চট্টগ্রামে বন্যার পানিতে ডুবে শিশুসহ নিহত ৫, নিখোঁজ ১
চট্টগ্রামে বন্যার পানিতে ডুবে শিশুসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন মো. সোলায়মান (২০) নামে আরও একজন। কর্ণফুলী নদী থেকে ভাসমান কাঠ সংগ্রহ করতে গিয়ে তিনি নিখোঁজ হন।
আজ শনিবার (১১ জুলাই) সকাল ৯টার দিকে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পূর্ব সরফভাটা এলাকায় নদীতে ডিঙি নৌকা উল্টে এই ঘটনা ঘটে।
একই ঘটনায় সোলায়মানের বড় ভাই আবদুল হালিমও (৩০) নদীতে পড়ে যান। পরে তিনি কোনোরকমে কূলে উঠে আসেন। তারা দুজন পূর্ব সরফভাটা লোকমান মিস্ত্রি বাড়ির বদিউল আলমের ছেলে।
ফায়ার সার্ভিসের আগ্রাবাদ নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে জানানো হয়, সকালে দুই ভাই নৌকায় করে কর্ণফুলী নদীতে যান। তারা বন্যার পানিতে ভেসে আসা কাঠ সংগ্রহ করছিলেন। একপর্যায়ে তীব্র স্রোতে নৌকাটি উল্টে যায়। দুজন নদীতে পড়ে যান। এ সময় আশপাশে থাকা অন্য লাকড়ি সংগ্রহকারীরা আব্দুল হালিমকে উদ্ধার করে কূলে তোলেন। ছোট ভাই সোলায়মান প্রবল স্রোতে তলিয়ে যান।
রাঙ্গুনিয়া ফায়ার সার্ভিস জানায়, সকালে খবর পেয়ে রাঙ্গুনিয়া ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। কিন্তু তীব্র স্রোতের কারণে উদ্ধার অভিযান পরে বন্ধ রাখতে হয়। আগ্রাবাদ ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে গেলেও উদ্ধারকাজ চালানো সম্ভব হচ্ছে না।
এছাড়া চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের দক্ষিণ পরুয়াপাড়া গ্রামে সাগরে ভেসে আসা এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তার নাম-পরিচয় এখনো পুলিশ জানতে পারেনি। বয়স প্রায় ৪৫ বছর।
শনিবার সকালে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান আনোয়ারা থানার ওসি জুনায়েত চৌধুরী। তিনি বলেন, জোয়ারের পানিতে ভেসে আসা মরদেহটি সাগরে বেড়িবাঁধের ব্লকে আটকে ছিল। স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে উদ্ধারের পর মরদেহের সুরতহাল করা হয়েছে।
ওসি বলেন, আমাদের ধারণা, প্রবল বর্ষণের মধ্যে কোথাও পানিতে তলিয়ে কিংবা সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে তার মৃত্যু হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এছাড়া বন্যাকবলিত চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় পানিতে ডুবে এক শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। শুক্রবার রাতে সাতকানিয়া পৌরসভার দক্ষিণ রূপকানিয়া গ্রামে দুই বছর বয়সি ইসমাইল হোসেন পানিতে ডুবে মারা যান।
স্থানীয়দের বরাতে সাতকানিয়া ইউএনও খোন্দকার মাহমুদুল হাসান জানান, সন্ধ্যা ৭টার দিকে পরিবারের সদস্যদের অগোচরে ঘর থেকে বেরিয়ে জমে থাকা বন্যার পানিতে ডুবে শিশুটির মৃত্যু হয়। শিশুটিকে পানি থেকে তুলে সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়েছিল। চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সাতকানিয়ায় এ পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যু ও একজন নিখোঁজ আছে বলে জানালেন ইউএনও মাহমুদুল হাসান।
এর আগে শুক্রবার বিকালে বাঁশখালী উপজেলার সরল ইউনিয়নে বানের পানিতে তলিয়ে যাওয়া রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময় পা পিছলে পড়ে এক কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে।
বাঁশখালী ফায়ার সার্ভিসের একটি দল প্রায় ৪ ঘণ্টা নিখোঁজ থাকার পর শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে। ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত শিশুর নাম মোছাম্মৎ তাহিন নুর (১২)। সে সরল ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম জালিয়াঘাটা এলাকার আব্দুল করিমের মেয়ে।
বাঁশখালী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন জানায়, শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে তাহিন নুর জালিয়াঘাটা এলাকায় বন্যার পানিতে ডুবে থাকা একটি রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিল। এ সময় পানির স্রোতে হঠাৎ পা পিছলে সে খাদে পড়ে তলিয়ে যায়।
তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় লোকজন চারদিকে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরে বিকাল ৪টা ২৫ মিনিটে ফায়ার স্টেশনে খবর দেওয়া হলে স্টেশন অফিসার মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে একটি উদ্ধারকারী ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
বিকাল থেকে টানা অভিযান চালিয়ে সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটের দিকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তাহিন নুরের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধির উপস্থিতিতে মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
উদ্ধার অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে বাঁশখালী ফায়ার স্টেশন অফিসার মিজানুর রহমান বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই আমাদের ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে নিখোঁজ শিশুটিকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে। বন্যার পানিতে রাস্তাঘাট ডুবে থাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।
তাহিন নুরের মৃত্যুর আগে শুক্রবার দুপুরে উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নে বানের পানির স্রোতে ভেসে গিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাহারছড়ার ইলশা গ্রামের ওমানপ্রবাসী কামাল উদ্দিনের ছেলে মো. আশিক (১১) আশ্রয়কেন্দ্র থেকে বাড়ি ফেরার পথে পানির প্রবল স্রোতে ভেসে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে মৃত ঘোষণা করা হয়।
একই ইউনিয়নের রত্নপুর গ্রামে অন্য শিশুদের সঙ্গে বন্যার পানি দেখতে গিয়ে স্রোতের তোড়ে ভেসে যায় উনদুনী বর বাড়ির মো. আনোয়ারের ৫ বছর বয়সি ছেলে মো. মিরাজ। পরে স্থানীয়রা তার মরদেহ উদ্ধার করে।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/175850