ভাঙ্গায় বাসের ধাক্কায় নিহত ৫ জনের পরিচয় মিলেছে
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো পাঁচজনের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। শনিবার (১১ জুলাই) রাত সাড়ে ১১টার দিকে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। এদিকে দুর্ঘটনার পর উত্তেজিত জনতার দেওয়া আগুনে পুড়ে যাওয়া তিনটি গাড়ি মহাসড়ক থেকে সরানোর কাজ চলায় রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ ছিল।
নিহত পাঁচজনের পরিচয় শনাক্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তানসিভ জুবায়ের।
নিহতরা হলেন—ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ইউনিয়নের সোয়াদী গ্রামের লিটন হোসেনের ছেলে জয়নাল হোসেন (৩০), আঞ্জু শেখের ছেলে ওবায়দুর শেখ (৪৫), বাবলু মিয়ার ছেলে আরিফ মিয়া (৪২), নগরকান্দা উপজেলার ডাঙ্গী ইউনিয়নের শংকরপাশা গ্রামের কুদ্দুস মাতুব্বরের ছেলে হাফিজুল মাতুব্বর (২৮) এবং বরগুনা সদর উপজেলার কোটবাড়িয়া ইউনিয়নের তুলশীবাড়িয়া গ্রামের সেলিম খানের ছেলে জালাল খান (৩৬)।
শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ভাঙ্গার আলগী ইউনিয়নের সোয়াদী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে দুর্ঘটনাটি ঘটে। ঢাকা থেকে খুলনাগামী ডিমবোঝাই একটি ট্রাকের চাকা ফেটে গেলে সেটি সড়কের ওপর উল্টে পড়ে। এতে ট্রাকে থাকা ডিম মহাসড়কে ছড়িয়ে পড়ে।
এ সময় স্থানীয় লোকজন সড়কে ছড়িয়ে পড়া ডিম কুড়াতে এগিয়ে আসেন। ঠিক তখনই ঢাকা থেকে নড়াইলগামী নড়াইল এক্সপ্রেসের একটি বাস তাদের চাপা দিয়ে চলে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই চারজনের মৃত্যু হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও একজন মারা যান।
দুর্ঘটনার পর ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী তিনটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়।
রাত সাড়ে ১১টার দিকে ভাঙ্গা হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলালউদ্দিন জানান, মহাসড়কে তখন আর কোনো অবরোধকারী ছিল না। তবে আগুনে পুড়ে যাওয়া গাড়িগুলো সরিয়ে সড়কের পাশে নেওয়ার কাজ চলছিল। এ কারণে ওই সময় পর্যন্ত মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ ছিল।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/175875