শুরু হচ্ছে বৃষ্টির মাস ‘শ্রাবণ’

শুরু হচ্ছে বৃষ্টির মাস ‘শ্রাবণ’

স্টাফ রিপোর্টার : মুষলধারে টানা বৃষ্টির পর মাঝে মাঝে বৃষ্টি বিরতি দিচ্ছে কোন কোন এলাকায়। সার্বিকভাবে বৃষ্টি দিয়েই শুরু হলো বৃষ্টির মাস শ্রাবণ। ‘আজ শ্রাবণের আমন্ত্রণে, দুয়ার কাঁপে ক্ষণে ক্ষণে, ঘরের বাঁধন যায় বুঝি আজ টুটে’...আষাঢ় মাসের শেষে প্রকৃতিতে অঝোর ধারার এরকম দৃশ্যপট সবারই কাম্য। আজ বৃহস্পতিবার পহেলা শ্রাবণ।

আষাঢ়ের শেষ কয়েকদিন কখনো ঝিরি ঝিরি আবারও কখনো মুষলধারে বৃষ্টি, তারপর বিরতি। ফের আকাশ কালো করে ঝরঝর বৃষ্টি। এবারের আষাঢ় এবং শ্রাবণে বৃষ্টির এমন নিসর্গ উপভোগ করছে প্রকৃতি প্রেমিরা। তবে এর উল্টো দিকে ভোগান্তিও কম নয়। বগুড়াসহ দেশে বেশিরভাগ স্কুলে পরীক্ষা চলছে। গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে বিপাকে পড়েন অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও খেটে খাওয়া মানুষ।

সেই সাথে জলাবদ্ধতা সবচেয়ে বেশি ভুগিয়েছে নগরবাসীকে। সারাদেশে বৃষ্টিপাত অব্যবাহত থাকলেও গতকাল বুধবার একটি সূর্যবর্ষণের গরম দিন উপভোগ করেছে বগুড়া নগরবাসী। আবহাওয়া অফিস অবশ্য বলেছে, এসময় কোন ভরসা নেই এই রোদ তো পরক্ষণেই  অঝোর বৃষ্টি এটাই স্বাভাবিক।

বর্ষা ঋতুর প্রথম মাস আষাঢ়ে ঝরো ঝরো মুখর বাদর দিনের দেখা মিলেছে খুব অল্প। মুষলধারে বৃষ্টি নেই, বিলঝিলে টইটম্বুর পানি নেই, নদনদীতে ঢল নেই। বৃষ্টিহীন কেটে গেছে আষাঢ়ের প্রথম ১৫ দিন। তবে আষাঢ়ের শেষ ১০ দিনে ভারী বর্ষণ দেশের ড্রেনেজ ব্যবস্থাকে উন্নত করতে শিখিয়েছে।

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের প্রায় সব এলাকায় বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। যার ক্ষত এখনও অনেক এলাকায় রয়ে গেছে। সেই ভোগান্তিসহ প্রচণ্ড গরমে অতিষ্ঠ জনজীবনকে স্বস্তি দিতে প্রকৃতিতে এলো  শ্রাবণ মাস।

আবহাওয়াবিদেরা জানান, লঘুচাপ নিম্নচাপে পরিণত হওয়ায় দেশের সব জেলায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। বৃষ্টিপাতের জন্য গত কয়েকদিনের প্রচন্ড তাপদাহ থেকে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছে মানুষ। সূত্রটি আরও জানান, যেভাবে মুষলধারে বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছিল অনেক এলাকায় তা কমবে। এরপর আবারও বৃষ্টি বাড়ার সম্ভাবনা আছে। তবে আষাঢ় শেষের মত অতো বৃষ্টিপাত হবে না বলেও জানিয়েছেন সূত্রগুলো।

এদিকে বাংলাদেশের আবহাওয়াতে শ্রাবণে বৃষ্টির ফোটায় তৈরি হয় রংধনু। রংধনুর এমন দৃশ্যপটের মধ্যে বর্ষায় নদ নদী ফুলে ফেঁপে ওঠে রুদ্ররূপ ধারণ করে। কখনো বন্যায় ভাষায়, কখনো নদীর দুকূল  ভাঙে। নদী তীরের মানুষ ব্যস্ত হয়ে ওঠে নিজেদের রক্ষায়। শহরের জীবনে মুষলধারে বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়ে ড্রেনেজ ব্যবস্থাকে গুঁড়িয়ে  দিয়ে  ডুবিয়ে  দেয় রাস্তাঘাট।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/176415