বগুড়ায় বৃষ্টি বিরতি থাকলেও অনেক সড়কের পানি নামেনি
স্টাফ রিপোর্টার : গত কয়েকদিনের চলমান বৃষ্টিতে নাজেহাল হয়ে পড়েছেন মহানগরবাসী। আজ শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল থেকে বগুড়ায় বৃষ্টি বিরতি থাকলেও বাতাসে বেশি আদ্রতার জন্য গুমোট ও ভ্যাপসা গরম অনুভ’ত হচ্ছে। সেই সাথে দুর্বল ড্রেনেজ ব্যবস্থার জন্য শহরের বেশকিছু এলাকায় এখনও রাস্তায় পানি আছে। যা সেই এলাকার জনজীবনে দুর্ভোগ সৃষ্টি করেছে।
গত বুধবার সকাল ৬ টা থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ২টা পর্যন্ত বগুড়ায় ১৩৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত মৌসুমের সর্বোচ্চ এই বৃষ্টিপাতে বগুড়া মহানগরের বেশিরবাগ এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়।
এরমধ্যে সাতমাথা, নিউমার্কেট, গোহাইল রোড, সেউজগাড়ি, সবুজবাগ, মালতিনগর, বড়গোলা, কৈগাড়িসহ শহরের প্রধান সড়কসহ অলি-গলিতে কোথাও হাটু পানি কোথাও ড্রেনের পানি ছাপিয়ে বাড়ি ঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করায় চরম দুর্ভোগে পড়েন মহানগর বাসী। এতে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে।
আজ শুক্রবার (১০ জুলাই) সরকারি ছুটির দিন হওযায় শহরে মানুষের আনাগোনা কম ছিল। সকাল থেকেই আকাশ মুখ ভার করে ছিল। এরপর বেলা ১২টার দিকে আকাশ ঝলমল করে সূর্যের দেখা মেলে। এরপর আবারও আকাশ কালো হয়ে আসে। মানুষের মধ্যে গত দিনের বৃষ্টির অভিজ্ঞতার কথা মাথায় নিয়ে অনেকে তরিঘরি করে বাসায় ফেরার চিন্তা করেন। সারাদিনে শহরের অনেক এলাকার রাস্তাগুলো থেকে পানি নেমে গেলেও রাস্তায় ছিপছিপে কাদা ও ময়লা পানিতে চলাচল ব্যাহত হয়।
এর মধ্যে শহরের সবুজ বাগ এলাকার রাস্তার পানি আজ শুক্রবার (১০ জুলাই) সন্ধ্যার আগ পর্যন্ত নেমে যায়নি। আর এতে সেই এলাকার মানুষের ভোগান্তিও ছিল চরমে। স্থানীয়দের দাবি এই এলাকার মানুষের জনদুর্ভোগ বর্ষাকালে চরমে ওঠে। সামান্য বৃষ্টিতেও রাস্তা ডুবে যায়। বাসাবাড়িতে পানি প্রবেশ করে। ভাড়াটিয়া থাকে না। বৃষ্টি না থাকলেও জলাবদ্ধ হয়ে থাকে সড়কটি।
তারা অভিযোগ করে বলেন, প্রতি বর্ষা মৌসুমেই একই ধরনের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঘটলেও কার্যকর ও স্থায়ী সমাধানে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার, অবৈধভাবে বর্জ্য ফেলা বন্ধ এবং আধুনিক ও পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন তারা। প্রাকৃতিক এই দুর্যোগের কারণে শহরে জলাবদ্ধতা দূর করতে এরই মধ্যে সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ মাঠে কাজ শুরু করেছেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে সাতমাথায় আটকে থাকা পানি অপসারণের জন্য এক্সেভেটর দিয়ে পুরাতন ড্রেন ভেঙে নতুন ড্রেন কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। নতুন ড্রেনটি সাতমাথার জিলা স্কুলের সামনে দিয়ে সার্কিট হাউজের পাশ দিয়ে বড় রাস্তা ক্রস করে, পুলিশ প্লাজার সামনে দিয়ে নবাববাড়ী সড়ক ক্রস হয়ে করতোয়া নদীতে গিয়ে পড়বে।
উদ্বোধন কালে এম আর ইসলাম স্বাধীন বলেন, সাতমাথা থেকে করতোয়া নদীতে পানি প্রবাহিত হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। সাতমাথা থেকে ড্রেনগুলো খুলে দেখা গেছে, খুবই খারাপ অবস্থা। ময়লা-আবর্জনা দিয়ে ড্রেনগুলোর মুখ বন্ধ হয়ে আছে। তিনি আরও বলেন, আমাদের একটু সময় দেন, আমরা খুব শিগ্গরই জলাবদ্ধতা থেকে নগরবাসীকে মুক্তি দিতে পারবো। এ ব্যাপারে তিনি সিটিবাসীর সহযোগিতা কামনা করেছেন।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/175733