নওগাঁয় আম বাগানের পাহারাদার দুটি কুকুর

নওগাঁয় আম বাগানের পাহারাদার দুটি কুকুর

নওগাঁ প্রতিনিধি: এক সময় আম চাষ ছিল বরেন্দ্র অঞ্চলের প্রধান ফসল। কিন্তু দিন দিন আম চাষ নওগাঁ জেলার ১১টি উপজেলাতে ছড়িয়ে পড়ছে। ইতোমধ্যেই আমের বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছে উত্তরের খাদ্য ভান্ডার হিসেবে পরিচিত নওগাঁ। বিশাল আমের বাগান। চারদিকে গাছে গাছে ঝুলছে নানা জাতের বিদেশী রঙিন আম আর বারি-৪।

প্রায় ১০ বিঘা জমির এই বিশাল মিশ্র আম বাগান পাহারায় কোনো মানুষ নয়, বরং দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা নিয়োজিত রয়েছে দেশী জাতের দুটি বিশ্বস্ত কুকুর। নওগাঁ পৌর এলাকার আনন্দনগর বাগবাড়ি এলাকায় এক পা হারানো একটি ও তার সঙ্গী আরেকটি কুকুরের এমন রাজকীয় বিশ্বস্ততা ও সাহসিকতা এখন পুরো এলাকায় অনন্য দৃষ্টান্তর তৈরি করেছে।

বাগান মালিক আব্দুল আলিম জানান, শৈশবে এক আত্মীয়ের বাসা থেকে পরম যত্নে এই কুকুর ছানা দুটিকে তিনি নিয়ে এসেছিলেন। একটি লাল-সাদা রঙের আর অন্যটি কালো-সাদা রঙের। ১০ বিঘা জমির এই আম বাগানে কাজ করার জন্য কর্মচারী থাকলেও, পাহারাদার হিসেবে এই দুই চতুষ্পদ প্রাণীর ওপরই শতভাগ ভরসা বাগান মালিকের।

তার মেয়ের সঙ্গী হয়ে তাকে স্কুলে পৌঁছে দেওয়া কিংবা বিকেলে খেলাধুলা সবখানেই আছে এই দুই বিশ্বস্ত সঙ্গী। এই দুইটি কুকুর থাকায় পাহারাদারের বাড়তি খরচই বেঁচে যাচ্ছে। এদের হিংস্রতা কমাতে মাঝে মাঝে সেদ্ধ মাংস দেওয়া হয়। চিকিৎসকের পরামর্শে নিয়মিত টিকাসহ সব ধরনের যত্নও নেওয়া হয় তাদের।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বাগানে ঢুকতে গেলে আগে এই কুকুর দুটির বাধার মুখে পড়তে হয়। পরিবারের কেউ আসলে তারপরই কেবল ভেতরে ঢোকা যায়। চতুষ্পদ এই প্রাণীর এমন রাজকীয় বিশ্বস্ততায় মুগ্ধ প্রতিবেশীরাও।

নওগাঁ জেলা প্রাণিসম্পদ ভেটেরিনারি অফিসার ডা. সাইফুল ইসলাম বলেন, একসময় কুকুর পালন শহরকেন্দ্রিক ও শৌখিনতার বিষয় হলেও এখন গ্রামীণ অর্থনীতি ও সুরক্ষায় মানুষ কুকুর পালন করছে। বাৎসরিক জলাতঙ্ক টিকা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিলে এদের মাধ্যমে মানুষের কোনো ক্ষতির সম্ভাবনা নেই।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/175861