টানা তিন দিনের বর্ষণে বগুড়ার শেরপুরে ভাঙনের কবলে ফসলি জমি
শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি : টানা তিন দিনের ভারী বর্ষণে শেরপুর উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামে ভাঙন দেখা দিয়েছে। মির্জাপুর ও শাহ-বন্দেগী ইউনিয়নের অন্তত ১০টি গ্রামের বৃষ্টির পানি বিশ্বরোড সংলগ্ন ড্রেন দিয়ে প্রবল স্রোতে কৃষ্ণপুর গ্রামের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে করতোয়া নদীতে যাওয়ায় ফসলি জমি, বসতভিটা ও বিদ্যুতের খুঁটি হুমকির মুখে পড়েছে। ইতোমধ্যে পানির তীব্র স্রোতে কৃষিজমি ভাঙতে শুরু করেছে এবং ভাঙনের কবলে পড়েছে দুটি বিদ্যুতের খুঁটি। নিরাপত্তার স্বার্থে ওই এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগও বন্ধ রাখা হয়েছে।
আজ শুক্রবার (১০ জুলাই)র দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিশ্বরোডের ড্রেন দিয়ে প্রবাহিত পানির স্রোতে কৃষ্ণপুর গ্রামের পাশের ফসলি জমিতে ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। ভাঙন অব্যাহত থাকায় কৃষক ও এলাকাবাসীর মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, মদনপুর, কৃষ্ণপুর, যমুনাপাড়া, আন্দীকুমড়া, বাগমারা, হাতিগাড়া, কানাইকান্দর, ফুলতলাসহ দুই ইউনিয়নের অন্তত ১০টি গ্রামের বৃষ্টির পানি একমাত্র এই এলাকা দিয়ে প্রবাহিত হয়ে করতোয়া নদীতে গিয়ে পড়ছে। ফলে পানির চাপ কয়েকগুণ বেড়ে গিয়ে এই ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক সাইদুল ইসলাম বলেন, প্রতি বছরের মতো এবারও ভারী বৃষ্টির ফলে পানির চাপে তার কৃষিজমি ভাঙতে শুরু করেছে। কৃষক খোকন চন্দ্র রায় জানান, তার ফসলি জমি এখন চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। শহিদুল ইসলাম বলেন, তার জমিসহ বসতভিটা ভাঙনের কবলে পড়েছে। এছাড়া কৃষক শাহিন সেখ ও শাহ আলীর জমিতেও ভাঙন শুরু হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে দুই ইউনিয়নের পানি একই ড্রেন দিয়ে প্রবাহিত হলেও পানি নিষ্কাশনের কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে প্রতি বর্ষা মৌসুমে কৃষিজমি ও বসতভিটা ভাঙনের শিকার হচ্ছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে আরও বিস্তীর্ণ এলাকা নদীভাঙনের মতো ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা তাদের।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আখতার হোসেন বলেন, সমস্যাটি দীর্ঘদিনের। বিষয়টি একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। স্থায়ী সমাধানের জন্য তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এবং দ্রুত ভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইদুজ্জামান হিমু বলেন, ভাঙনের বিষয়টি জেনেছি। দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ক্ষতিগ্রস্তদের দুর্ভোগ কমাতে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি স্থায়ী সমাধানের বিষয়েও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/175749