বগুড়া মহানগরের সাতমাথায় জলাবদ্ধতা না থাকলেও অনেক সড়ক ছিল হাঁটু পানির নিচে
শহর প্রতিনিধি (বগুড়া): বগুড়া মহানগরে রোববার সকাল থেকে রৌদ্বজ্জ্বল আবহাওয়া বিরাজমান ছিল। বেলা গড়াতেই দুপুর দুইটার পর থেকে থেমে থেমে সন্ধ্যা পর্যন্ত কয়েক দফায় আবারও বৃষ্টিপাত হয়। বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এমআর ইসলাম স্বাধীন গত বুধবার রাত থেকে প্রকৌশল বিভাগের দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের সাথে নিয়ে জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রত্যক্ষভাবে তদারকি করেন। পরদিন বৃহস্পতিবার থেকে ফল পেতে শুরু করে মহানগরের প্রাণকেন্দ্র সাতমাথা বীরশ্রেষ্ঠ চত্ত্বরে আসা বিভিন্ন পেশাজীবি, শিক্ষার্থী ও শ্রমজীবিরা।
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত মহানগরে বৃষ্টির পানিতে সড়কে পানি জমেছে হাঁটু থেকে কোমর পর্যন্ত। আবারও ডুবেছে পাড়া মহল্লার গলি সড়ক। বসতবাড়িতে প্রবেশ করেছে ড্রেনের ময়লা কাদা মাটি ও বর্জ্য মিশ্রিত পানি। মহানগরের অন্যতম জলাবদ্ধপ্রবণ নিম্নাঞ্চল সেউজগাড়ী তালুকদারপাড়া, সবুজবাগ কৃষিফার্ম রোড, তাপসী রাবেয়া স্কুল মোড় ছিল এক কোমর পানির নিচে।
পানির ট্যাংকি রোড, খাান্দার গোহাইল রোড, শেরপুর রোড, সরকারি আজিজুল হক কলেজের নতুন ভবনের বটতলা চত্ত্বর, পুরান বগুড়ার বটতলা এলাকা, জহুরুল নগর মদিনা মসজিদ রোড, নারুলী কবরস্থান সড়ক, চন্দন বাইশা রোড সহ মহানগরের বৃষ্টির পানিআটকে ছিল বরবরের মতোই। তবে মূল শহরের মার্কেটগুলোর ভেতরে বৃষ্টির পরপরই গেল সপ্তাহের মতো সীমিত সময় পানি থাকলেও সৃষ্টি হয় নি জলাবদ্ধতা।
মহানগরের সবুজবাগ এলাকার বাসিন্দা মো.শরিফুল ইসলাম সাগর বলেন, তাপসী রাবেয়া স্কুল থেকে কৃষি ফার্ম রোডের সাঁকো পর্যন্ত কোমর পানি। বৃষ্টির জমে থাকা পানির সাথে ড্রেনের ময়লা পানি মিশে ছড়ায় র্দূগন্ধ। স্মরণকালে যে গলি সড়কগুলো কখনও ডোবেনি আজ সেসব সড়কও ডুবেছে বলে তিনি জানান। এছাড়াও, সেউজগাড়ী আনন্দ আশ্রমের সামনেও জমেছে হাঁটু পানি।
সাতমাথা চত্ত্বর, জিলা স্কুলের সামনে, বীরশ্রেষ্ঠ স্কয়ারের আশপাশের এলাকা, মেরিনা মার্কেটের গলি, অন্যান্য এলাকায় দুপুর থেকে বৃষ্টিপাত হলেও পানি আটকায়নি। সীমিত সময়ের মধ্যেই পানি গড়িয়েছে ড্রেনে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে বলা হয়েছে, চলমান মুষলধারে বৃষ্টির প্রকোপের মাঝেও জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেনগুলোর ময়লা কাদামাটি অপসারণের কাজ করা হচ্ছে।
ড্রেনের ওপরে এসব বর্জ্য উঠিয়ে রাখলেও তা পর্যাপ্ত পরিমাণে শুকানোর আগেই আবার বৃষ্টির পানিতে নরম হয়ে ড্রেনে চলে যাচ্ছে। সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব জনবলের বাহিরেও অতিরিক্ত শ্রমিকের মাধ্যমেও বড় ড্রেনগুলোর কাদামাটি অপসারণের কাজ চলমান রয়েছে। গোহাইল রোডের ড্রেন নির্মাণের কাজ প্রথমে করা হচ্ছে, সম্পন্ন হলে নাগরিকদের দুর্ভোগ লাঘব হবে বলে জানানো হয়েছে।
অপরদিকে, গোহাইল রোডের একাধিক বাসিন্দার সাথে কথা বলে জানা গেছে, সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্টদের তদারকিতে মূল সাতমাথা চত্ত্বরে ছিল না জলাবদ্ধতা। শহরের সাতমাথা থেকে সিও অফিস পর্যন্ত সম্প্রতি শুরু হওয়া সড়ক ও ড্রেনের কাজ দ্রুততার সাথে শেষ হলে তাদের জনজীবনে কিছুটা হলেও দুর্ভোগ কমবে বলে তারা মত দেন।
বগুড়া আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, রোববার বেলা ৩টা ২০ মিনিট থেকে থেকে শুরু হয়ে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত মোট বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ২৩ মিলিমিটিার, রাতেও বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/175988