১৪ বছর পর ভাঙল দেশম সাম্রাজ্য!
স্পোর্টস ডেস্ক: ম্যাচ হারলেই রেফারিং নিয়ে বিতর্ক—এটাই যেন ২০২৬ বিশ্বকাপের ঐতিহ্য হয়ে উঠেছে। এবার রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষোভ ঝেড়ে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিলেন ফ্রান্সের কোচদিদিয়ের দেশম।
ম্যাচের ২২তম মিনিটে আসে সবচেয়ে বড় ধাক্কা। লুকাস দিনিয়ে নিজেদের বক্সে বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে দেখতে পাননি পেছন থেকে ঢুকে পড়া লামিনে ইয়ামালকে। বল শট নিতে গিয়ে এই স্প্যানিশ উইঙ্গারকে লাথি মেরে বসেন দিনিয়ে। যদিও সেটি ইচ্ছাকৃত ছিল কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।
ফরাসি খেলোয়াড়রা প্রতিবাদ করলেও ভিএআর সিদ্ধান্ত বদলায়নি। পেনাল্টি থেকে স্প্যানিশ স্ট্রাইকার মিকেল ওইয়ারসাবালের গোলে এগিয়ে যায় স্পেন। এরপর ফ্রান্স আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। ম্যাচ শেষে সেই পেনাল্টির সিদ্ধান্ত নিয়েই প্রশ্ন তোলেন দেশম।
ডাগআউট ছেড়ে সংবাদ সম্মেলনে এসে ফরাসি কোচ বলেন, ‘রেফারিং নিয়ে আমি যদি কিছু বলি, তবে ম্যাচ হারার পর অজুহাত দিচ্ছি বলেই মনে হবে। কিন্তু আমি আপনাদের একটা প্রশ্ন করতে চাই—এই রেফারি কি সেমিফাইনাল পরিচালনার মতো যোগ্য ছিলেন?’
শুধু পেনাল্টির সিদ্ধান্তই নয়, পুরো ম্যাচের পরিচালনা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন দেশম। তার দাবি, কিছু সিদ্ধান্ত ছিল পক্ষপাতিত্বমূলক; যদিও ব্যক্তিগতভাবে ম্যাচ রেফারি ইভান বার্টনের বিরুদ্ধে কোনো ক্ষোভ জানাননি এই ফরাসি কোচ।
এ প্রসঙ্গে তিনি আরও যোগ করেন, ‘পেনাল্টির ঘটনাটি তো ছিলই, তবে শুধু সেটাই নয়। আরও কিছু বিষয় মিলেই এমনটা বলছি। আজ রাতের রেফারির বিরুদ্ধে আমার ব্যক্তিগত কোনো অভিযোগ নেই। তবে আপনারা নিজেরাই এই প্রশ্নটা করুন।’
অবশ্য এটাও ঠিক যে, প্রথমার্ধে তার ফুটবলাররা একটিও ‘অন টার্গেট’ শট নিতে পারেননি। তাই হারের পুরো দায় রেফারির ওপর চাপিয়ে দেননি ফ্রান্সের কোচ; বরং নিজের দলের টেকনিক্যাল দুর্বলতাকেই ব্যর্থতার বড় কারণ হিসেবে দেখছেন তিনি।
দেশম বলেন, ‘আমাদের বাস্তববাদী হতে হবে। টেকনিক্যাল দিক থেকে আমরা ওদের চেয়ে পিছিয়ে ছিলাম। এটা আমাদেরই দোষ। আমরা নিজেদের মান অনুযায়ী খেলতে পারিনি।’
স্পেনের শ্রেষ্ঠত্ব অকপটে স্বীকার করেছেন দেশম। তার মতে, পুরো ম্যাচে আক্রমণ ভেঙে দেওয়া, বল কেড়ে নেওয়া আর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার ক্ষেত্রে অসাধারণ ছিল স্প্যানিশরা। আর এই ম্যাচ হারের মধ্য দিয়েই ফ্রান্সের ডাগআউটে শেষ হলোদিদিয়ের দেশমের ১৪ বছরের দীর্ঘ অধ্যায়।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/176282