার বাবনপুর গ্রামে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মোঃ শওকাত আলী। শহিদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত শেষে ক্যাম্পাসে উপাচার্যের নেতৃত্বে শোক র‌্যালির আয়োজন করা হয়। পরে পার্কের মোড়ে শহিদ আবু সাঈদ চত্বরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন মুক্তিয্দ্ধু বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান, পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) সদস্য প্রফেসর ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং বেরোবি উপাচার্য  প্রফেসর ড. মোঃ শওকাত আলী। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে জুলাই শহিদ দিবস উপলক্ষে স্বাধীনতা স্মারক মাঠে জুলাই শহিদ স্মরণে বিশেষ স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। তিনি বলেন, জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগের চেতনা বাস্তবায়নে বর্তমান সরকার কাজ করছে। আবু সাঈদ, মুগ্ধসহ সকল জুলাই শহিদের স্মৃতিকে ধারণ করেই রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য সরকারের কিছুটা সময়ের প্রয়োজন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে নতুন আবাসিক হল, আধুনিক অডিটোরিয়াম, জিমনেশিয়াম এবং ‘শহিদ আবু সাঈদ গেট’ ও স্মৃতিস্তম্ভসহ বিভিন্ন ভবন ও স্থাপনা দ্রুত নির্মাণ করা হবে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) সদস্য প্রফেসর ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ শওকাত আলীর সভাপতিত্বে স্মরণ সভায় বক্তব্য রাখেন শহিদ আবু সাঈদের বাবা মোঃ মকবুল হোসেন, রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট রেজেকা সুলতানা ফেন্সী, রংপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মাহফুজ উন নবী ডন, বেরোবি বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ডিন প্রফেসর মোঃ ফেরদৌস রহমান, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন এবং শহিদ আবু সাঈদের সহযোদ্ধা শামসুর রহমান সুমন, রাফায়েল ইমতিয়াজ ইয়ামিন ও শাহরিয়ার সোহাগ। স্মরণসভায় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ আশরাফুল ইসলামসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহিদ আবু সাঈদের অবদানের উপর দুটি প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন করা হয়। শেষে আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ স্বাধীনতা স্মারক মাঠে বৃক্ষ রোপণ করেন। বিকেলে জুলাই শহিদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। 

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/176524