চাঁদপুরে যুবককে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ, পা হারানোর শঙ্কা

চাঁদপুরে যুবককে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ, পা হারানোর শঙ্কা

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার একলাছপুর ইউনিয়নের চরকাশিম গ্রামে মাসুম বকাউল (২৫) নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। হামলায় তার দুই পাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়েছে। বর্তমানে তিনি ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (নিটোর) চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

গতকাল শুক্রবার (১০ জুলাই) রাত আটটার দিকে একলাছপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চরকাশিম গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় একই গ্রামের শিপন খান, তার ছেলে শামীম খান এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৭-৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে মাসুম বকাউলের ওপর ধারালো দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একদল ব্যক্তি হামলা চালায়। হামলায় তার দুই পাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে প্রথমে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার নিটোরে পাঠানো হয়।

পরিবারের দাবি, চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, অস্ত্রোপচারের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে তার একটি বা উভয় পা অক্ষত রাখা সম্ভব হবে কি না।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, প্রায় দুই থেকে চার বছর আগে মাসুম বকাউলের সঙ্গে অভিযুক্তদের বিরোধের সূত্রপাত হয়। পরে তিনি জীবিকার তাগিদে বিদেশে চলে যান। কয়েক দিন আগে দেশে ফেরার পর শুক্রবার রাতে বাড়ি ফেরার পথে পূর্ববিরোধের জেরে তার ওপর হামলা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ। তবে ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

স্থানীয় বিএনপির নেতা গফুর বাদশা অভিযোগ করেন, মাসুম বকাউল বিএনপির একজন কর্মী। জেলা বিএনপির সদস্য ও বিসিবির পরিচালক সরকার মাহাবুব আহমেদ শামীমের ব্যানার লাগানোকে কেন্দ্র করে অভিযুক্তদের সঙ্গে তার বিরোধ সৃষ্টি হয়। পরে বাড়ি ফেরার পথে পরিকল্পিতভাবে তার ওপর হামলা চালানো হয়।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, অভিযুক্তরা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গেও সম্পৃক্ত। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার পর তারা এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন।

আহতের বাবা জামাল বকাউল বলেন, বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে তার ছেলেকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, অস্ত্রোপচারের পরই তাঁর পা রাখা সম্ভব হবে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে। তিনি হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল হাসান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এখন পর্যন্ত আহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে পুলিশ কাজ করছে।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/175808