সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় জাগ দেওয়ার নতুন পদ্ধতিতে বেড়েছে পাটের গুণগত মান 

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় জাগ দেওয়ার নতুন পদ্ধতিতে বেড়েছে পাটের গুণগত মান 

উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি: সোনালী আশ পাটের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার কৃষকরা পাট জাগের এক অভিনব নতুন পদ্ধতি গ্রহণ করেছে। সেই পদ্ধতিতে জলাশয়ে পাট জাগ দিয়ে আশ ছাড়িয়ে রোদে শুকিয়ে পাওয়া যাচ্ছে উজ্জ্বল ধবধবে সাদা রংগের গুণগত মান সম্পন্ন পাট।

এই পদ্ধতির কারণে উৎপাদিত পাটের গুনগত মান বেড়েছে এবং দেখতে আকর্ষণীয় হওয়ায় বাজারের চাহিদা বেড়েছে, দামও ভাল পাচ্ছেন কৃষকরা। পাট জাগের এই পদ্ধতি উল্লাপাড়ায় ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।  

উপজেলার বড় পাঙ্গাসী ইউনিয়নের কৃষক মো. শাহরিয়ার এবারে প্রায় আড়াই বিঘা জমিতে পাটের আবাদ করেছেন। এর মধ্যে প্রায় চল্লিশ শতক জমিতে সাদা মেছতা আর বাকি জমিতে আসমান তারা নামে পরাচিত তোষা পাটের আবাদ করেছেন বলে জানান। তিনি বলেন, আর আমরা পুরানো পদ্ধতিতে পাটের জাগ দিচ্ছি না।

পুরানো পদ্ধতিতে জলাশয়ে পাট জাগ দিলে সেখানকার পানি পচে যায়, মাছের ও পানির ক্ষতি হয়। পাটের রং কালছে হয় এবং গুণগত মান তেমন ভাল হয় না। তাই আমরা নতুন পদ্ধতি চালু করেছি। এই পদ্ধতি হলো প্রথমে জমি থেকে পাট কেটে তার পাতা ছাড়িয়ে আটি বেধে নিকটবতী জলাশয়ে  ভাসিয়ে তার উপর পলিথিন দিয়ে ঢেকে দেই এবং পলিথিনের উপর ভারী ওজনের মাটি অথবা ইটের ভাড়া দিয়ে পানিতে ডুবিয়ে রাখি। ১০-১২ দিনের মধ্যে পাটের আশ ছাড়িয়ে নেওয়ার মত নরম হয়ে আসে।

এই পদ্ধতিতে পাটের আশে পচন ধরে না এবং রং উজ্জ্বল সাদা রং ধারণ করে। আমার দেখা দেখি অনেকেই এই পদ্ধতি অবলম্বন করছেন। উল্লাপাড়া পাট বন্দরের বিশিষ্ট পাট ব্যবসায়ী আমিনুল সরকার বলেন, নতুন পদ্ধতিতে ধবধবে সাদা রংয়ের পাট বাজারে আসতে শুরু করেছে। বিভিন্ন মিলে এই পাটের চাহিদা রয়েছে। আমরা বেশ ভাল দামে এই পাট ক্রয় করছি। আশা করা যাচ্ছে কৃষকরা এই পদ্ধতিতে পাট জাগের ব্যবস্থা করলে বাজারে মান সম্পন্ন পাট আসবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সূবর্ণা ইয়াসমিন সুমী বলেন, কৃষকেরা কাটা পাট নদী, নালা কিংবা খাল বিলে ফেলে জাগ দিয়ে থাকেন। বেশিরভাগ জাগের পাটের রং কিছুটা ঘোলাটে ভাব ও উজ্জলতা কম হয়। তিনি একেবারে বদ্ধ জায়গায় জলাশয়ে পাট জাগ না দিয়ে কিছুটা খোলামেলা জলাশয়ে যেখানে পানি আটকে থাকে না, সেখানে পাট জাগ দেওয়ার পরার্মশ দেন কৃষকদের।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/176215