বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে খাবার ও চিকিৎসা সংকটে শিকলবন্দি মালঞ্চা
সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধি: প্রায় দেড় মাস আগে থেকে শিকলবন্দি হয়েছেন বগুড়া সারিয়াকান্দির পৌর এলাকার মালঞ্চা (৪০)। দরিদ্র পরিবারে বেড়ে ওঠা মালঞ্চা এখন খাবার এবং চিকিৎসা সংকটে রয়েছেন। সরেজমিন পরিদর্শন করে মালঞ্চাকে শুকনো খাবার সহায়তা এবং চিকিৎসা সেবা দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন উপজেলা প্রশাসন।
উপজেলার পৌর এলাকার বাগবেড় গ্রামের মৃত মালেক মোল্লার মেয়ে মালঞ্চা। ছোটবেলা থেকেই তিনি মৃদু মানসিক প্রতিবন্ধী হয়ে জন্মগ্রহণ করেন। নদী ভাঙন কবলিত তাদের পরিবারের শেষ আশ্রয় হয়েছে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধেই। তার বাবা ছিলেন একজন দিনমজুর। তাই পড়াশোনা তার ভাগ্যে জোটেনি। মানসিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় তার ভাগ্যে বিয়েও জোটেনি।
তাই তার কোনও সন্তানাদিও নেই। তার অন্য বোনের বিয়ে হয়েছে এবং একমাত্র ভাই ঢাকায় রিক্সা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। মালঞ্চা চরাঞ্চলে অন্যের জমির মরিচ উত্তোলন করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। সারাদিন জমি থেকে মরিচ উত্তোলন করে ২০০ টাকা পেতেন। যা দিয়ে তার পরিবারের ডাল ও চালের যোগান হতো। গত ঈদ উল আজহার পর তার বাবা মারা যান।
এতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন মালঞ্চা। দিনরাত কান্নাকাটি করতে থাকেন। বাবার মৃত্যুশোক সইতে না পেরে তিনি পুরোপুরি মানসিক প্রতিবন্ধী হয়ে যান। একসময় তিনি মানুষকে গালাগালি করতে শুরু করেন এবং মানুষ দেখলে তাদের মারতে তেড়ে আসেন। নিরুপায় হয়ে মালঞ্চার পরিবার তাকে শিকলবন্দি করে ফেলেন। তাকে ঘরের একটি বারান্দার খুঁটির সাথে আটকে রাখা হয়।
বারান্দার সেই খুঁটির সাথেই এখন মালঞ্চার দিনরাত কাটে। মালঞ্চা এখন তার ঘরের বারান্দাতেই সারারাত কাটায়। বারান্দার খুঁটির সাথেই সে ঘুমায়। মালঞ্চার মায়ের সাথে কথা বলে জানা গেছে, একদিকে তার স্বামীর মৃত্যু এবং অপরদিকে মালঞ্চার পুরোপুরি প্রতিবন্ধী হওয়ায় তার পরিবার এখন প্রচন্ড রকমের অর্থনৈতিক সংকট চলছে। তাদের পরিবারের লোকজন এখন অর্ধাহারে এবং অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন।
একদিকে হাড়িতে চাল নেই, অপরদিকে মালঞ্চার জন্য ঔষধ জোগান দিতে হিমশিম খাচ্ছেন তার বৃদ্ধ মা। এমতাবস্থায় মালঞ্চার খাবার এবং চিকিৎসা সহায়তায় জন্য প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন এলাকাবাসী।মালঞ্চার মা আকিলা বেগম (৬৫) বলেন, আমার স্বামীর দৈনিক আয় এবং মালঞ্চার মরিচ উত্তোলনের টাকা দিয়ে আমাদের সংসার খরচ চলতো।
গত কয়েকমাস আগে আমার স্বামী মারা গেছে। মালঞ্চাও একেবারেই পাগলি হয়ে গেল। এতে আমার পরিবারের উপার্জন একেবারেই বন্ধ হয়ে গেছে। এতে আমিসহ মালঞ্চা প্রায়ই না খেয়ে থাকছি। একদিকে হাড়িতে চাল নেই, অপরদিকে মালঞ্চার জন্য প্রতিদিন ঔষধ কিনতে হচ্ছে।
এতে আমি প্রতিদিন প্রচুর ধার দেনার মধ্যে পরে যাচ্ছি। তাই প্রশাসনের কাছে আকুল আবেদন, তারা যেনো আমাদের খাবার সহায়তা করে এবং মালঞ্চার ঔষধ কেনার জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। মালঞ্চাকে নিয়ে এ বয়সে আমি খুবই সমস্যায় আছি।
সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ সুমাইয়া ফেরদৌস বলেন, এ বিষয়ে সমাজসেবা অফিসে খোঁজখবর নিয়ে তিনি যদি প্রতিবন্ধী ভাতা না পান, তাহলে তাকে প্রথমে প্রতিবন্ধী ভাতার আওতায় নিয়ে আসা হবে। সরেজমিন পরিদর্শন করে তাকে উপজেলা প্রশাসন থেকে শুকনো খাবার সহায়তা প্রদান করা হবে এবং তার চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ঔষধ সরবরাহ করা হবে ও তার স্থায়ী চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/176404