৭২ বছরের পুরনো রেকর্ড ভেঙে দিলো আর্জেন্টিনা

৭২ বছরের পুরনো রেকর্ড ভেঙে দিলো আর্জেন্টিনা

স্পোর্টস ডেস্ক : আর্জেন্টিনার গোলের ধারায় যেন থামার নাম নেই। প্রতিপক্ষ বদলেছে, বদলেছে ম্যাচের মঞ্চ; কিন্তু একটি জায়গায় লিওনেল স্কালোনির দলের ধারাবাহিকতা অটুট প্রতি ম্যাচেই অন্তত দুই গোল। সেই ধারাবাহিকতায় এবার ৭২ বছরের পুরোনো এক রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস গড়েছে আলবিসেলেস্তেরা।

রোববার (১২ জুলাই) কানসাস সিটিতে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ৩—১ গোলের জয়ে টানা ১২ ম্যাচে দুই বা তার বেশি গোল করার কীর্তি গড়েছে আর্জেন্টিনা। আন্তর্জাতিক ফুটবলে টানা সর্বোচ্চ ম্যাচে অন্তত দুই গোল করার নতুন রেকর্ড এটি। এর আগে রেকর্ডটি ছিল উরুগুয়ের দখলে। ১৯৩০ থেকে ১৯৫৪ সালের মধ্যে টানা ১১ ম্যাচে দুই বা তার বেশি গোল করেছিল দুইবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। দীর্ঘ ৭২ বছর পর সেই রেকর্ড পেছনে ফেলল আর্জেন্টিনা। আর্জেন্টিনার এই গোলযাত্রার শুরু ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে। গ্রুপ পর্বে মেক্সিকোকে ২—০ গোলে হারানোর পর থেকেই কোনো ম্যাচে এক গোল করে থামেনি দলটি। পরের ম্যাচে পোল্যান্ডের বিপক্ষেও আসে ২—০ গোলের জয়। শেষ ষোলোয় অস্ট্রেলিয়াকে ২—১ গোলে হারায় স্কালোনির দল।

কোয়ার্টার ফাইনালে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময় মিলিয়ে ম্যাচ ২—২ গোলে শেষ হয়েছিল। টাইব্রেকারে জয় পায় আর্জেন্টিনা। এরপর সেমিফাইনালে ক্রোয়েশিয়াকে ৩—০ গোলে উড়িয়ে দেয় তারা। বিশ্বকাপ ফাইনালে ফ্রান্সের সঙ্গে রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ম্যাচ শেষ হয় ৩—৩ সমতায়। টাইব্রেকারে জিতে বিশ্বকাপ শিরোপা ঘরে তোলে আলবিসেলেস্তেরা। চলতি আসরেও আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগের ধার কমেনি। আলজেরিয়ার জালে তিন গোল দেয়ার পর অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে করেছে দুই গোল। এরপর জর্ডান, কেপ ভার্দে ও মিশরের বিপক্ষে টানা তিনটি করে গোল করেছে দলটি। এবার সুইজারল্যান্ডের জালেও তিনবার বল পাঠিয়ে রেকর্ডটি নিজেদের করে নিল আর্জেন্টিনা।

আর্জেন্টিনা সর্বশেষ কোনো ম্যাচে দুই গোলের কম করেছিল ২০২২ বিশ্বকাপে সৌদি আরবের বিপক্ষে। সেই ম্যাচে ২—১ গোলে হেরে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছিল স্কালোনির দল। এরপর ঘুরে দাঁড়িয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পাশাপাশি এবার গোলের ধারাবাহিকতায় লিখল নতুন ইতিহাসও। বিশ্ব ফুটবলে দীর্ঘদিন উরুগুয়ের দখলে থাকা রেকর্ডটি এখন আর্জেন্টিনার। টানা ১২ ম্যাচে অন্তত দুই গোল আলবিসেলেস্তেদের আক্রমণাত্মক ফুটবলের ধারাবাহিকতার আরেকটি বড় স্বীকৃতি হয়ে থাকল এই কীর্তি।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/175902