বগুড়ার ধুনটে স্কুলছাত্রী ধর্ষণ মামলা নিয়ে ফেসবুকে বিরুপ মন্তব্য, শিক্ষকের বিরুদ্ধে জিডি

বগুড়ার ধুনটে স্কুলছাত্রী ধর্ষণ মামলা নিয়ে ফেসবুকে বিরুপ মন্তব্য, শিক্ষকের বিরুদ্ধে জিডি

ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি : বগুড়ার ধুনট থানার সাবেক ওসি কৃপা সিন্ধু বালা ও প্রভাষক মুরাদ্দুজামান মুকুলের বিরুদ্ধে স্কুলছাত্রী ধর্ষণ ও আলামত নষ্টের অভিযোগে করা মামলাটি আদালতের বিচারাধীন রয়েছে। মামলাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার উদ্দেশ্যে ফেসবুকে বিরুপ মন্তব্য করেছেন কলেজ শিক্ষক লতিফুল কবির হিমেল। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীর বাবা বাদি হয়ে কলেজ শিক্ষক হিমেলের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ধুনট পৌর এলাকার অফিসার পাড়ার কলেজ শিক্ষক দম্পতির স্কুলপড়ুয়া মেয়েকে ২০২২ সালের ১২ এপ্রিল ধর্ষণ ও সেই দৃশ্য নিজের মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করে মুরাদুজ্জামান। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীর মা বাদি হয়ে ২০২২ সালের ১২ মে ধুনট থানায় মুরাদুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব নেন ধুনট থানার তৎকালীন ওসি কৃপা সিন্ধু বালা।

ওই মামলায় মুরাদুজ্জামানকে গ্রেফতারকালে জব্দকৃত মুঠোফোনে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের ভিডিও ধারণের প্রমাণ পায় পুলিশ। কিন্তু মামলা তদন্তকালে ওসি কৃপা সিন্ধু বালা আসামির কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে জব্দকৃত মুঠোফোন থেকে ধর্ষণের ভিডিওসহ বেশকিছু আলামত নষ্ট করে।

বিষয়টি বুঝতে পেরে পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন দপ্তরে ওসি কৃপা সিন্ধু বালার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন মামলার বাদি। দীর্ঘদিন তদন্ত শেষে ধর্ষণ মামলার এজাহারনামীয় আসামি মুরাদুজ্জামানের বিরুদ্ধে চার্জশিট এবং মামলার আলামত নষ্ট করার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় কৃপা সিন্ধু বালার বিরুদ্ধে আদালতে সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। বর্তমানে মামলাটি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

এ অবস্থায় চালিতাডাঙ্গা মহিলা কলেজের শিক্ষক রঘুনাথপুর গ্রামের লতিফুল কবির হিমেল ৮ জুলাই সহকারী অধ্যাপক হিমেল নামে নিজের ফেসবুক আইডিতে ওই ধর্ষণ মামলা নিয়ে বিরুপ মন্তব্য করেন। এতে ন্যায় বিচার পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীর বাবা। এ ঘটনায় ১০ জুলাই স্কুলছাত্রীর বাবা বাদি হয়ে লতিফুল কবির হিমেলের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীর বাবা বলেন, লতিফুল কবির হিমেলের সঙ্গে আমার রক্তের কিংবা আত্মীয়তার সম্পর্ক নেই। তারপরও আমাকে ছোট ভাই পরিচয় দিয়ে ধর্ষণ মামলা নিয়ে ভুল তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে ফেসবুকে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। আমি ও আমার পরিবারকে হেয় করা হয়েছে। আদালতে বিচারাধীন মামলাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছেন হিমেল। মামলাটি ন্যায় বিচারের স্বার্থে হিমেলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।

এ বিষয়ে লতিফুল কবির হিমেল বলেন, থানায় অভিযোগের বিষয়টি জানা নেই। আর আব্দুল লতিফ আমার ভাই হয় না। ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম বলেন, অভিযোগটি সাধারণ ডায়েরি হিসেবে রেকর্ড করে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ অভিযোগের সত্যতার প্রমাণ পেলে লতিফুল কবির হিমেলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/175837