দিল্লিতে বসে হুংকার দিয়ে লাভ নেই, সীমানায় ঢুকলেই গ্রেপ্তার: আইনমন্ত্রী
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা নিয়ে বিভেদের সুর দেখে দিল্লিতে বসে যারা আত্মসমর্পণের হুংকার দিচ্ছেন, তাদের উদ্দেশে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে তাদের আত্মসমর্পণের কোনো সুযোগ নেই। তারা দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি, সীমানায় ঢোকার সঙ্গে সঙ্গেই তাদের গ্রেপ্তার করা হবে। এদেশে আর কখনোই ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন হতে দেওয়া হবে না।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও গণহত্যার বিচার’ শীর্ষক জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে ইঙ্গিত করে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের মধ্যে বিভেদের সুর দেখে দিল্লিতে বসে হুংকার ছাড়া হচ্ছে, বলা হচ্ছে আত্মসমর্পণ করবেন। আমি আপনার (স্পিকার) মাধ্যমে গোটা জাতিকে জানাতে চাই, যারা হুংকার দিচ্ছেন, বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে তাদের আত্মসমর্পণের কোনো সুযোগ থাকবে না। কারণ আইনের কাছে তারা দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি, বাংলাদেশের সীমানায় ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে তারা গ্রেপ্তার হবেন। প্রতিটি হুংকার আমরা সংঘবদ্ধ হবো, দেশের জন্য এক কাতারে দাঁড়াবো।’
জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচারকার্যের অগ্রগতি তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পর ১৬টি তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে ১২টির রিপোর্ট জমা হয়েছে এবং ৪টির চার্জ গঠন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে আবু সাঈদ হত্যা ও হাসানুল হক ইনুর মামলাসহ ৩টি মামলার রায় হয়েছে।’
তিনি আরও জানান, ট্রাইব্যুনালে জমা পড়া ৫৯০টি অভিযোগের মধ্যে প্রসিকিউশন টিম বাছাই করে ১০৯টি মামলা নির্বাচন করেছে। এর মধ্যে ৪৩টি মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল এবং ৬টি মামলার বিচারকাজ সম্পন্ন হয়েছে। রায়ে ১৬ জনের মৃত্যুদণ্ড, ১১ জনের যাবজ্জীবন ও ৩৫ জনের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয়েছে। এছাড়া একজন রাজসাক্ষীকে খালাস দেওয়া হয়েছে। বিচারাধীন আছে ২৬টি এবং রায়ের অপেক্ষায় আছে আরও ৪টি মামলা।
পাশাপাশি শাপলা চত্বরের নারকীয় হত্যাযজ্ঞ, ফ্যাসিজমের সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে এবং জেলায় জেলায় সংঘটিত জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিষয়েও তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/176240